| কোট-টাই পরিহিত ব্যক্তি নিজেকে ভোক্তা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পরিচয় দিয়ে তিন সঙ্গীসহ প্রতারণা করছিলেন। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে। রোববার দুপুরে পাবনার বেড়া পৌর শহরে। |
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার বেড়ায় জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আজ রোববার চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। ওই প্রতারক চক্রের সদস্যরা ভুয়া পরিচয় দিয়ে স্থানীয় কয়েকটি রেস্তোরাঁ-দোকানে অভিযান তো চালিয়েছেনই, অভিযানের আগে খোদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে ভুয়া পরিচয় দিয়ে পুলিশ চেয়ে আবেদনও করেন। ওসি তাঁদের কথা বিশ্বাস করে অভিযানের জন্য পুলিশও সঙ্গে দিয়ে দেন। পরে অবশ্য তাঁরা ধরা পড়েন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন আবির হোসেন ওরফে মিম (২৯), মেহেদী হাসান ওরফে সেতু (২৭), আজিজুল হক (২৫) ও আবুল কাশেম (৩০)। এর মধ্যে আবির হোসেন জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং মেহেদী হাসান ও আজিজুল হক একই অধিদপ্তরের অফিস সহকারী পরিচয় দেন। আবুল কাশেম তাঁদের গাড়ির চালক। পরে জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
বেড়া থানা-পুলিশ ও ভুক্তভোগী রেস্তোরাঁ-দোকানমালিকদের সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১১টার দিকে আবির হোসেন জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক পরিচয় দিয়ে তিন সঙ্গীসহ বেড়া থানায় উপস্থিত হন। তাঁরা বেড়া থানার ওসি অরবিন্দ সরকারের সঙ্গে দেখা করে বাজার মনিটরিং করার জন্য পুলিশ রিকুইজিশন চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। ওসি আবেদনপত্র রেখে চারজন পুলিশ তাঁদের সঙ্গে দেন। পুলিশ সঙ্গে নিয়ে বেড়া বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণের নামে অভিযান চালাতে থাকেন প্রতারকেরা। এ সময় তাঁরা গোধূলি সুইটস অ্যান্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং শাপলা-শালুক রেস্টুরেন্ট থেকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ ছাড়া অন্যান্য দোকানেও জরিমানা আদায়ের চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু তাঁদের কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হলে তাঁরা বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক ও বেড়া থানার ওসিকে জানান।
থানায় জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা বলেন, তাঁরা ঢাকায় একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। এর মধ্যে আবির হোসেনের বাড়ি বগুড়ার গাবতলীতে, মেহেদী হাসানের বাড়ি শাহজাদপুরের দাড়িয়াপুর এবং আজিজুল হকের বাড়ি একই উপজেলার শেরখালি মহল্লায়। ভোক্তা–অধিকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন। আজ তাঁরা বেড়া পৌর এলাকায় প্রতারণা করতে আসার সময় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা থেকে আবুল কাশেমের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাড়া করেন। ওই গাড়িতে ভোক্তা–অধিকার অধিদপ্তরের স্টিকার সেঁটে দেন তাঁরা।
বেড়া মডেল থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, ‘পুলিশ রিকুইজিশন চেয়ে আবেদন করায় আমি প্রথমে পুলিশ দিলেও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে থাকি। পরে সন্দেহ হলে আমি নিজে গিয়ে তাঁদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
জাতীয় ভোক্তা–অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জহিরুল হক বেড়া থানায় গিয়ে প্রতারকদের ভুয়া বলে শনাক্ত করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘ওদের সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা সবাই প্রতারক চক্রের সদস্য। আমাদের নাম ভাঙিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে এরা প্রতারণা করে আসছিল।’
