আইএলও সম্মেলনে শিমুল বিশ্বাস: ‘এআই যেন মানব মর্যাদা ক্ষুণ্ন ও বৈষম্য তৈরি না করে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগের কর্মসংস্থান-সংকট এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয় তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের শ্রমিক প্রতিনিধি ও পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি গত ৩০ মে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। ৩১ মে শুরু হওয়া এই সম্মেলন ১২ জুন পর্যন্ত চলে। ৮ জুন জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরের টেম্পাস হলে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশের শ্রমিক সমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শুরুতে শিমুল বিশ্বাস আইএলওর মূলনীতি ও আদর্শের প্রতি বাংলাদেশের শ্রমিকদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন শ্রমিক নেতা হিসেবে জনগণের ভোটে তাঁর নির্বাচিত হওয়া শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। তিনি শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং যৌথ দর-কষাকষির অধিকারকে একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের প্রসঙ্গ তুলে শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে নারী কর্মসংস্থান হ্রাস, যুব বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ অভ্যন্তরীণ কর্মশক্তি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ অভিবাসী শ্রমিকের কথা উল্লেখ করে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সুরক্ষায় বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়, যা মানব মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বা সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়।’

প্ল্যাটফর্মভিত্তিক অর্থনীতিতে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আইএলওর প্রস্তাবিত কনভেনশনকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি দুটি মৌলিক কনভেনশনসহ আইএলওর তিনটি কনভেনশন অনুমোদন করেছে। দেশে বর্তমানে শ্রম আইন সংস্কার, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সংলাপ আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও টেকসই কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন