নিজস্ব প্রতিবেদক: চলছে শ্রাবণের ভরা বর্ষা। অথচ ঈশ্বরদী অঞ্চলের ফসলের মাঠে এখনও সেই চিরচেনা রূপ নেই। খালের পানিতে টইটম্বুর থাকার কথা যে জমিগুলো, সেগুলোর বড় অংশজুড়ে এখন কৃত্রিম উপায়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আমন মৌসুমে অনাবৃষ্টির এমন দৃশ্য গত কয়েক বছর ধরেই দেখছেন এ এলাকার কৃষকেরা।
একসময় ঈশ্বরদীর আকাশে মেঘ দেখা দিলেই কৃষকের মুখে হাসি ফুটত। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি এখন ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিতে।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনাবৃষ্টির কারণে সময়মতো জমি তৈরি ও চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকেরা। অনেক স্থানে সেচযন্ত্রের সাহায্যে কোনোক্রমে কাদা তৈরি করে চারা লাগানো হচ্ছে। এতে চাষিদের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগস্টের শুরু পর্যন্ত আবাদ হয়েছে মাত্র ২১০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার সাড়ে ৫ শতাংশেরও কম। অবশ্য কৃষি বিভাগ জানায়, অধিকাংশ জমিতে পাট থাকায় এবং জলাশয়ে পানি না থাকায় কৃষকেরা সময়মতো পাট কাটতে ও পচাতে পারছেন না। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে পাট কেটে ধান লাগানো সম্ভব হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করছে দপ্তরটি।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে ৩১৮ দশমিক ০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে বৃষ্টি হয়েছিল ৩৯৪ দশমিক ৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার জুলাইয়ে প্রায় সাড়ে ৭৬ মিলিমিটার কম বৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার সলিমপুর ও সাঁড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, অনাবৃষ্টির কারণে এবার বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানি চালিত যন্ত্র দিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। ডিজেল, সার, কীটনাশক ও অতিরিক্ত শ্রমিকের মজুরি মেটাতে গিয়ে আমনের উৎপাদন ব্যয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ধান কাটার পর উপযুক্ত দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয়ে রয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু জানান, আগস্টের শেষ দিক পর্যন্ত আমন চারা রোপণের সময় রয়েছে। বৃষ্টি শুরু হলে দ্রুতই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। সাময়িকভাবে কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানি তুলে চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


