ভ্রমণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভ্রমণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে উদ্বোধন হলো সাঁঝের মায়া - আই লাভ ঈশ্বরদী পর্যটন পয়েন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী সাঁড়াঘাটে চালু হলো বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পর্যটন কেন্দ্র 'সাঁঝের মায়া – আই লাভ ঈশ্বরদী'।

রোববার সন্ধ্যায় পদ্মার তীরে মনোরম পরিবেশে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সদ্য নাটোরে এডিসি হিসেবে যোগ দেওয়া ঈশ্বরদীর বিদায়ী ইউএনও সুবীর কুমার দাস।

উদ্বোধনের সময় পদ্মার বুকে সোনালি আভায় ভেসে থাকা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য চারপাশে উৎসবের আবহ তৈরি করে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই নতুন উদ্যোগ ঈশ্বরদীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি ভ্রমণ ও বিনোদনপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নবাগত সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিনসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বিশ্ব ভ্রমণে নাজমুনের ১৭৮ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৭৮টি দেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন নাজমুন নাহার। ১৭৮তম দেশ হিসেবে পাপুয়া নিউগিনি ভ্রমণের মাধ্যমে এ রেকর্ড গড়েন তিনি। এছাড়া বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবেও ১৭৮টি দেশ ভ্রমণের এ কীর্তি এখন তার দখলে।

পাপুয়া নিউগিনির উপপ্রধানমন্ত্রী জন রোসো এক বিশেষ সাক্ষাতে নাজমুন নাহারকে বিশ্ব ভ্রমণের এই বিরল রেকর্ড অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এছাড়া নাজমুন ১৭৭তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন সলোমান আইল্যান্ড। সলোমান আইল্যান্ডের জনপ্রিয় তাভুলী নিউজে বিখ্যাত সাংবাদিক জর্জিনা কেকেয়ার লেখা ফিচারে উঠে আসে নাজমুন নাহারের গৌরবময় বিশ্ব ভ্রমণের সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা।

নাজমুন নাহার এভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরছেন এবং বিশ্ব শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন মানুষের মাঝে। নাজমুন তার ভ্রমণের সময় বিশ্ব শান্তি, ঐক্য এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন মানুষের মাঝে।

এই অভিযাত্রায় গত তিন মাস তিনি ভ্রমণ করেছেন ওশেনিয়া মহাদেশের ফিজি, টোঙ্গা, ভানুয়াতু, সলোমন আইল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনি।

নাজমুন বলেন, ওশেনিয়ার সামুদ্রিক এসব দেশ ভ্রমণ অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে ভূস্বর্গের অপরূপ রহস্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছি সেখানে।

তার বিশ্ব ভ্রমণের মাঝে তিনি বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, তবুও তিনি দুর্গম পথ পেরিয়ে গিয়েছেন তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।

ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন, সাহস, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। তার বিশ্ব ভ্রমণের প্রবল ইচ্ছে শক্তির কাছে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম বিশ্ব ভ্রমণ শুরু হয় নাজমুন নাহারের। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ব ভ্রমণ চলছে এবং তিনি ভ্রমণ করবেন বিশ্বের অবশিষ্ট দেশগুলো।

নাজমুন ২০১৮ সালের ১ জুন ১০০তম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের উপর। ৬ অক্টোবর ২০২১ সালে ১৫০ তম দেশ হিসেবে "সাওটোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ" ভ্রমণের মাধ্যমে ঐতিহাসিক মাইলফলক সৃষ্টি করেন। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে ১৭৫ দেশ ভ্রমণের আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেন।

ছোট্টবেলা থেকে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও অদম্য স্বপ্ন আর চেষ্টা তাকে নিয়ে গেছে এতদূর। নাজমুন বেশিরভাগ দেশ ভ্রমণ করেছেন একাকী সড়কপথে।

‌২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান সুইডেনে এবং সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। নাজমুন তার অসাধারণ অভিযাত্রার মাঝে যেমন পৃথিবীকে দেখেছেন, তেমনি তিনি সব শিশু ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছেন সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বড় করে স্বপ্ন দেখার।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বড় বড় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে নাজমুন নাহারের বিশ্ব ভ্রমণের অভিযাত্রা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বড় বড় ব্যক্তিত্বরা তাকে সম্মাননা ও সংবর্ধনা দিয়েছে। পৃথিবী ভ্রমণের সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পিস টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নাজমুন নাহার। এছাড়াও তার অর্জনের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে ৫৫টির মতো পুরস্কার ও সম্মাননা।

বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরে জন্ম নিয়েছেন এই কৃতি নারী। বিশ্ব ভ্রমণের জন্য নাজমুন নাহারের জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসাহের প্রতীক হলেন বাবা, দাদা ও বই।

তার দাদা আহমদ উল্লাহ একজন ইসলামিক স্কলার ছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত আরব ভূখণ্ডের অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন ঘোড়ায় চড়ে, পায়ে হেঁটে ও জাহাজে করে। তিনি তার মাকে নিয়েও ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর ১৪টি দেশ।

নাজমুন নাহার লাল–সবুজের পতাকাবাহী তারকা। বিশ্বভ্রমণের ইতিহাসে দেশে দেশে বাংলাদেশের মানচিত্র স্থান পাচ্ছে নাজমুন নাহারের হাত ধরে।

নারীদের বাধা ডিঙিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলোর পথ দেখিয়েছেন বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতার মতো নক্ষত্ররা।‌ নাজমুন আগামী প্রজন্মের জন্য এমন পথ সৃষ্টি করেছেন, যা শিশু-তরুণসহ সব মানুষকে উৎসাহিত করবে যুগে যুগে।‌

হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদক: অরণ্য ভ্রমণ মানে প্রকৃতির শান্ত প্রাণের এক স্নিগ্ধ পুনরুজ্জীবনের আলিঙ্গন। সবুজের ভিড়ে হারানোর সময় সঙ্গী হয় পাতার শব্দ আর পাখির কিচির-মিচির। বনের যত গহীনে যাওয়া যায় ততই প্রবল হতে থাকে বিস্ময়কর কিছু খুঁজে পাওয়ার আকর্ষণ। কখনো তা দুর্লভ প্রজাতির কোনও গাছ বা অদ্ভূত কোনও বন্যপ্রাণী। কখনও তা হতে পারে কোনও এক আদিবাসী শিশুর স্তম্ভিত চাহনী। বিশেষ করে বাংলাদেশের পাহাড়ি বনগুলোতে এ সবকিছুরই দেখা মেলে। তন্মধ্যে জঙ্গলেই মঙ্গল সন্ধানীদের জন্য প্রিয় একটি গন্তব্য হচ্ছে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য। চলুন, দেশের প্রসিদ্ধ এই পর্যটন কেন্দ্রটি সম্বন্ধে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের অবস্থান

অভয়ারণ্যটির অবস্থান দেশের পূর্বাঞ্চলের বিভাগ সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায়। ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলটির অবস্থান। সুন্দরবনের পরেই এই শুকনো ও চিরহরিৎ বনটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বনভূমি। একই সঙ্গে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবেও স্বীকৃত এই অঞ্চলটি।

ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন সমগ্র অভয়ারণ্যটির আয়তন ১ হাজার ৭৯৫ দশমিক ৫৪ হেক্টর। হবিগঞ্জ বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের রেমা, কালেঙ্গা, ও ছনবাড়ী- এই তিনটি বিট পড়েছে অভয়ারণ্যের মধ্যে। অরণ্যের ভেতর দিয়ে ট্রেকিং পথে সিন্দুরখান ইউনিয়ন হয়ে পিচঢালা পথে শ্রীমঙ্গল পৌঁছা যায়।
ঢাকা থেকে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য যাওয়ার উপায়

ঢাকাবাসীদের সড়কপথে এই অভয়ারণ্যে যাওয়ার জন্য প্রথমে পৌঁছাতে হবে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে। আরও একটু এগিয়ে শ্রীমঙ্গল হয়ে গেলে একসঙ্গে দুই অঞ্চলের পর্যটন স্থানগুলো ভ্রমণ করা যায়। ঢাকার সায়েদাবাদ বা গাবতলি বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি হবিগঞ্জের বাস আছে। এগুলোতে ভাড়া পড়বে ৪৬০ টাকা এবং হবিগঞ্জের আগে শায়েস্তাগঞ্জে নেমে পড়তে হবে।

অপরদিকে শ্রীমঙ্গলের বাসে উঠলে খরচ হবে ৫৭০ থেকে ৮০০ টাকা।

যারা ট্রেনে যেতে চান তাদেরকে উঠতে হবে সিলেটগামী ট্রেনে। এই ট্রেনগুলো শায়েস্তাগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উভয় জায়গাতেই থামে। সিটের ধরন ভেদে ভাড়া নিতে পারে ২৬৫ থেকে ১ হাজার ৯৯ টাকা।

আর সবচেয়ে দ্রুত যাওয়ার জন্য রয়েছে বিমান, যেখানে সিলেট পর্যন্ত যেতে খরচ হবে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। সিলেট থেকে বাসে করে শায়েস্তাগঞ্জ বা শ্রীমঙ্গল পর্যন্ত আসতে হবে। দুই জায়গা থেকেই সরাসরি কালেঙ্গা যাওয়ার অটোরিকশা বা জিপ গাড়ি পাওয়া যায়। শ্রীমঙ্গল থেকে জিপে করে কালেঙ্গা যেতে খরচ পড়বে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।
রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ভ্রমণে কি কি দেখবেন

বনে প্রবেশ করতেই স্বাগত জানাবে মনোরম একটি লেক। পাশেই সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার, যেখান থেকে পুরো বনভূমি এক নজরে দেখে নেওয়া যায়।

এই অভয়ারণ্যে ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ, ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৭ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, এবং ১৬৭ প্রজাতির পাখি। পাখি প্রেমিদের জন্য এই অভয়ারণ্য সর্বোত্তম জায়গা। তবে একসঙ্গে অনেক পাখির দেখা পাওয়ার জন্য খুব ভোরে বনের ভেতর ঢুকতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি ময়না, ভিমরাজ, কাও ধনেশ, ফোটা কান্টি সাতভারলা, শালিক, শ্যামা, শামুক খাওরি, ও টুনটুনিসহ আরও দুর্লভ প্রজাতির পাখি।

এখানকার প্রধান আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে শকুন দর্শন। বনভূমিটি শকুনের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত।

এই বনে ৩ প্রজাতির বানরের দেখা মেলে। এগুলো হলো- লাল বানর, নিশাচর লজ্জাবতী বানর, এবং উল্টোলেজি বানর। এ বনে কাঠবিড়ালী আছে ৫ প্রজাতির, যেগুলোর মধ্যে বিরল প্রজাতির মালয়ান বড় কাঠবিড়ালি শুধুমাত্র এখানেই পাওয়া যায়। সাপের মধ্যে দেখা যায় দুধরাজ, কোবরা, দাঁড়াশ, এবং লাউডগা।

এই বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ট্রেকিং-এর জন্য রয়েছে ৩টি ট্রেইল। একটি আধ ঘন্টার, একটি ১ ঘন্টার, এবং একটি ৩ ঘন্টার পথ।

এই পথে দেখা হয়ে যাবে আদিবাসীদের সাথে। এখানে মোট ৪ আদিবাসীর বসবাস- ত্রিপুরা, সাঁওতাল, উড়ং, এবং তেলুগু।
রেমা-কালেঙ্গা বনভূমি ভ্রমণের সেরা সময়

এই বনভূমিতে বৃষ্টির মৌসুম বাদে বছরের যে কোনও সময়েই ঘুরতে যাওয়া যায়। বর্ষায় ৩টি ট্রেইলের ২টিই চলাচলের একদম অযোগ্য হয়ে পড়ে। গরমে পাহাড়ি জংলা পথে অল্প হাটতেই ক্লান্তি চলে আসবে। তাই এই অভয়ারণ্য ভ্রমণের সেরা সময় হচ্ছে পুরোটা শীত এবং বসন্তের শুরু তথা ফাল্গুন মাস। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির যেকোনো দিন এখানে ঘুরে আসা যেতে পারে।
অভয়ারণ্য ভ্রমণে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

এখানে বন বিভাগের বাংলো রয়েছে, তবে এখানে থাকতে সিলেট বন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া কয়েকটি বেসরকারি রিসোর্টও আছে। এগুলোতে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকায় থাকা যেতে পারে। প্রতিবেলা খাবারের জন্য খরচ হতে পারে মাথাপিছু ২০০ টাকা।

হবিগঞ্জ শহরে কিছু মান সম্পন্ন আবাসিক হোটেল আছে, যেগুলোতে ভাড়া পড়বে ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বাহুবল উপজেলায় পাওয়া যাবে ৫ তারকা রিসোর্ট যেখানে ৭ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
ভ্রমণকালীন কিছু সতর্কতা

- অভয়ারণ্য ভ্রমণে দিক নির্দেশনা ও থাকা-খাওয়া বন্দোবস্তের জন্য সঙ্গে অবশ্যই গাইড নেওয়া আবশ্যক

- ট্রেকিং-এর সময় সঙ্গে হালকা শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, এবং স্যালাইন রাখা জরুরি

- জংলি জোঁক থেকে বাঁচতে পায়ে বড় মোজা পড়া যেতে পারে কিংবা সঙ্গে লবণ রাখা ভালো

- বনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার্থে যেখানে সেখানে পলিথিন, খাবারের উচ্ছিষ্ট, প্যাকেট, এবং পানির বোতল ফেলা যাবে না
পরিশিষ্ট

হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যে ট্রেইল তিনটির যেকোনো একটির ট্রেকিং-এ পাওয়া যাবে সারা জীবনের জন্য অমূল্য এক অভিজ্ঞতা। তাই শতভাগ উপভোগের জন্য পুরো ট্যুরের জন্য ন্যূনতম ২ দিন সময় নিয়ে যাওয়া উচিত। পাখিপ্রেমিদের জন্য রীতিমত স্বর্গরাজ্য বলা যেতে পারে এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলটিকে। এছাড়াও যত গহীনে প্রবেশ করা যাবে সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ততই বিস্ময়ের খোরাক যোগাবে। উপরন্তু, স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোতে মিলবে প্রাচীন ঐতিহ্য এবং জীবনযাত্রার নিদর্শন। সব মিলিয়ে এই অভয়ারণ্য এক স্বতন্ত্র বাস্তুতন্ত্রের আশ্রয়স্থল, যার সুরক্ষার দিকে দর্শনার্থীদেরও খেয়াল রাখা জরুরি।

নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: অজানা ও রহস্যময় জনপদ অন্বেষণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নাম ট্রেকিং, যেখানে ভাঙতে হয় দুঃসাহসিকতা ও শারীরিক সহনশীলতার বাঁধ। পিলে চমকে দেওয়া উচ্চতায় বিস্তৃত বীথিকাজুড়ে আন্দোলিত হয় ভয়ঙ্কর সুন্দরের উপাখ্যান। নতুন কিংবা অভিজ্ঞ; যে কোনো ট্রেকারের মনেই এই নৈসর্গ সৃষ্টি করে দুর্গমকে আলিঙ্গনের এক অদম্য নেশা। আর ঠিক এ কারণেই অবিস্মরণীয় হিমালয়ের বুকে নেপালের অন্নপূর্ণা পরিণত হয়েছে ট্রেকারদের স্বর্গরাজ্যে। এই জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য নিয়েই আজকের ভ্রমণ নিবন্ধ। চলুন, অন্নপূর্ণা ভ্রমণের উপায় ও প্রয়োজনীয় খরচ নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

অন্নপূর্ণার ভৌগলিক অবস্থান
উত্তর-মধ্য নেপালের গন্ডাকি প্রদেশের অন্নপূর্ণা পর্বতশ্রেণীর প্রধান পর্বত অন্নপূর্ণা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৮ হাজার ৯১ মিটার। এর সুপরিচিত ট্রেকিং অঞ্চলটি হলো ৭ হাজার ৬২৯ বর্গ-কিলোমিটারের অন্নপূর্ণা কন্জার্ভেশন এরিয়া। এখানকার ট্রেকিং রুটগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় হলো-

·  অন্নপূর্ণা অভয়ারণ্য থেকে অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্পের রুট

·  অন্নপূর্ণা হিমাল ও জমসম রুটসহ অন্নপূর্ণা সার্কিট

·  জমসন থেকে জোমসম ও মুক্তিনাথ মন্দিরের রুট

এছাড়াও ঘোরেপানি বা ঘান্ড্রুকের মতো আরও কিছু প্রসিদ্ধ রুট রয়েছে। প্রায় সবগুলো রুটের‌ই শুরু হয় পোখারা শহর থেকে। বিভিন্ন আকারের হওয়ায় প্রত্যেকটি রুট অতিক্রম করতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের প্রয়োজন হয়। ন্যূনতম ৩ থেকে ৪ দিন থেকে শুরু করে কোনো কোনো রুটে ২ সপ্তাহেরও অধিক সময় লেগে যায়।

নেপালের পর্যটন ভিসা আবেদনের পদ্ধতি
সার্কভুক্ত দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য নেপালে রয়েছে বিনামূল্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা। মূলত ১৫ দিনের কম সময়ের জন্য ভ্রমণ করা হলে কোনো ভিসা ফি’র প্রয়োজন হয় না। বিমানবন্দরেই কাস্টম্সের সময় ‘পর্যটন ভিসা’ এবং ‘আগমন কার্ড’-এর জন্য দরকারি ফর্ম পূরণ করা যায়। তবে বাংলাদেশে থাকা অবস্থায় নেপাল অভিবাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেও ভিসার আবেদন করা যায়। এতে করে কাস্টম্সে সময় বাঁচে। ভ্রমণের ন্যূনতম ১০ দিন আগে থেকে আবেদন জমা দেওয়া যায়।

আবেদনের লিংক: https://nepaliport.immigration.gov.np/on-arrival/IO01

এই পর্যটন ভিসার আবেদনের জন্য যে নথিপত্র লাগবে, তা হচ্ছে-

·  নেপালে পৌঁছার দিন থেকে কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ থাকা বৈধ পাসপোর্ট

·  সম্পূর্ণ পূরণ করা ভিসা আবেদন ফর্ম

·  সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি

·  জন্ম সনদ অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড)

বিমানবন্দরে অভিবাস সংক্রান্ত কাজের সময় সঙ্গে রিটার্ন টিকেট, নেপালে হোটেল বুকিংয়ের কাগজ, এবং পাসপোর্ট রাখতে হবে।

এরপর ট্রেকিংয়ের জন্য অতিরিক্ত পার্মিট নিতে হবে। একটি এসিএপি (অন্নপূর্ণা কন্জার্ভেশন এরিয়া প্রোজেক্ট) অফিস থেকে এসিএপি পার্মিট। এর জন্য পাসপোর্ট আর ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগে। পার্মিট ফি ১ হাজার নেপালি রুপি বা ৮৮৯ টাকা (১ নেপালি রুপি = ০ দশমিক ৮৯ বাংলাদেশি টাকা)।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে- টিআইএমএস (ট্রেকিং ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) কার্ড, যার জন্য খরচ হবে আরও ১ হাজার রুপি (৮৮৯ টাকা)।

অন্নপূর্ণা ভ্রমণে কি কি দেখবেন
রাজকীয় পর্বতমালার পটভূমিতে এখানে রয়েছে অবারিত রডোডেনড্রন বন, আলপাইন তৃণভূমি ও হিমবাহ উপত্যকা। চোখে পড়ে তুষার চিতাবাঘ, নীল ভেড়া ও দুর্লভ প্রজাতির পাখি। অনন্য সংস্কৃতির প্রতিনিধিরূপে বহুকাল ধরে এখানে বসবাস করছে গুরুং, থাকালি ও মানাঙ্গির মতো সম্প্রদায়গুলো। ফলে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় জন কোলাহলের গ্রামগুলোতে দেখা যায় প্রাচীন মঠের মতো নানা ধর্মীয় স্থান।

তন্মধ্যে ঘোরেপানি গ্রামের কাছাকাছি অবস্থিত পুন হিল অন্নপূর্ণা ও ধৌলাগিরি রেঞ্জ সূর্যোদয় দর্শনের জন্য বিখ্যাত।

তিব্বতি শৈলীতে প্যাগোডার মতো ছাদ ও জটিল কাঠের খোদাইয়ে গড়ে তোলা হয়েছে মুক্তিনাথ মন্দির। এখানে পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১০৮টি জলধারা সম্বলিত স্থাপনা মুক্তিধারা। ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে মন্দির কমপ্লেক্সের মধ্যে রয়েছে একাধিক চিরন্তন শিখার ‘জ্বালা মাই’।

মন্দিরের পেছনে অভিজাত থুরং লা পাস এবং অন্নপূর্ণা ও ধৌলাগিরি পর্বতমালার তুষারাবৃত শৃঙ্গ।

নার্ফু নদীর পাশে রয়েছে নিঃসঙ্গ অথচ অপরুপ সুন্দর নার্ফু ভ্যালি। মাস্তাঙ জেলার উপরের অংশে পাওয়া যাবে নেপালের প্রাচীন গুপ্ত শহর লো মান্থাংর দেখা। তিলিকো লেকের স্বচ্ছ পানিতে চারপাশের পাহাড়ের প্রতিফলন যেন সম্মোহনের নামান্তর।

ট্রেকারদের যাত্রা বিরতির জন্য জনপ্রিয় স্টপেজ ঘান্ড্রুক গ্রাম, যেখান থেকে পাহাড়ি বীথিকার সবচেয়ে আশ্চর্য রূপটা দেখা যায়।

থুরং লা পাস ধরে ৫ হাজার ৪১৬ মিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় চোখে পড়ে অন্নপূর্ণা ১, ২, ৩ ও ৪, মানাস্লু, গঙ্গাপূর্ণা ও ল্যাংট্যাং হিমাল।

অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ের সেরা সময়
অতিরিক্ত তুষারপাতের কারণে শীতকালে প্রায়ই ট্র্যাক বন্ধ থাকে। অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হচ্ছে বসন্তকাল। অর্থাৎ মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের সময়কে বেছে নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া শীতের আগ দিয়ে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মৌসুমটাও ভালো।

সরাসরি নেপালের ফ্লাইট এবং হোটেল বুকিং করবেন যেভাবে

অভিবাসন সংক্রান্ত কাজের জন্য আগাম ফ্লাইট টিকেট এবং হোটেল বুকিং করে নেওয়াটা জরুরি। বিমানের টিকেটের জন্য অনলাইন পোর্টালগুলোর মধ্যে রয়েছে গোজায়ান, ফ্লাইট এক্সপার্ট ও শেয়ার ট্রিপ। এগুলোতে রাউন্ড ট্রিপের টিকেট কিনতে খরচ হতে পারে মাথাপিছু ৩৪ হাজার ৯১১ থেকে ৩৬ হাজার ২৫৫ টাকা।

শেয়ার ট্রিপ ও গোজায়ানের মাধ্যমে প্রতি রাতের জন্য জনপ্রতি ৬৯৪ টাকা থেকে ৪ হাজার ৫১৩ টাকার মধ্যে হোটেল বুকিং দেওয়া যাবে।

কাঠমান্ডু ও পোখারার অনেক ট্রাভেল স্টোরে স্লিপিং ব্যাগ ও ডাউন জ্যাকেট ভাড়া পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে স্লিপিং ব্যাগ ভাড়া প্রতিদিনের জন্য ২০০ থেকে ৫০০ রুপি বা ১৭৮ থেকে ৪৪৪ টাকা। অপরদিকে, ডাউন জ্যাকেট ভাড়া দিনপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ রুপির (১৭৮ থেকে ৩৫৬ টাকা) মধ্যে।

অন্নপূর্ণার সামগ্রিক ভ্রমণ খরচ কেমন হতে পারে
একদম নতুনদের জন্য অন্নপূর্ণা ভ্রমণে গাইড সঙ্গে নেওয়া আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিনের জন্য গাইডকে দিতে হতে পারে ৩ থেকে ৪ হাজার রুপি (২ হাজার ৬৬৬ থেকে ৩ হাজার ৫৫৫ টাকা)।

বিভিন্ন আকারের পাহাড়ি পথগুলোতে যাত্রা পথে থাকার জন্য ট্রেকারদের প্রথম পছন্দ থাকে ট্রি-হাউসগুলো। প্রতি রাতের জন্য এখানে ভাড়া দিতে হয় ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রুপি (৩৫৬ থেকে ১ হাজার ৩৩৩ টাকা) পর্যন্ত। এখানে সরবরাহকৃত খাবারের দাম সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ রুপির (৪৪৪ থেকে ১ হাজার ৩৩৩ টাকা) মধ্যে হয়ে থাকে।

তবে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো যাত্রার জন্য খাবারের জন্য দিনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার রুপি (১ হাজার ৭৭৮ থেকে ২ হাজার ৬৬৬ টাকা) বাজেট রাখা উচিত। শহরের রেস্তোরাঁ বা স্ট্রিট ফুডগুলোতে খরচ হতে পারে ২০০ থেকে ৫০০ রুপি (১৭৮ থেকে ৪৪৪ টাকা)।

পদব্রজে ভ্রমণ শুরুর পূর্বে যানবাহনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শেয়ার্ড জিপের খরচ জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৮০০ রুপি (৪৪৪ থেকে ৭১১ টাকা)। তবে লোকাল বাসে এই খরচটা ২০০ থেকে ৩০০ রুপিতে (১৭৮ থেকে ২৬৭ টাকা) নেমে আসে। তবে কাঠমান্ডু থেকে সরাসরি পোখারার ট্যুরিস্ট বাসের টিকেট মূল্য জনপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ রুপি (৮৮৯ থেকে ১ হাজার ৬৭ টাকা)।

সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১৪ দিনের ট্রেকিংয়ের উদ্দেশ্যে নেপাল ভ্রমণের জন্য সম্ভাব্য বাজেট ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বাজেট ৫৩ হাজার ৩২৭ থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৫৪ টাকার সমান।

ট্রেকিংয়ের জন্য যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি
·  মাইনাস ১৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় থাকার জন্য উপযোগী কাপড়-চোপড় সঙ্গে নেওয়া

·  কাপড়ের ফেব্রিক পলেস্টার বা সিনথেটিক হওয়া উচিত। এতে করে ঘামে ভিজে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা থাকে না।

·  পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটার জন্য আরামদায়ক বুট, ট্রেকিং স্যান্ডেল ও ৩ থেকে ৪ জোড়া মোজা

·  ক্যামেরার সঙ্গে চার্জারসহ অতিরিক্ত ব্যাটারি ও পাওয়ার ব্যাংক

·  ব্যাগ খুব ভারী হওয়া চলবে না

·  পাঞ্চ টাইপের রেইনকোর্ট

·  ত্বকের আর্দ্রতার জন্য পেট্রোলিয়াম জেলি

·  পোলার্ড আইস সানগ্লাস

·  পাতলা ও মোটা মোট ২ রকমের গ্লাভ্স

·  পাসপোর্ট ও এনআইডির মূল্য কপির সঙ্গে ফটোকপি ও কমপক্ষে ৬ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি |

ট্রেকিংয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ নিতে হবে। এছাড়াও নিতে হবে:

·  মেডিকেল ফার্স্ট এইড

·  হেক্সিসল (বিমানে বহন নিষেধ, তাই নেপালে প্লেন থেকে নেমে কিনে নিতে হবে)

·  ওয়ান টাইম ব্যান্ড এইড ও মাইক্রোপোর ব্যান্ডেজ

·  আইস কুল ম্যাক্স

শেষাংশ 

নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিং মানেই অমূল্য এক অভিজ্ঞতা, যেখানে বিস্ময়কর প্রকৃতির সঙ্গে সন্নিবেশ ঘটে অনন্য জনগোষ্ঠীর সান্নিধ্য। এই অভিজ্ঞতা লাভের জন্য নেপালের অন-অ্যারাইভাল ভিসার পাশাপাশি নিতে হবে এসিএপি ও টিআইএমএস পার্মিট। বৈচিত্র্যপূর্ণ পাহাড়ি পথগুলোর কোনো কোনোটি অতিক্রম করতে ২ সপ্তাহেরও বেশি সময় লেগে যায়। তাই ভ্রমণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকা জরুরি। ট্রেকিংয়ের সময় যাত্রা বিরতির জন্য স্লিপিং ব্যাগ বা ডাউন জ্যাকেট নেওয়া একই সঙ্গে আরামদায়ক ও রোমাঞ্চকর। সর্বোপরি, একটি স্বাস্থ্যকর ট্রেকিং অভিজ্ঞতার জন্য ওষুধপত্রসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামগুলো সঙ্গে রাখা অপরিহার্য।

কক্সবাজার সৈকতে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখলেন পর্যটকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখলেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। নতুনের আহ্বানে পুরোনো সূর্যকে বিদায় জানাতে উত্তাল সমুদ্র সৈকতে সমবেত হয় হাজারো মানুষ। উপভোগ করেন বছরের শেষ সূর্যাস্ত। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে লাল সূর্য যখন ধীরে ধীরে সমুদ্রের বুকে অস্তমিত হচ্ছিল, তখন সবাই মেতে ওঠেন আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। হাত নেড়ে বিদায় জানান বছরের শেষ সূর্যকে।

বিকেলে সৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, সমুদ্রে সৈকতে স্নান ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন পর্যটকরা। কেউ টায়ার টিউবে গা ভাসাচ্ছেন, কেউ জেটস্কি নিয়ে সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, কেউবা আবার ঘোড়া ও বিচ বাইকে উঠে সৈকতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

অনেকে মেরিন ড্রাইভ ধরে দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সৈকতে ঘুরছেন। এছাড়া সেন্টমার্টিন, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, রামু বৌদ্ধপল্লী, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ঘুরছেন কেউ কেউ।

বরিশাল থেকে আগত পর্যটক সিফাত বলেন, বছরের শেষ সূর্যাস্ত উপভোগ করলাম। নতুন বছরে অনেক কিছু চাওয়া। 

আরেক পর্যটক জিকু বলেন, বছরের শেষ সূর্যাস্তের সঙ্গেই প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসেব নিয়ে বিদায় দিলাম আরও একটি বছর। ২০২৩ কে বিদায় দিয়ে ২০২৪ কে বরণ করে নিলাম। অনেক ভালো লাগছে।

এদিকে নিরাপত্তার কারণে উন্মুক্ত পর্যায়ে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন নেই থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে। এতে পর্যটক আগমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রতি বছর হোটেল-মোটেলে ৮০-৯০ শতাংশ আগাম বুকিং হলেও এ বছর একবারে কম। 

হোটেল রয়েল টিউলিপের এজিএম নাভিদ চৌধুরী বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে উন্মুক্ত অনুষ্ঠান আয়োজনে বিধিনিষেধ ও নির্বাচনের কারণে পর্যটক তেমন আসেনি। প্রায় রুম খালি।

কক্সবাজার বার্মিস দোকানের ব্যবসায়ী  আব্দুল হক বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে আতশবাজি ও ফানুস বিক্রি বেশি হয়। কিন্তু এই বছর পর্যটক না থাকায় ও নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিক্রি হচ্ছে না। 

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের পরিদর্শক গাজী মিজানুর রহমান বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রয়েছে কক্সবাজার। ২৫টি টিম কাজ করবে বিচে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘুরে আসুন গোয়ার ‘চোরাও’ দ্বীপে


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ভারতের গোয়ায় চোরাও দ্বীপ কোনো লুকানো রত্ন নয়। কারণ দ্বীপটি রাজধানী শহর পাঞ্জিম থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে। চোরাও অত্যন্ত নির্মল। যারা দর্শনীয় স্থান হাতছাড়া করতে পারেন না, চোরাও দ্বীপ তাদের জন্য সঠিক জায়গা।

এ দ্বীপকে অনন্য ও জনপ্রিয় করে তুলেছে—প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রাণবন্ত বন্যপ্রাণী, ঐতিহ্যবাহী গোয়ান শিকড়। চোরাও দ্বীপ নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে।

পাঞ্জিম ও আশেপাশের সমুদ্র সৈকত এবং নাইটলাইফের সঙ্গে তুলনা করলে, চোরাও দ্বীপ হলো—যেখানে আপনি সমস্ত কিছু ছেড়ে দিতে আসেন। কেননা এখানকার নীরবতা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

রিবন্দর থেকে ফেরিতে করে চোরাও দ্বীপে যাওয়া যায়। ফেরি যাত্রাও খুব সহজ। মান্ডোভি নদীতে ১০ মিনিটের ফেরি যাত্রা আপনাকে জমকালো ম্যানগ্রোভের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাবে। 

আসল মজা অবশ্য শুরু হয় ফেরি থেকে নামার পর। ফেরি পয়েন্টের ঠিক মুখে, অত্যন্ত বিখ্যাত সেলিম আলী পাখি অভয়ারণ্যের প্রবেশদ্বার, যা ভারতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাখি বিশেষজ্ঞ সেলিম আলীর নামে নামকরণ করা হয়েছে।ডক্টর সেলিম আলী ছিলেন একজন প্রখ্যাত পক্ষীবিদ ও ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের একজন। 

অভয়ারণ্যটি কিংফিশার, ঈগল, হেরন এবং অনেক প্রজাতির পরিযায়ী পাখিসহ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করে। পুরো ভারত ও বিশ্ব থেকে পাখি পর্যবেক্ষক এবং প্রকৃতি প্রেমীরা এই এভিয়ান ওয়ান্ডারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা নিতে আসেন। এই পাখি অভয়ারণ্য আপনাকে আপনার চোরাও অভিজ্ঞতার একটি ভালো শুরু দেবে।

এখান আপনি দেখবেন কোনো ভিড় নেই, কোনো যানজট নেই, কোনো ব্যস্ত রাস্তা নেই। গোয়ার অন্যান্য অংশের তুলনায় এখানকার রাস্তাগুলো শান্ত এবং আশেপাশের পরিবেশ সবুজ।

গোয়ায় বেড়াতে আসা বেশিরভাগ লোকই শহরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য একটি গাড়ি বা স্কুটি ভাড়া করে থাকে। আপনি যদি স্কুটিতে থাকেন তবে আপনিও এই দ্বীপে যাত্রা করতে পারবেন। ধীরে ধীরে রাইড করুন ও প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং সবুজাভ উপভোগ করুন।

আপনি পথে ছোট ছোট গ্রামের মধ্য দিয়ে যাবেন, স্থানীয়দের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অভিজ্ঞতার জন্য এগুলো সেরা উপায়। চোরাও দ্বীপের আকর্ষণ হলে নিখুঁত শান্ত জীবিকা, যা আপনাকে আকর্ষণ করবে।

পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে সিকিম, মানতে হবে যে নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: অবশেষে খুলছে উত্তর সিকিমের দরজা। ২৯ নভেম্বর বুধবার সিকিম পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যটন সংস্থাগুলোর নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য লাচুং খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনই খোলা হচ্ছে না লাচেন ও গুরুদংমার।

তবে নির্দেশনায় কিছু নিষেধাজ্ঞার কথাও জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, উত্তর সিকিমে পৌঁছাতে হলে পর্যটকদের সংকলন-টং-চুংথাং সড়ক হয়েই যেতে হবে। বিকেল ৪টার পর থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

সিকিমের প্রশাসনিক সূত্রে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, বন্যার ক্ষত থেকে এখনো সেরে উঠতে পারেনি সিকিম। দিনরাত কাজ করে উত্তর সিকিমের সঙ্গে বাকি অংশের যোগাযোগ স্থাপন করেছে ভারতীয় সেনারা। লোহার সেতু তৈরি করে বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো বহু রাস্তা তৈরির কাজ শেষ হয়নি। সেই কারণেই উত্তর সিকিম যাওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত কিছু কড়াকড়ি থাকছে।

এ বিষয়ে রাজ্যের ইকো ট্যুরিজম দপ্তরের চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, উত্তর সিকিমের ক্ষেত্রে আমরা পর্যটকদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, হাতে সময় নিয়ে সিকিম ভ্রমণে আসুন। তুষারপাতের মৌসুম আসতে চলেছে। কাজেই আমরা পর্যটকদের এক দিন গ্যাংটকের আশপাশে থেকে পরের দিন উত্তর সিকিম যেতে আবেদন জানাচ্ছি। এখনো অনেক রাস্তাঘাট তৈরি হয়নি।

লোনাক হ্রদের ওপর মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং তার জেরে জলস্তর বেড়ে গিয়ে গত অক্টোবর মাসে উত্তর সিকিম জুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল তিস্তা নদী। ভেঙে গিয়েছিল সিকিমের চুংথাম বাঁধ। তিস্তায় হড়পা বানের জেরে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকিয়ং, গ্যাংটক, নামচি ও মঙ্গন জেলা। সিকিম যাওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেসে যায় বহু সেতু। তখন থেকেই পর্যটকদের জন্য উত্তর সিকিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

ভ্রমণে যাওয়ার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভ্রমণ করতে ভালো লাগে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন। দেশ থেকে বিদেশে ঘুরে বেড়ানো, পৃথিবীর নিখুঁত বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য অবলোকন করতে সবাই চায়। একঘেয়েমি জীবন থেকে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে ভ্রমণ অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তবে ভ্রমণে যাওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি যেটা জরুরি সেটা হলো প্রস্তুতি। ভ্রমণ তখনই আনন্দের হবে, যখন আপনার প্রস্তুতি থাকবে সুন্দর ও গোছানো। প্রতিটি কাজের পেছনেই সঠিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার কমপক্ষে দুদিন আগে প্রস্তুতি নিয়ে নিবেন। দূরে কোথাও ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক সপ্তাহ আগে প্রস্তুতি নিতে পারেন। শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি ভ্রমণের জন্য জরুরি। ভ্রমণে যাওয়ার আগে যেসব প্রস্তুতি নিতে হবে সেসব তুলে ধরা হলো।

যেভাবে ব্যাগ গুছাবেন

কোথায় যাচ্ছেন এবং কতদিন থাকবেন তার ওপর নির্ভর করে আপনার ব্যাগে কী কী নেবেন। তবে ব্যাগের ওজন সমসময় চেষ্টা করবেন হালকা রাখার। একটা ভারী ব্যাগ আপনার ভ্রমণ আনন্দ মাটি করে দিতে পারে। ভ্রমণের আগে ব্যাগ গোছানোর সময় মন দিয়ে দেখুন কী কী জিনিসপত্র আপনার লাগবে। মনে রাখবেন ছোট ছোট অনেকগুলো ব্যাগ না নিয়ে চেষ্টা করবেন একটি ব্যাগেই সব নিতে। এতে আপনার গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্রগুলো হারানোর ঝুঁকি অনেক কম থাকে।

ভ্রমণে যেসব পোশাক নিবেন

আপনার ভ্রমণের লোকেশন কোথায় সেটার ওপর নির্ভর করবে আপনার পোশাক বাছাই করা। কারণ যে স্থানে ভ্রমণ করার জন্য যাবেন সেখানকার আবহাওয়া কেমন সেটাও জানতে হবে। আবহাওয়া অনুযায়ী সঠিক পোশাক নির্বাচন করা খুব জরুরি। এতে আপনার ভ্রমণ হবে আরামদায়ক। শীতের সময় ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাপনিরোধক কাপড়ের তৈরি জামা পরিধান করতে হবে। ভ্রমণে জামার রং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উজ্জ্বল রঙের পোশাকে ছবি সুন্দর হয়। উজ্জ্বল রঙে মনও ফুরফুরে থাকে। এ ছাড়াও রাতে ঘুমানোর পোশাক, মোজা, মাফলার ইত্যাদি লাগেজের একপাশে রাখবেন। রাতের জন্য হালকা ও আরামদায়ক পোশাক নেওয়ার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার আবহাওয়া অনুযায়ী হলে বেশ ভালো। মোজা, মাফলার ইত্যাদি যে কদিন থাকবেন সেই হিসাবে নেবেন।

যেসব জিনিস নিতে ভুলবেন না

ব্রাশ, পেস্ট, শ্যাম্পু, চিরুনি, ক্রিম/লোশন, লিপজেল, সানগ্লাস, ছোট আয়না, স্কার্ফ, চিরুনি, লাইট, ক্যাপ/হ্যাট, রুমাল, ওয়েট টিস্যু ইত্যাদি জিনিস একটা আলাদা ছোট ব্যাগে নিয়ে নিন। পুরুষরা যারা নিয়মিত সেভ করেন তারা রেজর-ফোম, এসব নিতে ভুলবেন না। নারীরা মেকআপ কিট বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস এ ব্যাগেই নিতে পারেন। আপনার স্যান্ডেল-জুতাও পলিথিন বা কাগজে মুড়িয়ে লাগেজের একপাশে রাখতে পারেন। আপনার ভ্রমণ যদি দেশের ভেতর হয় তাহলে অবশ্যই ব্যাগে একটা ছাতা রাখবেন। তাই ব্যাগে ছাতা রাখাটা হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

বেড়াতে গিয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে কে না চায়? তাই ক্যামেরা সঙ্গে রাখতে পারেন। তা ছাড়া মোবাইলেও আজকাল ভালো ছবি ওঠে। তাই মোবাইলের স্পেস খালি রাখবেন ভ্রমণে যাওয়ার আগে। সে ক্ষেত্রে চার্জার, মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি ব্যাগে ঢুকাতে ভুলবেন না। আর মোবাইল চার্জারের পাশাপাশি একটি পাওয়ার ব্যাংকও সঙ্গে রাখুন। ল্যাপটপ নিলে অবশ্যই মনে করে তার চার্জারটি ব্যাগে রাখতে ভুল করবেন না। সবচেয়ে ভালো হয়, সব চার্জার এবং গ্যাজেট একটা ব্যাগে রাখলে। তাহলে প্রয়োজনের সময় সহজে খুঁজে পাবেন। বেশ কয়েকজন মিলে বন্ধুরা যখন ভ্রমণে যাই দেশে হোক আর বিদেশেই হোক সবাই মিলে মোবাইল, ক্যামেরা চার্জ দিতে গেলে বিপাকে পড়তে হয়। যথেষ্ট সংখ্যক চার্জিং পয়েন্ট না থাকায় এ সমস্যায় অনেকেই পড়েন। এজন্য একটা ছোট মাল্টিপ্লাগ সঙ্গে থ্রি-পিন থেকে টু-পিন কনভার্টার ব্যাগে রাখা ভালো।

সেইসঙ্গে হালকা শুকনো খাবার, পানি ও আপনার প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়াও যে কোনো ধরনের ঘটনা কিংবা বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে অবশ্যই নিজের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড রাখুন।

ভ্রমণের হিসাব-নিকাশ

টাকা-পয়সা ছাড়া তো ভ্রমণের কথা চিন্তাই করা যায় না। ভ্রমণে যাওয়ার আগে ভ্রমণের হিসাব-নিকাশ করে ফেলা ভালো। কত টাকা খরচ করবেন সে অনুযায়ী বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে। যে দেশ বা স্থানে যাবেন সে অনুযায়ী কিছু পরিমাণ নগদ টাকা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন। সেখানে এটিএম কার্ডের ব্যবহার আছে কিনা কিংবা বুথ পাওয়া যাবে কিনা সে ব্যাপারে আগেই জেনে নিন। এ ছাড়া বিকাশ কিংবা মোবাইলে লেনদেন করা যায় এমন কোনো অ্যাকাউন্ট থাকলে ভ্রমণে কাজে আসবে। অবশ্যই মোবাইলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যালান্স রাখবেন।

ভ্রমণসঙ্গী যদি শিশু হয়

আপনার ভ্রমণসঙ্গী হিসাবে আপনার শিশুড়-সন্তান থাকতেই পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই তার বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। তার খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ভ্রমণ অনুষঙ্গ গুছিয়ে নিতে হবে সবার আগে। কারণ বেড়াতে গিয়ে শিশুর যদি কোনো সমস্যা হয়, তাহলে বেড়াতে যাওয়াটাও তখন নিরানন্দের হয়ে যায়। তাই আপনার ছোট্ট ভ্রমণসঙ্গীর জন্য চাই বাড়তি সতর্কতা।

ক্লান্তি দূর করতে যা করবেন

ভ্রমণে যাওয়ার আগে অনেক সময় বাস-ট্রেন কিংবা প্লেনের জার্নি বোরিং লাগে। অনেকেই এ সময়টুকু উপভোগ করতে পারেন না। এ সময়টুকু উপভোগ করতে আপনি সঙ্গে দু-একটা বই নিন। অবশ্যই সেটা আপনার প্রিয় লেখক এবং পছন্দের বই হলে ভালো হয়। প্লেন, বাস বা ট্রেনে বসে পড়তে পারবেন। এ ছাড়া আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন তাহলে খাতা-কলম নিতে পারেন সঙ্গে। হঠাৎ কোনো জরুরি তথ্য পেলে নোট করা যাবে তাতে। তা ছাড়া বলা তো যায় না, কোনো সুন্দর স্থান দেখে আপনার ভেতর কবিতাও চলে আসতে পারে। ভ্রমণে যাবার আগে অবশ্যই আপনার পছন্দসই গান নিয়ে নেবেন। গানে গানে পথ চললে ভ্রমণ আরও উপভোগ্য হবে।

যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

যানবাহন থেকে নামার সময় কোনো মালপত্র ফেলে গেলেন কি না সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নামার সময় তাড়াহুড়া করা যাবে না। মানি ব্যাগ, ক্রেডিট কার্ড সাবধানে রাখবেন। সব টাকা মানিব্যাগে না রেখে কিছু টাকা অন্য কোনো জায়গা কিংবা আপনার ভ্রমণসঙ্গীর কাছে রাখবেন। একটি কার্ডে আপনার ঠিকানা লিখে রাখবেন। ব্যাগ হারিয়ে গেলে কেউ পেয়ে থাকলে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। খোলামেলা অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাওয়া যাবে না। পরিমিত খাবার এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন। সন্ধ্যার পর অথবা বেশি রাত পর্যন্ত হোটেলের বাইরে অবস্থান করবেন না। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করতে গেলে। অবশ্যই শিশুদের দিকে লক্ষ্য রাখুন। ভ্রমণের সময় অপরিচিত লোকদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকুন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন