রাশিয়া-ইউক্রেন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাশিয়া-ইউক্রেন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ইউক্রেনের গোলাবর্ষণে রাশিয়ায় ২১ জন নিহত

আন্তর্জাতিক ডেক্স: ইউক্রেনের গোলাবর্ষণে রাশিয়ার সীমান্ত নগরী বেলগোরোদে তিন শিশুসহ ২১ জন নিহত ও ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ক্ষতি হয়েছে। রোববার বেলগোরোদের গভর্ণর ভ্যাচেস্লাভ গ্ল্যাাডকভ এ কথা জানিয়েছেন। খবর এএফপির।

গ্ল্যাডকভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘বেলগোরোদ অঞ্চলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় ১৭ শিশুসহ ১১০ জন আহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্র ও শনিবার ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী বেলগোরোদ ও এর বিভিন্ন অঞ্চলে গোলাবর্ষণ করেছে। এ সময়ে ক্লাস্টার বোমাও ব্যবহার করা হয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শনিবার রকেট ও বেশিরভাগ শেলগুলিকে বাধা দেয় এবং শুক্রবার রাতে বেলগোরোদের বিভিন্ন এলাকার ১৩টি রকেট ধ্বংস করে।

রুশ সেনাদের কাছ থেকে কিয়েভ পুনর্দখলের দাবি ইউক্রেনের

রুশ বাহিনীর হামলায় বিধ্বস্ত একটি সেতুতে ইউক্রেনের সেনাদের টহল | ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব সংবাদ প্রতিবেদক:  রাজধানী কিয়েভের আশপাশের এলাকাগুলো পুনরায় দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে রাশিয়ার সেনারা আক্রমণ শুরুর পর স্থানীয় সময় শনিবার প্রথমবারের মতো কিয়েভ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করল দেশটি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের পূর্ব দিকে যুদ্ধের জন্য পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে। তবে, কিয়েভের আশাপাশের এলাকায় ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলে ধ্বংস হওয়া রাশিয়ান ট্যাংক পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা ওকেকসি আরেস্তোভিচ বলেছেন, চলতি সপ্তাহে ওই এলাকা থেকে রুশ বাহিনী প্রত্যাহার করার পর থেকে ৩০টিরও বেশি শহর ও গ্রাম পুনরুদ্ধার করেছেন তাদের সেনারা।

এসব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারকে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি হিসেবে দেখছে রাশিয়া। ইউক্রেন ও তার মিত্ররা বলছে, কিয়েভের কাছে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর রাশিয়া তাদের মনোযোগ পূর্ব ইউক্রেনে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউক্রেনের উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়ার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পুরো কিয়েভ অঞ্চল হানাদারদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।’ তাঁর এ দাবির বিষয়ে রাশিয়ার কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

তবে, রুশ সেনারা সরে গেলেও উদ্বেগ কমছে না ইউক্রেনের। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ভিন্ন একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন রাশিয়ার সেনারা। তাঁরা দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার সেনাদের লক্ষ্য ছিল তাঁদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার পরিসীমা বাড়ানো এবং এসব এলাকার মধ্যে একটি যোগাযোগের পথ তৈরি করা।

যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য এখন পূর্ব ইউক্রেন: রুশ সেনাপ্রধান

রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন রুখতে মহড়া করছে ইউক্রেনের সেনারা  | ছবি: এএফপি

বিশ্ব সংবাদ প্রতিবেদক:   ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার এক মাস গড়িয়েছে। একদিকে যেমন ইউক্রেনের সেনাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ছে রুশ সামরিক বাহিনী, তেমনি ইউক্রেনের বিভিন্ন শহর রাশিয়ার বোমা হামলায় তছনছ হয়েছে। কিন্তু ইউক্রেনের বড় কোনো শহর এখনো দখলে নিতে পারেনি রাশিয়া।

এরই মধ্যে রাশিয়ার সেনাপ্রধান ভালেরি গেরাসিমভ বলেছেন, তাঁদের যুদ্ধের এখন প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল। এ অঞ্চলের রুশপন্থী বিদ্রোহীরা স্বাধীনতার দাবিতে ইউক্রেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই লড়াই করে আসছিল।

রাশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আজ শুক্রবার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে রুশ সেনাপ্রধান বলেছেন, রাশিয়ার এখন যুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য হবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসকে ‘পুরোপুরি মুক্ত’ করা।

বৈঠকে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন, রাশিয়া তাদের বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য দুটি বিকল্প চিন্তাভাবনা করছে। একটি পুরো ইউক্রেনকে দখল করা। অন্যটি হচ্ছে শুধু দনবাসকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া।

রাশিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের এ বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সফলতা এখনো পায়নি রাশিয়া বাহিনী। ইউক্রেনের প্রবল প্রতিরোধের মুখেই হয়তো এমনটা হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফের অপারেশন বিভাগের প্রধান সের্গেই রুডসকো বলেছেন, এখন পর্যন্ত লুহানস্কের ৯৩ শতাংশ এবং দোনেৎস্কের ৫৪ শতাংশ রাশিয়ার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

মারিউপোলে থিয়েটারে হামলায় ‘নিহত ৩০০’

এদিকে এএফপির খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহেই দক্ষিণের বন্দরনগর মারিউপোলে একটি থিয়েটারে হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাঁদের সবাই বেসামরিক নাগরিক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে শহরটির কর্তৃপক্ষ বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে আজ এ তথ্য জানিয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষের দাবি, থিয়েটার ভবনে যে বেসামরিক লোক অবস্থান করছিল, তা জানত রাশিয়ার বাহিনী।

গত সপ্তাহে হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ওই থিয়েটারে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। রাশিয়ার হামলার মুখে মারিউপোলের প্রায় এক লাখ বাসিন্দা খাবার, পানি ও বিদ্যুৎহীন অবস্থান জীবনযাপন করছেন।

এদিকে মারিউপোল শহরে একটি গণকবরের সন্ধান পেয়েছে জাতিসংঘ। সেখানে প্রায় ২০০ জনের মরদেহ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউক্রেনে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস মনিটরিং মিশনের প্রধান মাতিলদা বোগনার বলেন, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গণকবরটি শনাক্ত করা হয়েছে। তবে কবরটিতে থাকা মরদেহের সব কটি বেসামরিক লোকজনের না–ও হতে পারে বলে জানান তিনি।

কয়েক দিন আগেই স্থানীয় নেতারা জানান, যুদ্ধে শুধু মারিউপোলেই তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা তাঁদের। লড়াইয়ের সময় ঝুঁকির কারণে অনেক মরদেহই রাস্তা থেকে সরানো সম্ভব হয় না। পরে এমন অনেক মরদেহের স্থান হয় গণকবরে। খারকিভে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে রুশ হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

অনেক অঞ্চল থেকে রাশিয়ার পিছু হটারও খবর পাওয়া যাচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাশিয়ার দখল থেকে রাজধানী কিয়েভ পূর্বের কয়েকটি শহর ইউক্রেনের সেনারা মুক্ত করেছেন বলে গতকাল জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিয়েভের পূর্বে বরিসপোল শহরের মেয়র ভলোদিমির বোরিশেঙ্কো জানান, রুশ সেনাদের আরও পিছু হটাতে বেসামরিক লোকজনকে শহর ছাড়তে বলা হয়। এর মধ্যেই ২০ হাজার মানুষ সেখান থেকে নিরাপদে চলে গেছেন। এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে রাজধানী কিয়েভের উপকণ্ঠের শহর মাকারিভকে পুনর্দখলে নেওয়ার দাবি করে ইউক্রেন।

এর আগের দিন বোরিসপোল ও বোরোভারি শহরের মধ্যে অবস্থিত একটি গ্রাম রাশিয়ার দখল থেকে মুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন মেয়র ভলোদিমির বোরিশেঙ্কো। কিয়েভের উত্তর–পশ্চিমে ইরপিন, বুচা ও হোস্তোমেল শহরে ইউক্রেনের সেনারা রুশ সেনাদের ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছেন।

গ্যাসে রাশিয়ার নির্ভরশীলতা কমাতে চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র–ইইউর

ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর রাশিয়া থেকে গ্যাস ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি খাতে রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতার পরও তা কাটিয়ে ওঠার পথে হাঁটছিল ইইউ। এমন পরিস্থিতিতে আজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘনমিটার অতিরিক্ত এলএনজি সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তির বিষয়ে এমন সময়ে ঘোষণা এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তিন দিনের সফরে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে রয়েছেন। চলমান সংকটের মধ্যে ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন জানানোর অংশ হিসেবে জরুরি ভিত্তিতে ইউরোপ সফর করছেন তিনি। ইতিমধ্যে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোসহ কয়েকটি বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বাইডেন।

এ ধারাবাহিকতায় আজ পোল্যান্ডের জেসোভ শহর সফর করার কথা বাইডেনের। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরবর্তী শহরটিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাবেন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা। ইউক্রেন থেকে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।

তুরস্ককে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠাতে বলে যুক্তরাষ্ট্র

 

রাশিয়ার নির্মিত এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা | ছবি: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক: তুরস্ককে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সহযোগিতার জন্য ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়ার নির্মিত এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে তুরস্কের হাতে। রুশ হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের জন্য জরুরি এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা গত মাসে কয়েক দফায় তুরস্কের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তবে এ বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো অনুরোধ জানায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চলতি মাসের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শেরম্যানের তুরস্ক সফরেও এ প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র সরকার মিত্রদেশগুলোর প্রতি এস–৩০০ ও এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাসহ রাশিয়ার নির্মিত যুদ্ধ সরঞ্জাম ইউক্রেনকে দিতে বলছে।

ইউক্রেনকে এস–৪০০ ব্যবস্থা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ বা প্রস্তাব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি তুরস্ক কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের বিভিন্ন সূত্র ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রস্তাবে তুরস্কের সাড়া দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, ইউক্রেনে এস–৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থাপনসংক্রান্ত কারিগরি জটিলতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক উদ্বেগসহ অনেক বিষয় রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিলে মস্কো থেকে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সে বিষয়ও আঙ্কারার বিবেচনায় রয়েছে।

রাশিয়ার নির্মিত ভূমি থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রও নিয়ে থাকে তুরস্ক। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথম দফায় এ ক্ষেপণাস্ত্রের চালান যাওয়ার পর থেকেই তা বাদ দিতে তুরস্ককে বলে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্কের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর এ সদস্যদেশকে এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে চলমান কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছে।

উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ইউক্রেনে সাংবাদিক হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান। ছবি: টুইটার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে দায়িত্ব পালনের সময় ব্র্যান্ড রেনড এক মার্কিন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার জবাবে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে। 

মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর যথাযথ পরিণতি চাপিয়ে দেবে। মৃত্যুর খবর ছিল বিস্ময়কর এবং ভয়ংকর। 

সুলিভান জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের সঙ্গে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে আলোচনা করবে। 

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পুরস্কারজয়ী ওই সাংবাদিকের নাম ব্র্যান্ড রেনড (৫২)। ইরপিন শহরের কাছে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী গুলিবর্ষণ করলে তাতে বিদ্ধ হন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। 
 
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরু করে। এরপর এই প্রথম কোনো বিদেশি সাংবাদিক নিহত হলেন।

রাশিয়ার অনুরোধে জরুরি বৈঠকে বসছে নিরাপত্তা পরিষদ

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়ার অনুরোধে আজ শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্র তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র অর্থায়ন করছে বলে রাশিয়া যে অভিযোগ তুলেছে, তা নিয়ে আজ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হবে। বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইউক্রেনে রুশ হামলা আজ ১৬তম দিনে গড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়া অভিযোগ করে, ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিতে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে রাশিয়ার এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা উল্টো বলছে, মস্কোর অভিযোগ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাশিয়া সম্ভবত ইউক্রেনে রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিষদকে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানায় রাশিয়া। রাশিয়ার এই অনুরোধ গ্রহণ করে নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকের জন্য আজ সময় নির্ধারণ করা হয়।

পশ্চিমা দেশগুলোর ভাষ্য, ইউক্রেনে ভবিষ্যতে জীবাণু ও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনাকে ‘ন্যায্যতা’ দিতে রাশিয়া এ নিয়ে এখন বানোয়াট অভিযোগ তুলেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও জীবাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে এই অস্ত্র ব্যবহারের জন্য রাশিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে।

রাশিয়ার অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদের অনুষ্ঠেয় বৈঠকের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘের মার্কিন মিশনের এক মুখপাত্র। তিনি বলেন, রাশিয়া বিশ্বকে ধোঁকা দিতে চাইছে অথবা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মঞ্চ হিসেবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করতে চাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক বিবৃতিতে বলেন, ক্রেমলিন ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা প্রচার করছে। ইউক্রেনে ভয়ংকর কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিতে মিথ্যা অজুহাত দিচ্ছে রাশিয়া।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকিও। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জীবাণু অস্ত্র গবেষণাগার ও ইউক্রেনের রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি নিয়ে রাশিয়ার দাবি অযৌক্তিক। রাশিয়া এখন এসব মিথ্যা দাবি করছে। আর মস্কোর এসব প্রচারণায় সমর্থন দিচ্ছে চীন।

রাশিয়া ছেড়ে যাওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফাইল ছবি : রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর যেসব প্রতিষ্ঠান দেশটি থেকে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। আজ বৃহস্পতিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই তথ্য জানিয়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পুতিন বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বন্ধ করে চলে যাচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ‘বহির্দেশীয় ব্যবস্থাপনা চালু’ করতে পারে রাশিয়। এরপর যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলো চালানোর আগ্রহ প্রকাশ করবে, তাদের হাতে সেগুলো তুলে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা বৈধ পথ খুঁজে বের করব।’

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা স্পুতনিকের খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোয় পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশগুলো। এরপর প্রায় ৩১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম রাশিয়া থেকে গুটিয়ে নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, যেভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তার দেশের বাজার থেকে নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে তাতে স্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘এ জন্য বৈধ পথ রয়েছে। এখানে কোনো স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ নেই। আমরা এই সংকট সমাধানের আইনী পথ খুঁজে বের করব।’

এদিকে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এরই মধ্য একের পর এক ইউক্রেনীয় শহর গুঁড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়া। আর ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১২ হাজার রুশ সেনার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ট্যাংক ও কামান ধ্বংস, যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে রাশিয়ার। সব মিলিয়ে ১৪ দিন ধরে যুদ্ধ চালিয়েও এখনো ইউক্রেন দখল করতে পারেনি রাশিয়া।

মানবিক করিডর খুলে দিতে প্রস্তুত রাশিয়া, বেসামরিকেরা যাবেন পছন্দের জায়গায়

পূর্বাঞ্চলীয় ইউক্রেনে সংঘাতপূর্ণ দেবালৎসেভ এলাকা ছাড়তে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক নারীছবি: রয়টার্স 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ মঙ্গলবার ইউক্রেনে রুশ হামলা ১৩তম দিনে গড়িয়েছে। হামলার মধ্যেই গতকাল সোমবার ইউক্রেন ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা তৃতীয় দফা বৈঠক করেন। সামান্য অগ্রগতির মধ্য দিয়ে এ বৈঠক শেষ হয়। আজ চতুর্থ দফা সমঝোতা বৈঠক হওয়ার কথা। এ দফার বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসে কি না, তার জন্যই অপেক্ষা করতে হবে।

এরই মধ্য জাতিসংঘে নিয়োজিত রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, স্থানীয় সময় আজ সকালে ইউক্রেনে অস্ত্র বিরতিতে যাবে তার দেশ। কিয়েভ, চেরনিহভ, সুমি ও মারিওপোল থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে মানবিক করিডর খুলে দেওয়া হবে। যেখানে খুশি সেখানেই যেতে পারবেন তাঁরা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বৈঠক শেষে রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া মস্কোর স্থানীয় সময় আজ সকাল ১০টা থেকে এ অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, এ প্রস্তাবের আওতায় বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে রাশিয়া কিংবা রাশিয়ার ভূখণ্ডে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিকদের রাশিয়া ও বেলারুশ ‘অধিকৃত ভূখণ্ডে’ সরিয়ে নেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

গতকাল ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, কিয়েভের পশ্চিম দিকে অবস্থিত ইউক্রেনীয় শহরগুলোর বাসিন্দাদেরও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব মানুষ কোথায় যেতে চান, সেটি তাঁরা তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর আগে কয়েকবারই বেসামরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এর জন্য যুদ্ধরত দুই পক্ষ একে অপরকে দায়ী করেছে।

যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব সংবাদ: রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার মুখে ইউক্রেনকে একা লড়াই করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া একটি ভিডিও বার্তায় তিনি এমনটি বলেন।

এ সময় রাশিয়ার প্রতি যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান জেলেনস্কি।

জেলেনস্কি বলেন, কীভাবে শত্রুতা শেষ করা যায় এবং এই আক্রমণ বন্ধ করা যায় তার জন্য রাশিয়াকে শিগগিরই বা পরে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। যত তাড়াতাড়ি কথোপকথন শুরু হবে, রাশিয়ার ক্ষতি তত কম হবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আজ সকালে আমরা একাই আমাদের রাষ্ট্র রক্ষা করছি। গতকালের মতো দূর থেকে দেখছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী শক্তিগুলো। গতকালের নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল? আমরা আমাদের আকাশে শুনতে পাই পাই যে এটি যথেষ্ট ছিল না।

যুদ্ধ না থামা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পর্যন্ত আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করব।

রাশিয়া-ইউক্রেন: সামরিক শক্তিতে কার জোর কত


বিশ্ব ডেস্ক: রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে এ অভিযান চলছে। রাশিয়ার পদাতিক বাহিনী বেশ কয়েকটি দিক থেকে বৃহস্পতিবার সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেনে ঢুকেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের দাবি, তারা রাশিয়ার ছয়টি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত ও ৫০ জন ‘দখলদার রাশিয়ান’কে হত্যা করেছে। এদিকে ইউক্রেনের অন্তত আট নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। দুই পক্ষের মধ্যে এমন সামরিক সংঘাতের মধ্যে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে কার সামরিক শক্তি কেমন, সেটা উঠে এসেছে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনে।

সামরিক শক্তির বিচারে বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। সেখানে ইউক্রেনের অবস্থান ২২। দুই দেশের সৈন্যের সংখ্যা, যুদ্ধবিমান, রণতরি বা সামরিক সরঞ্জামেও ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সামরিক শক্তি পর্যবেক্ষণকারী গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সৈন্যসংখ্যা ৮ লাখ ৫০ হাজার আর ইউক্রেনের সৈন্যসংখ্যা ২ লাখ। তবে উভয় দেশের রিজার্ভ সৈনিক রয়েছে আরও আড়াই লাখ।

গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের হিসাবে, সামরিক খাতে বছরে রাশিয়ার ব্যয় ১৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। রাশিয়ার ১৫ ভাগের ১ ভাগ অর্থাৎ বছরে সামরিক খাতে ১ হাজার ১৮৭ কোটি ডলার ব্যয় করে ইউক্রেন। রাশিয়ার আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য সংখ্যা আড়াই লাখ। অপর দিকে ইউক্রেনের রয়েছে মাত্র ৫০ হাজার।

রাশিয়ার ট্যাংক ১২ হাজার ৪২০টি, ইউক্রেনের ২ হাজার ৫৯৬টি। রাশিয়ার আছে ৩০ হাজার ১২২টি আমর্ড যানবাহন। ইউক্রেনের আর্মড ভেহিক্যাল ১২ হাজার ৩০৩টি। রাশিয়ার স্বয়ংক্রিয় কামান ৬ হাজার ৫৭৪টি। ইউক্রেনের ১ হাজার ৬৭টি। রাশিয়ার মোবাইল রকেট প্রজেক্টর ৩ হাজার ৩৯১টি। ইউক্রেনের আছে ৪৯০টি।

সামরিক নৌযান

সামরিক নৌযানের দিক থেকে অবশ্য ইউক্রেনের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে রাশিয়া। রাশিয়ার নৌবাহিনীর সামরিক যান ৬০৫টি থাকলেও ইউক্রেনের রয়েছে মাত্র ৩৮টি। রাশিয়ার একটি বিমানবাহী রণতরি থাকলেও ইউক্রেনের নেই। এ ছাড়া রাশিয়ার ৭০টি সাবমেরিন থাকলেও ইউক্রেনের কাছে কোনো সাবমেরিন নেই।

ইউক্রেনের ডেস্ট্রয়ার নেই, রাশিয়ার আছে ১৫টি। ইউক্রেনের একটি ফ্রিগেট থাকলেও রাশিয়ার রয়েছে ১১টি। মাইন ওয়ারফেয়ার নৌযান ইউক্রেনের ১টি আর রাশিয়ার রয়েছে ৪৯টি। রাশিয়ার করভেট রয়েছে ৮৬টি, যেখানে ইউক্রেনের মাত্র ১টি। রাশিয়ার টহলদারি নৌযান রয়েছে ৫৯টি আর ইউক্রেনের রয়েছে ১৩টি।

অন্যান্য সরঞ্জাম

রাশিয়ার যেখানে ১ হাজার ২১৮টি বিমানবন্দর রয়েছে, ইউক্রেনের আছে মাত্র ১৮৭টি। রাশিয়ার ২ হাজার ৮৭৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ থাকলেও ইউক্রেনের রয়েছে ৪০৯টি। বিশ্বে স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ আটটি। এর মধ্যে রাশিয়া একটি। রাশিয়ার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও ইউক্রেনের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রই নেই। রাশিয়ার এস-৪০০ নামের অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে, যা আকাশ প্রতিরক্ষায় খুবই কার্যকর, তবে ইউক্রেনের এ রকম কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

 

ইউক্রেন সংকট: রাশিয়াকে কি চীন উদ্ধার করতে পারবে

ক্রিমিয়া সীমান্ত অতিক্রম করে রাশিয়ার সেনা যান ঢুকছে। ছবিটি সিসিটিভির ফুটেজ থেকে নেওয়া। ইউক্রেনের বর্ডার গার্ড কমিটি ছবিটি সরবরাহ করে। ছবি: এএফপি

বিশ্ব ডেস্ক:  ইউক্রেন সংকট নিয়ে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে রাশিয়া। পশ্চিমাদের সঙ্গে দূরত্বের মধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে মস্কোর। ইউক্রেন সংকট শুরুর আগেই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে মস্কোর পাশে থাকার বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এখন পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখেও রাশিয়ার জন্য সুর চড়া করেনি বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে ‘স্বাধীন প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে পুতিনের স্বীকৃতির নিন্দা জানালেও চীন এ বিষয়ে চুপ। বলেছে, ইউক্রেন সংকট নিরসনে কূটনৈতিক সমাধানকে স্বাগত জানাবে বেইজিং।

জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধি গত সোমবার ‘সব পক্ষকে’ সংযত হতে ও ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি’ এড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ডাকা এক জরুরি বৈঠকে চীনের প্রতিনিধি জ্যাং জুন বলেন, কূটনৈতিক সমাধানকে বেইজিং স্বাগত জানাবে এবং উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, সব ধরনের উদ্বেগকে ‘সমতার ভিত্তিতে’ দেখা উচিত।

জ্যাং বলেন, ‘ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি অনেকগুলো জটিল কারণের ফল। চীন সব সময় নিজেদের বিবেচনাবোধ থেকে নিজের অবস্থান ঠিক করে। আমরা বিশ্বাস করি, জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সব দেশের আন্তর্জাতিক বিরোধ সমাধান করা উচিত।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার বিষয়ে চীন চুপচাপ থাকলেও ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ানো’ ও উত্তেজনা তৈরির জন্য বারবার যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করার পাশাপাশি রাশিয়ার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন আগ্রাসনে বেইজিং থেকে কূটনৈতিক সমর্থন পাচ্ছে মস্কো। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মুখে অর্থনৈতিকভাবে চীনা সমর্থন পেতে পারে মস্কো। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মস্কোকে সামরিক সহায়তা দেওয়া থেকে দূরে থাকবে বেইজিং।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে চীনের সম্পর্কও উষ্ণ নয়। বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিক কূটনৈতিকভাবে বয়কট করেছে বেশ কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে উদ্বোধনীতে ৪ ফেব্রুয়ারি চীন সফরে যান পুতিন। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বসে তিনি ঘোষণা দেন, দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বের গভীরতায় ‘কোনো সীমা থাকবে না’। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বিশ্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় চীন-রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের কারণে নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে চীন। রাশিয়াকে সমর্থন করে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর করা সম্ভব, তা এখন দেখার বিষয়। বিশেষ করে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে বারবার বলে আসছে চীন।

রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি ইয়িংহং বলেন, যদিও আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তারা একটি জোট, জোটে নিজেদের সুসম্পর্ক আগের চেয়ে ছাড়িয়ে গেছে, তবু আনুষ্ঠানিক জোট গঠন থেকে অনেকটা তফাতে আছে তারা। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত হলে অপরজন সেনা ও সামরিক সহায়তা পাঠাবে, এমন জোট তারা এখনো হয়নি।’

চীন আগে থেকেই সংলাপের মাধ্যমে ইউক্রেন সংকটের সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক লি মিংজিয়াং বলেন, তাইওয়ানের সঙ্গে যুদ্ধে চীন যেমন রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সহায়তা প্রত্যাশা করে না, রাশিয়ার চাওয়াও ঠিক তেমন। ইউক্রেন আগ্রাসনে চীনের কাছে রাশিয়ার কোনো সামরিক সহায়তা প্রত্যাশা নেই।

ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া যখন বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করে যাচ্ছিল তখন এর বিরোধিতা করে গত মাসে জাতিসংঘের ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই বৈঠক ঠেকাতে রাশিয়ার সঙ্গে একমাত্র চীনই ভোট দিয়েছিল, যদিও তা ব্যর্থ হয়েছিল।

২০১৪ সালের তুলনায় দুই দেশের সম্পর্কের আরও অগ্রগতি হয়েছে। তখন ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল রাশিয়া নিজের অধিভুক্ত করে নিয়েছিল। অন্যান্য দেশকে এর স্বীকৃতি না দিতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া প্রস্তাব আনলে চীন ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে চীন। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও চীন তেমন প্রভাব পড়তে দেবে না।

রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালালে চীন ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়নাসহ চীনের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেবে।

গত সোমবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রুশপন্থী বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেন। সেখানে ‘শান্তিরক্ষায়’ সেনা পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। এরপর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। পরদিন মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য রাশিয়ার পাঁচটি ব্যাংক এবং পুতিন-ঘনিষ্ঠ তিন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার দুটি ব্যাংক এবং পাঁচ ধনকুবেরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। রাশিয়ার ২৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞায় পড়ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছেন দেশটির ৩৫১ জন এমপিও। জার্মানি রাশিয়া থেকে গ্যাস নেওয়ার জন্য চলমান নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। কানাডা ও জাপানও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছিলেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ঘটনায় মস্কোর ওপর কোনো রপ্তানি–নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে যদি চীন তা অগ্রাহ্য করে, তাহলে চীনা কোম্পানিগুলোকে পরিণতি ভোগ করতে হবে।

একই সুরে কথা বলেছেন অধ্যাপক সি ইয়িংহং–ও। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বে যেভাবে মেরুকরণ ঘটেছে, তাতে রাশিয়ার সঙ্গে চীনকেও বিচ্ছিন্ন কিংবা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখতে পারে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো।

কিন্তু যুদ্ধ চায় না চীন। চীন মনে করে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। ইউক্রেন সংকটে কোনো অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে চায় না চীন। বিশেষভাবে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এখন তাঁর ক্ষমতার তৃতীয় মেয়াদ নিশ্চিত করতেই ব্যস্ত। তিনি স্থিতিশীলতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সামাল দেওয়া চীনের সক্ষমতার বাইরে। চীন ইচ্ছা করলেই রাশিয়ার সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না।

চীন সব পক্ষকে নিয়ে এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইলেও পুতিন যে তাতে কান দেবেন না এটা আজ সকালে তাঁর দেওয়া সামরিক অভিযানের নির্দেশেই দৃশ্যমান।

রয়টার্স, সিএনএন, বিবিসি ও আল জাজিরা অবলম্বনে লিপি রানী সাহা

সাইবার পরিসরেও হামলার শিকার ইউক্রেন

ইউক্রেনে সর্বশেষ সাইবার হামলার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। প্রতীকী ছবি

বিশ্ব ডেস্ক: ইউক্রেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলো সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সিএনএন অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

আজ সকালে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর এই ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হয়ে যায়। একই দিন স্থানীয় সময় ভোরে ইউক্রেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলো ‘ডাউন’ হয়ে যেতে দেখা যায়।

ইউক্রেনের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগে থেকেই সাইবার হামলা মোকাবিলা করে আসছিল। আজ ভোরে ইউক্রেনের একাধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট সাইবার হামলার শিকার হয়।

আজ দেশটির পররাষ্ট্র, অবকাঠামো, শিক্ষাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট সাইবার হামলা-সংশ্লিষ্ট সমস্যার মুখোমুখি হয় বলে জানা যায়।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের ভাষ্য, ইউক্রেনের শত শত কম্পিউটারে তথ্য মুছে দেওয়ার টুল (ডেটা-ওয়াইপিং টুল) পাওয়া গেছে।

মার্কিন সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম ম্যান্ডিয়েন্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা চার্লস কারমাকাল সিএনএনকে বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনের একাধিক বাণিজ্যিক ও সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইট মারাত্মক ম্যালওয়্যার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছি।’

মার্কিন কর্মকর্তারা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন যে রাশিয়া সম্ভবত ইউক্রেনে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সাইবার হামলা চালাতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত মাসে বলেছিলেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে সাইবার হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব সাইবার অপারেশনের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিতে পারে।

২১ ফেব্রুয়ারি ‘পলিটিকো’ এক প্রতিবেদনে জানায়, রাশিয়ার সাইবার হামলা থেকে ইউক্রেনকে রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহায়তা দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একটি দল এ ব্যাপারে কাজ করবে।

আজকের ভোরের এই ঘটনার আগে গতকাল বুধবার বিকেলে ইউক্রেনের একাধিক সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অফলাইনে চলে গিয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ইউক্রেনের সংসদ, নিরাপত্তা সেবা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ছিল।

গতকাল ও আজকের সাইবার হামলার ঘটনার জন্য কে বা কারা দায়ী, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে ইউক্রেন সরকারের বক্তব্য জানতে পারেনি সিএনএন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এত বড় হামলা এই প্রথম

 ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব ডেস্ক:  ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান নিয়ে সর্বশেষ কী ঘটছে, কে কী বলছেন ও সামনে কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তা তুলে ধরা হলো:

এ পর্যন্ত কী হলো:
  • রাশিয়া আজ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোরে ইউক্রেনের স্থল, আকাশ ও নৌপথে হামলা চালিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের কোনো একটি দেশের ওপর আরেকটি দেশের এত বড় হামলা এই প্রথম।
  • রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তাঁর উদ্দেশ্য ইউক্রেন দখল নয়; বরং দেশটিকে সামরিকায়নের হাত থেকে উদ্ধার করা।
  •  হামলা শুরুর পরপরই ইউক্রেনের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া শুরু হয়। রাজধানী কিয়েভে শোনা যায় বিস্ফোরণের শব্দ।
  •  এ হামলার পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলোনস্কি রাশিয়ার ওপর সম্ভাব্য সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য বিশ্ব নেতাদের কাছে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পুতিন ইউক্রেনকে ধ্বংস করতে চা।
  • হামলার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সমস্ত সম্পদ জব্দ করার ঘোষণা দিয়েছে। ইউরোপের আর্থিক বাজারের ব্যাংকগুলোতে রাশিয়ার প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে।
  • হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, এ যুদ্ধ পুতিনের পূর্বপরিকল্পিত। ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা রাশিয়ার ওপর ‘চরম নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করবে।
  • ইউক্রেনে রাশিয়ার এ হামলাকে আগ্রাসন বলতে নারাজ চীন। দেশটি সব পক্ষকে শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছে।
  • ইউক্রেন সাধারণ বিমান পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করেছে।
যে যা বললেন

সামরিক অভিযানের আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘ক্রমাগত সহিংস আচরণ ও গণহত্যার শিকার মানুষদের সুরক্ষায় আমি একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিকায়ন ও নাৎসিকরণ বন্ধের চেষ্টা করব।’ পুতিন আরও বলেন, অনেক সাধারণ নাগরিকের রক্ত ঝরানোর কাজ যাঁরা করেছেন, তাঁদের বিচারের আওতায় আনতে এ অভিযান।

অভিযান শুরুর পর ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা টুইটারে বলেন, ‘পুতিন এইমাত্র ইউক্রেনে পুরো মাত্রার আগ্রাসন শুরু করেছে। ইউক্রেনের শান্ত শহরগুলো হামলার মুখে।’
 
এখন কী হবে
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জি-সেভেনের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় নিয়ে বসবেন।
  • আজই রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য জরুরি বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
  • ন্যাটোর রাষ্ট্রদূতেরা আজ এক জরুরি বৈঠকে বসবেন।
  • রাশিয়ার সামরিক অভিযানের বিষয়ে নিন্দা প্রস্তাব আনতে নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনা করবে।
  •  ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের নীতিনির্ধারকেরা এক জরুরি বৈঠকে বসছেন।

বিস্ফোরণ-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে কী করছে কিয়েভবাসী

কিয়েভ ছেড়ে চলে যাচ্ছে মানুষ। ছবি: এএফপি

বিশ্ব ডেস্ক: বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দারা রয়েছে আতঙ্কে। প্রাণ বাঁচাতে তাদের অনেকেই পাতালরেলের স্টেশনে ছুটছে। হামলা থেকে বাঁচতে এই স্টেশনকে নিরাপদ মনে করছে কিয়েভবাসী। খবর বিবিসির।

বিবিসির পূর্ব ইউরোপের প্রতিনিধি সারাহ রেইনসফোর্ড ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের ক্রামাতোরস্ক শহর থেকে খবর সংগ্রহ করছেন। সারাহ রেইনসফোর্ড বলেন, সামনে কী হবে, তা ভেবে শহরটির বাসিন্দারা শোকাহত ও আতঙ্কিত। অনেকেই বাসে শহর ছেড়ে পালাচ্ছে। কিয়েভের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বিবিসির প্রতিবেদক সারাহ রেইনসফোর্ড আরও বলেন, শহরবাসী গতকাল রাতে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। তারা ইউক্রেনের পতাকা ওড়ায়।

বিবিসি, রয়টার্স, এএফপিসহ পশ্চিমা গণমাধ্যমের খবর বলছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মস্কোর স্থানীয় সময় ভোর ৫টা বেজে ৫৫ মিনিটে সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। এর কয়েক মিনিট পরই ইউক্রেনে প্রথম শেল ছোড়া হয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়।

কিয়েভে জরুরি পরিস্থিতির জন্য সাইরেন বাজানো হয়েছে। বিভিন্ন ছবিতে শহর ছেড়ে বের হওয়ার রাস্তাগুলোতে গাড়ির লম্বা লাইন দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েভের বাসিন্দারা তাদের ভয়ংকর পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছে। অনেকে বলেছে, বোমা হামলা থেকে বাঁচতে তারা বাড়ির বেসমেন্টে আশ্রয় নিয়েছে। টেলিভিশন ফুটেজে রাস্তায় অনেক মানুষকে জড়ো হয়ে প্রার্থনা করতে দেখা গেছে।

কিয়েভে নিযুক্ত গার্ডিয়ানের সংবাদকর্মী লিউক হার্ডিং টুইটে বলেছেন, কিয়েভের রাস্তায় যাদের দেখা যাচ্ছে, তারা শহরবাসীর একাংশ। বেশির ভাগ শহরবাসী রুবল (রাশিয়ান মুদ্রা) তোলার জন্য বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

ইউক্রেন পুলিশ বলছে, রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের সাত নাগরিক নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা পোডিলস্ক ও মারিয়াপোল এলাকায় এ বোমা হামলা হয়েছে। এসব এলাকায় নিখোঁজ অনেকে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেরহিই শাপটাললা দাবি করেছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে রাশিয়ার পাঁচটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে।

রাশিয়ার হামলার পরে ফোনালাপে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য আজ জি–৭ ভুক্ত দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বাইডেন। তবে হামলার আগে পুতিন বলেন, ইউক্রেন দখলের কোনো পরিকল্পনা রাশিয়ার নেই। প্রাণহানি এড়াতে ইউক্রেনের সেনাদের অস্ত্র পরিত্যাগের আহ্বান জানান পুতিন।

কিয়েভ ছাড়ার সময় সঙ্গে খাবার নিয়েছে শিশুটি। ছবি: এএফপি

ভোর পাঁচটায় যাঁকে ফোন দিয়েছিলেন পুতিন

বৃহস্পতিবার সকালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ছবি: এএফপি

বিশ্ব ডেস্ক: রাশিয়ার স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার কিছু আগে টেলিভিশনের পর্দায় হাজির হন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি ঘোষণা দেন, ‘আমি সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণার আগে রাশিয়ার মিত্রদেশ বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে ফোন করেছিলেন পুতিন। লুকাশেঙ্কোর কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

লুকাশেঙ্কোর কার্যালয় জানায়, আজ ভোরে বেলারুশের নেতাকে ফোন করেছিলেন পুতিন। তিনি ফোনে লুকাশেঙ্কোকে জানান, মস্কো ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে।

স্থানীয় সময় ভোর পাঁচটার দিকে বেলারুশ ও রুশ প্রেসিডেন্টের মধ্যে ফোনালাপ হয় বলে নিশ্চিত করেছে লুকাশেঙ্কোর কার্যালয়।

ফোনালাপে লুকাশেঙ্কোকে ইউক্রেন সীমান্ত ও পূর্ব ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী–নিয়ন্ত্রিত দনবাস অঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন পুতিন।

লুকাশেঙ্কোকে পুতিনের ফোন করার বিষয়ে ক্রেমলিন থেকে অবশ্য কিছু বলা হয়নি।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণায় পুতিন বলেন, ‘পরিস্থিতি বিবেচনায় অবিলম্বে আমাদের এমন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন পড়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের দনবাসের স্বাধীন দুটি প্রজাতন্ত্র আমাদের কাছে সাহায্য চেয়ে অনুরোধ করেছে। জাতিসংঘ সনদের সপ্তম অধ্যায়ের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আমি সেখানে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

পুতিনের ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরু হয়ে যায়।

ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার এই সামরিক অভিযানে প্রতিবেশী বেলারুশ থেকেও সেনারা যোগ দিচ্ছেন। রাশিয়ার পাশাপাশি বেলারুশ সীমান্ত থেকেও হামলা চালানো হচ্ছে।

বেলারুশ দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। বেলারুশে রাশিয়ার কয়েক হাজার সেনা রয়েছে। বেলারুশের সঙ্গে সম্প্রতি সামরিক মহড়া করে রাশিয়া।

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের সড়কে রাশিয়ার সামরিক যান। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব ডেস্ক:  ইউক্রেনের সামরিক বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার এ দাবি করে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী-নিয়ন্ত্রিত দুটি অঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়ার পরই মস্কো এ দাবি করল। খবর এএফপির।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়ে ইউক্রেনের সামরিক বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি করে বলেছে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বেশ কিছু বিমানঘাঁটির সামরিক অবকাঠামো অচল হয়ে গেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে রুশ সামরিক বাহিনী।

পুতিনের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর রাশিয়ার পদাতিক বাহিনী বিভিন্ন দিক থেকে বৃহস্পতিবার সীমান্ত পেরিয়ে ইউক্রেনে ঢুকে পড়েছে। এ দাবি ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর। ইউক্রেনের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বলছে, ট্যাংকসহ রাশিয়ার ভারী সামরিক যানবাহন উত্তরাঞ্চলে বেশ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে ইউক্রেনে ঢুকেছে। এ ছাড়া ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখল করা ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দিয়েও রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ঢোকার কথা জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

এর আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীনিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে তারা রাশিয়ার পাঁচটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেরহিই শাপটাললার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের সাত নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দেশটির পুলিশ দাবি করেছে। ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা পোডিলস্কে হামলা হয়েছে। পোডিলস্কের কাছের ওডেসা এলাকায় রাশিয়ার বোমা হামলায় অন্তত ছয়জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন সাতজন। আর দেশটির ১৯ নাগরিকের কোনো খোঁজ মিলছে না।

বিবিসি বলেছে, পুতিন সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়ার পরই রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের আরও দুটি স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলগোরোদ প্রদেশে বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার সীমান্তের দক্ষিণে ইউক্রেনের খারকিভে স্থানীয় সময় আজ ভোরের দিকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এটি। শহরটি রাশিয়া সীমান্তের ৩৫ কিলোমিটার (২০ মাইল) দক্ষিণে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের এ এলাকায় ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেন সেনাবাহিনী ও মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লড়াই চলছে।

ইউক্রেনের নাগরিকেরা অস্ত্র কিনছেন, ব্যবসায় রমরমা

কিয়েভ শহরে নাগরিকদের জন্য অস্ত্র চালনা শিক্ষার একটি শিবিরে এসেছেন কয়েকজন নাগরিক। ছবি: এএফপি

বিশ্ব ডেস্ক:  রুশ হামলার আগে থেকেই ইউক্রেনের নাগরিকেরা অস্ত্র ও গুলি কেনা শুরু করেছিলেন। গতকাল বুধবার অস্ত্রের দোকানগুলোর সামনে বড় ধরনের ভিড় লক্ষ করা গেছে। খবর গার্ডিয়ানের।

আজ বৃহস্পতিবার ইউক্রেনে হামলা ঘটনা ঘটল। আর এর পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক শাসন জারি হয়েছে।

সম্ভাব্য হামলার আগেই ইউক্রেনের পার্লামেন্ট একটি খসড়া আইন অনুমোদন করে, যার মাধ্যমে নাগরিকদের অস্ত্র নিয়ে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগে কোনো অস্ত্র নিয়ে বাড়ি ত্যাগের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

ইউক্রেনের স্কুলগুলোতে ছেলেমেয়েদের অস্ত্র চালানো শেখানো হয়। দেশটির প্রায় চার লাখ মানুষের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আছে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়াকে সংযুক্ত করার সময় এ অভিজ্ঞতা হয় তাদের। তবে এবার রাশিয়ার হামলার আগে আগে নাগরিকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। অস্ত্রের দোকানগুলো এআর-১০, এআর-১৫–এর মতো রাইফেলগুলোর চাহিদা বেড়ে যায়।

মধ্য কিয়েভের অস্ত্রের দোকানে অস্ত্র কিনতে এসে একজন নারী ক্রেতা দারিয়া অলেক্সান্দ্রিভানা বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ে আমি সত্যিই শঙ্কিত। আমি ভালো কিছুর আশা করছি, কিন্তু সব পরিণতির জন্য প্রস্তুত আছি।’

অলেক্সান্দ্রিভানা বলেন, তিনি এবং তাঁর স্বামী ছয় মাস আগে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। এ সময় থেকেই মস্কোর সঙ্গে কিয়েভের সম্পর্ক নাজুক হতে শুরু করে। এই দম্পতির দুটো বন্দুক আছে। অলেক্সান্দ্রিভানা ৪০০ বুলেট কিনলেন। এই নারী বলেন, ‘আমি পুতিনের ভাষণ শুনেছি। তিনি এসব কিছু করতে পারেন। তিনি ইউক্রেনের মানুষকে ঘৃণা করেন।’

নাগরিকদের অস্ত্র এবং গুলি কেনার কথা জানে পুলিশ। ফেব্রুয়ারি মাসেই শুধু ১০ হাজার নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে এখন সব মিলিয়ে সাত লাখের বেশি মানুষের বৈধ অস্ত্র আছে।

রাশিয়ার পাঁচটি বিমান ভূপাতিতের দাবি ইউক্রেনের

রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী–নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ট্যাংক, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব ডেস্ক: ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী–নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছে রাশিয়ার পাঁচটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সেরহিই শাপটাললার বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপির আজ বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে এসব খবর জানানো হয়েছে।

সেরহিই শাপটাললা বলেছেন, ‘জয়েন্ট ফোর্স কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী আজ আক্রমণকারীদের পাঁচটি বিমান ও একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করা হয়েছে।’

আজ সকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী–নিয়ন্ত্রিত দনবাস অঞ্চলে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়ার পর ইউক্রেন এসব কথা জানাল। পুতিনের সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ আসার পরই আজ রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনে আরও দুটি স্থানে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছাকাছি রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলগোরোদ প্রদেশ বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। তবে সেটা কি বিস্ফোরণের শব্দ, নাকি অন্য কিছু, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের সাংবাদিক ফ্রেডরিক প্লেইটজেন বলেন, কামানের গোলা আর রকেট ছোড়ার আওয়াজ পেয়েছেন। এ ছাড়া কিছু বিমান ওড়ার শব্দও তিনি পেয়েছেন। বিমানগুলো ইউক্রেনের দিকে উড়ে গেছে বলে ধারণা করছেন তিনি।

পুতিন দনবাসে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশের পরই রাশিয়ার সীমান্তের দক্ষিণের খারকিভে স্থানীয় সময় আজ ভোরের দিকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এটি। শহরটি রাশিয়া সীমান্তের ৩৫ কিলোমিটার (২০ মাইল) দক্ষিণে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের এ এলাকায় ২০১৪ সাল থেকে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ও মস্কো-সমর্থিত বিদ্রোহীদের লড়াই চলছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনে সামরিক শাসন জারির আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদ। সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়ে পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে রাশিয়ার সেনাদের সংঘর্ষ অনিবার্য।

রাশিয়ার বোমা হামলায় ৭ জন নিহত: ইউক্রেন পুলিশ

ইউক্রেনের মারিওপোল এলাকায় আগুন। ২৪ ফেব্রুয়ারি। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব ডেস্ক:  রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে এ হামলা চলছে। এ হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের পুলিশ জানিয়েছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, দেশটির পুলিশ বলেছে, রাশিয়ার বিমান হামলায় ইউক্রেনের সাত নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা পোডিলস্ক এলাকায় এ বোমা হামলা হয়েছে। পোডিলস্কের ওডেসা এলাকায় বোমা হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন সাতজন। ১৯ জনের কোনো খোঁজ মিলছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, ইউক্রেনের মারিওপোল এলাকায় বোমা হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। 

এদিকে বিবিসির সাংবাদিকেরা বলছেন, ইউক্রেনের চারপাশ দিয়ে রুশ সেনারা ঢুকে পড়েছেন। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আরও রক্তপাত এড়াতে ইউক্রেনের সেনাদের অস্ত্র পরিত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন।

ইউক্রেনে সীমান্তরক্ষীদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছে: জেলেনস্কি

দোনেৎস্কে সামরিক যান। ছবি: রয়টার্স

বিশ্ব সংবাদ: ইউক্রেনে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর রয়টার্সের।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের অবকাঠামো ও সীমান্তরক্ষীদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

এদিকে ন্যাটো মহাসচিব জেনস স্টোলেনবার্গ ইউক্রেনে রাশিয়ার বেপরোয়া হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।

এক টুইটে ন্যাটো মহাসচিব বলেন, হামলার কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি আরও বলেন, ন্যাটোর মিত্রদেশগুলো রাশিয়ার নতুন হামলা নিয়ে আলোচনায় বসবে।

ইউক্রেনে পাঁচটি বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে বিবিসি ও এএফপি। দেশটিতে সামরিক শাসন জারির আহ্বান জানিয়েছে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি আরও বলেছেন, ইউক্রেন আক্রমণের মধ্য দিয়ে রাশিয়া আগামী দিনগুলোয় ইউরোপে একটি বড় যুদ্ধের সূচনা করতে পারে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন