রাজশাহী-২ আসনে ১৪ দলের প্রার্থী পরিবর্তন চায় শরিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-২ সদর আসনে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোর জোট থেকে কে হবেন সংসদ সদস্য প্রার্থী- এ নিয়ে চলছে চুলচেরা হিসাব-নিকাশ, বিচার বিশ্লেষণ। জোটের শরিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা নিজ নিজ দলের প্রার্থীকে বিভাগীয় সদরের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। আর বর্তমান সংসদ সদস্য বলছেন, জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হলে তাকেই মনোনয়ন দিতে হবে। তা না হলে তার দল ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচন করবে কি না, তা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করবে।

বিভাগীয় সদরের গুরুত্বপূর্ণ আসন রাজশাহী-২-এ কে হবেন আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলোর সংসদ সদস্য প্রার্থী; রাজশাহীতে এই আলোচনা এখন তুঙ্গে। জোটের শরিক দলগুলোর স্থানীয় নেতারা নিজ নিজ দলের প্রার্থীকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান। তাদের দাবি, বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ফজলে হোসেন বাদশা নির্বাচিত হওয়ার পর কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি। জনসাধারণ থেকেও তিনি বিচ্ছিন্ন। ফলে জোটের প্রার্থী হিসেবে তাকে আর কেউ চান না।

রাজশাহী মহানগর জাতীয় পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মিন্টু বলেন, ‘১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা আমাদের সমর্থনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর শরিকদের কোনো খোঁজ রাখেননি। জনসাধারণের সঙ্গেও তার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি একজন জনবিচ্ছিন্ন নেতা। এবার তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে ফলাফলে ভরাডুবি ঘটবে। আমরা চাই জোটের পক্ষ থেকে এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে এ আসনে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হোক। যদি জোটবদ্ধ নির্বাচন হয় সে ক্ষেত্রে আমরা ফজলে হোসেন বাদশার পরিবর্তে জাতীয় পার্টি পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানাব।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক নেতা রায়হানুল হকের কণ্ঠেও একই সুর। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। এ জন্য আমি নিজেও মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছি। স্বতন্ত্র নির্বাচন করব।’

জাসদের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলী বলেন, ‘জাসদের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি। যদি জোটবদ্ধ নির্বাচন হয় তাহলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। আর তা না হলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ আলী কামাল বলেন, ‘এ আসন কারও নামে রেজিস্ট্রি করা নেই। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কোনো খোঁজখবর রাখেননি। দলীয় সংসদ সদস্য না থাকায় সাংগঠনিকভাবেও দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এবার আমি নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত করব।’

তবে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সংসদ সদস্য ফলজে হোসেন বাদশার দাবি, এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। কারণ বিএনপি জামায়াতের অগ্নি-সন্ত্রাসের মতো দিনগুলোতেও তিনি জোটের প্রার্থী হয়ে এখানে নির্বাচন করেছেন। আর জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন না হলে তার দল ওয়ার্কার্স পার্টি নির্বাচনে করবেন কি না, তা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে।’

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হলে অন্য প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। তবে রাজশাহী-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকেই রাখার চিন্তা-ভাবনা চলছে। কেননা বিভাগীয় সদর আসন হওয়ায় এটির গুরুত্ব অনেক বেশি।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, ‘অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে ১৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছে।’ রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক বলেন, ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্বাচনে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’

রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ১৩ জনসহ জেলার ৬টি আসনে মোট ৫৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এবার ৬টি সংসদীয় আসনে ২১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন