সম্মেলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সম্মেলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১৭ বছর পর ঈশ্বরদীতে বিএনপির সম্মেলন, নতুন সভাপতি রেজাউল, সম্পাদক জাকারিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পৌর শহরের আলোবাগ মাঠে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় ও দলীয় পতাকা তুলে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও বিশেষ অতিথি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ।

পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাহিদ উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইমরুল কায়েস সুমন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ বিন পার্থিব, সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বহিষ্কৃত নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে এবার নিজেরাই কমিটি ঘোষণা করেছে, যা হাস্যকর। সন্ত্রাসী ও মাস্তানি করে তারেক রহমানের বিএনপি করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, যারা বহিষ্কৃত হয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের আর দলে ফেরার সুযোগ নেই।

জামায়াত নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন তাঁরা আর এই সরকারকে সমর্থন করবেন না। এত অল্প সময়ে অস্থির না হয়ে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত।

সম্মেলনের শেষ পর্বে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ। নতুন কমিটিতে রেজাউল করিম সভাপতি ও এ এস জাকারিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

ঈশ্বরদীতে শিক্ষক সমিতির সম্মেলন: সভাপতি স্বপন, সম্পাদক মোক্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ) ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সাইফ উদ্দিন স্বপন সভাপতি এবং মো. মোক্তার হোসেন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার শহরের আরআরপি কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিটিএ ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আনিসুর রহমান। শিক্ষক সমাজের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দিনভর এ আয়োজন ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।

সম্মেলনের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিটিএর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শামীম আল মামুন।


পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষকেরা জাতি গঠনে মূল ভূমিকা রাখছেন। ১৯২১ সালে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি গঠিত হওয়ার পর ১৯৫০ সালে ঈশ্বরদীতে এর প্রথম শাখা কমিটি গঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটি শিক্ষা ও শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষকেরা মানুষ গড়ার কারিগর হলেও ঐতিহাসিকভাবে তাঁরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। শিক্ষকদের প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিএনপি সব সময়ই শিক্ষকবান্ধব নীতিতে বিশ্বাসী।

আবু তালেব মণ্ডল বলেন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সংগঠনের ভূমিকা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক সমাজকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। 

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিটিএ কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মীর মনিরুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক শিমুল মহাজন, পাবনা জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ভাষা প্রামাণিক এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন।

ঈশ্বরদীতে মৌচাষীদের সম্মেলন, ১৬ জেলা থেকে উপস্থিত চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীর অভিজাত আরআরপি কমিউনিটি সেন্টারে উত্তরবঙ্গ মৌ–চাষী সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে ১৬ জেলার মৌচাষীরা এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ডক্টর কবির উদ্দিন আহমেদ।

কীটতত্ত্ব বিভাগ, শের–ই–বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা)   ড. আতাউর রহমান, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আতিকুল ইসলাম,  মৌমাছি পালন প্রকল্পের প্রাক্তন প্রকল্প পরিচালক জগদীশ চন্দ্র সাহা এবং বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক  আব্দুল্লাহ আল মামুন। 

এছাড়া বক্তব্য দেন উত্তরবঙ্গ মৌ–চাষী সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক শিশির কুমার সাহা এবং ঘরের বাজার হানিরাজ কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন। কোরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ জয়নাল আবেদীন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মৌচাষী মো. ওয়াজেদ আলী চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, মৌ–চাষ লাভজনক পেশা। দেশে মধুর চাহিদা অনেক বেশি। প্রতিটি খাঁচায় থাকে একটি রানী মৌমাছি। মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে খাঁচায় জমা করে, এরপর চাষিরা তা সংরক্ষণ করেন। মধু প্রাকৃতিক খাবার এবং বাজারে কেজি–প্রতি চার–পাঁচশ টাকা দরে বিক্রি হয়। সরিষা ক্ষেতে মৌ–খামার থাকলে পরাগায়নের ফলে ফলনও বাড়ে। ফলে কৃষকেরা বেশি সরিষা চাষে উৎসাহী হন। দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা বেশি, তাই সরিষার ফলন বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কিছুটা কমে। বক্তারা বলেন, আধুনিকভাবে কৃত্রিম মৌ–রানী তৈরি প্রযুক্তি চালু করতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ২০ বছর ধরে পরিশ্রম করে মৌ–চাষিরা এই সংগঠন ধরে রেখেছেন। দেশে এখনো সম্পূর্ণভাবে মৌ–খামারভিত্তিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। আশির দশকের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এখন প্রয়োজন দক্ষতা ও আধুনিক পদ্ধতি। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত নীতিমালা সম্পর্কে চাষীদের জানা জরুরি। নিরাপদ খাবার উৎপাদনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভালো মানের মধু উৎপাদন এবং মৌস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন মৌ–চাষী তৈরিও জরুরি। দেশে যত বেশি চাষী বাড়বে, তত বেশি মধু উৎপাদন সম্ভব। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করলে বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করা যাবে।

ঈশ্বরদীর সতীর্থ থিয়েটারের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন সতীর্থ থিয়েটারের অষ্টম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

"মুক্ত করো গো সকল ঈর্ষা, যুক্ত করো গো প্রেম" এই প্রতিপাদ্যে শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সতীর্থ থিয়েটারের সভাপতি আতাউর রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত। 

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ ও বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি  উপাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন।

সভা সঞ্চালনা করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক শরিফুল ইসলাম। পরে সম্মলনে ২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য সতীর্থ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা এম রাশেদুল আওয়াল রিজভীকে সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন মিন্টুকে সহ-সভাপতি,  শরিফুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক, হারুন অর রশিদকে কোষাধক্ষ্য  ও নূর উদ্দীন রাজনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। 

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোয়াজ্জেম হোসেন মিন্টু, সতীর্থ থিয়েটারের সভাপতি আতাউর রহমান বাবলু ও  সাধারণ সম্পাদক এম রাশেদুল আওয়াল রিজভি।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সতীর্থ থিয়েটার দেশের সংস্কৃতির বিকাশে ও বাঙালির চিরায়ত লোকসংস্কৃতির প্রশারে দেশব্যাপী শক্তিশালী সাংস্কৃতিক জাগরণের জন্য কাজ করছে। তারা বলেন,দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি কে ব্যাহত করতে ও অপরাজনীতি চালিয়ে যেতে যত চেষ্টাই করা হোক না কেনো সাংস্কৃতিক জাগরণের মধ্য দিয়ে সকল অপশক্তি কে মোকাবিলা করা হবে।বক্তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মানে সতীর্থ  থিয়েটার আন্দোলনকে আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন