ভালুকায় দুই পা বিচ্ছিন্ন করার মামলায় তিনজনের রিমান্ড মঞ্জুর

আদালত। প্রতীকী ছবি
 
নিজস্ব প্রতিবেদন: ময়মনসিংহের ভালুকায় কুপিয়ে কারখানামালিকের দুই পা বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আরেক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার আদালতে এই চারজনের মামলার শুনানি হয়। এ ছাড়া রোববার শুনানি শেষে অন্য তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন একই আদালত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানামালিকের ছেলে বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ ৮ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যাচেষ্টাসহ আরও কয়েকটি ধারায় ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেন। এর আগে এ ঘটনায় পুলিশের হাতে আটক এক নারীসহ তিনজনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুজনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। কিন্তু ওই দিন আদালতে তাঁদের শুনানি হয়নি। রোববার শুনানি শেষে রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

আর র‌্যাবের হাতে আটক প্রধান আসামিসহ চারজনকে শুক্রবার বিকেলে ভালুকা মডেল থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে শনিবার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত শুনানি শেষে তিনজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর মামলার প্রধান আসামি জসিম উদ্দিন পাঠান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মাসুম মোল্লাহ (৫০), রুহুল আমিন পাঠান (৪০) ও ইকবাল পাঠান (৩৮)। আর কারাগারে রয়েছেন জসিম উদ্দিন পাঠান (৫৫), রাফিকুল ইসলাম মুন্সী (৫৫), মোমিনুল ইসলাম (৩৫) ও শিরীন আক্তার(৪০)। তাঁদের সবার বাড়ি ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধামশুর মৌজার ধোবাজানের খাল ভরাট ও স্থানীয় জসিম উদ্দিন পাঠান গংয়ের সঙ্গে কাঁঠালী গ্রামের আর্টি কম্পোজিট ডায়িং কারখানার মালিক আবদুর রাজ্জাকের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে দুই পক্ষের মামলা চলছে। বুধবার সকালে খাল ভরাট করে কারখানার বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ। এতে কয়েকজন বাধা দেন।

একপর্যায়ে স্থানীয় জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে রুহুল আমিন, ইকবালসহ আরও কয়েকজন আবদুর রাজ্জাকের ওপর হামলা করেন। ওই সময় জসিম পাঠানের দায়ের কোপে আবদুর রাজ্জাকের এক পা বিচ্ছিন্ন হয়। আরেক পা ঝুলতে থাকে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় এজাহারভুক্ত ১০ জনের মধ্যে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালত তিনজনের তিন করে রিমান্ড মঞ্জুর এবং বাকি তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন