নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন শতাধিক গ্রাহক। সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জামানতের টাকা সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আত্মগোপন করেছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, ধারদেনা করে সঞ্চয়ের টাকা জমা দিয়ে ঋণের জন্য এসে তাঁরা কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখেন।
অভিযোগটি উঠেছে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল শহীদপাড়া এলাকায় পরিচালিত ‘উদয়ন প্রোডাক্ট সেলিং সার্ভিস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক হাসান মাহমুদ লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে বাঘইল শহীদপাড়া এলাকার রুবেল হোসেনের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যালয় চালু করেন হাসান মাহমুদ। এরপর আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজন নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলামকে ব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ জামানত নেওয়ার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
ব্যবস্থাপক মহিদুল ইসলাম জানান, যাচাই-বাছাই না করেই তিনি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে নারী কর্মীদের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক সদস্য সংগ্রহ করা হয়। তাঁর দাবি, সহজ শর্তে ঋণ ও পণ্য দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা জামানত সংগ্রহ করেন হাসান মাহমুদ। এরপর জরুরি কাজের কথা বলে তাঁকে ঢাকায় পাঠিয়ে রাতারাতি আত্মগোপন করেন।
মহিদুল আরও বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় এখন ভুক্তভোগীরা তাঁকে দোষারোপ করছেন। অথচ প্রতারণার বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। এ ঘটনায় তিনি পাকশী পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি হাসান মাহমুদের সন্ধানদাতাকে ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়েছেন।
বাড়ির মালিক রুবেল হোসেন জানান, কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়াই তিনি বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন। বর্তমানে ভুক্তভোগীদের প্রশ্নের পাশাপাশি প্রশাসনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে।
অভিযুক্ত হাসান মাহমুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, সংস্থার নামে প্রতারণার বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। তবে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

.jpg)
.jpg)


