প্রতারণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতারণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ‘মিস্ট্রাল এআই’র ১৫ কোটি টাকার প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ‘মিস্ট্রাল এআই’ নামে একটি অনলাইন প্রতারক চক্র প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করে গা ঢাকা দিয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কম সময়ে অধিক মুনাফা, বেকারদের কর্মসংস্থান এবং পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে এই অর্থ নেওয়া হয়। শনিবার শহরের রেলওয়ে গেট এলাকার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে মানববন্ধন ও পথসভায় অংশ নিয়ে ভুক্তভোগীরা এ অভিযোগ করেন। এর আগে তাঁরা ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

গ্রাহকদের ভাষ্য, গত জুনে ঈশ্বরদীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক জমকালো সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা নিজেদের পরিচয় দেন। তাঁরা বলেন, ‘মিস্ট্রাল এআই’ গুগলের সহযোগী এবং বিল গেটসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। মাত্র ৪০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগের কয়েক গুণ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিদিনের বোনাসসহ স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনের স্বপ্ন দেখানো হয়।

এই প্রলোভনে পড়ে ঈশ্বরদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার ১ হাজার ৮৮৭ জন ব্যক্তি নানা অঙ্কে টাকা জমা দেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৫ কোটি টাকা নেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এর কিছুদিন পর থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

মানববন্ধন ও অভিযোগপত্রে যাঁদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুলাডুলি ইউনিয়নের বাদল হোসেন খান মাহফুজ, আব্দুল বারেক খান, বিপ্লব খান; পৌর এলাকার ইয়াছিন হোসেন; সলিমপুরের চরমিরকামারী গ্রামের জাহিদ হাসেন এবং নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি গ্রামের ফারুক হোসেন।

ভুক্তভোগীদের একজন জানান, অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতারণার অভিযোগে নাম উঠে আসা ইয়াছিন হোসেন দাবি করেন, ‘আমি নিজেও প্রতারণার শিকার। তারা আমাকে শুধু টাকা সংগ্রহে ব্যবহার করেছে।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

ঈশ্বরদীতে ভুয়া বিমান কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা, তিনজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে শহরের ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নিউ কলোনি এলাকার আজগর হোসেনের ছেলে আল আমিন (২২), বাপ্পি আলমের ছেলে শিহাব হোসেন (২০) এবং মৃত দিলসের ছেলে মো. নাদিম হোসেন (২৯)।

পুলিশ তাদের কাছ থেকে তিনটি ওয়াকিটকি, বিমানবাহিনীর ভুয়া পরিচয়পত্রসহ বেশ কিছু কাগজপত্র জব্দ করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজেকে বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারকেরা ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার এক ওয়ার্কশপ মালিক জাবেদ খানের দুই ছেলেকে ‘ড্রোন গার্ড’ পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। এ জন্য তারা মোট ১০ লাখ টাকা দাবি করে।

২ এপ্রিল জাবেদের কাছ থেকে প্রথম দফায় ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর ‘ভেরিফিকেশন’ ও ‘মিষ্টি খাওয়ানোর’ কথা বলে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে চক্রটি।

জানা গেছে, চাকরিপ্রার্থীদের রাজশাহীতে নিয়ে গিয়ে সামান্য শারীরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং কিছু রেশনসামগ্রী হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বলা হয়, আগামী ১৮ মে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

২০ মে তারা জাবেদের বাড়িতে গিয়ে একটি অস্বাভাবিক চুক্তিপত্র দেয়। এতে সন্দেহ হলে জাবেদ খান ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, গোপনে তদন্ত চালিয়ে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে শ্যালক-দুলাভাইয়ের প্রতারণায় নিঃস্ব খামার ব্যবসায়ী

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ঈশ্বরদীতে আশিক রহমান ও মাহাবুবুর রহমান শিমুল নামে শ্যালক ও দুলাভাইয়ের প্রতারণার শিকার হয়েছে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন প্রতিষ্ঠিত ডেইরি খামার ব্যবসায়ী হুমায়ন কবীর সাহান।

শনিবার দুপুরে উপজেলা সদরের  অরণকোলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী খামারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে প্রতারকদের শাস্তিসহ টাকা ফেরতের দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সাহান জানান, অরনকোলা গ্রামে তার মেসার্স মা ডেইরি ফার্ম ও কাবির ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্ম নামে আমার দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি ও তার স্ত্রী সুমি ডেইরি ফার্ম দুটি পরিচালনা করেন। এ ছাড়া ঈশ্বরদী বাজারে মিতি ইলেকট্রনিক্স নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি করতে ঈশ্বরদীর অরণকোলা এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে ৭ বছর থেকে খালাতো ভাই  আশিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসার কাজে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করায় ব্যাংকের চেকের ফাঁকা পাতা স্বাক্ষর দিয়েছিলেন। প্রায় ৩-৪ বছর ধরে আশিক তার ব্যবসার যাবতীয় আর্থিক লেনদেন করেন। এভাবে আশিক কৌশলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিশাল টাকার মালিক হয়েছেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে আশিকের কাছ থেকে ডেইরি ফার্মসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব চাইলে তিনি হিসেব দেননি।

তিনি  অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয়ভাবে আশিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন সময়ে এক কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এই হিসেবে কিছু টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে তার হিসেব নম্বরে জমাও দিয়েছেন। এখন টাকা দিচ্ছেন না। টাকা চাইলেই প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. আবুল হাসেম, পাবনা জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য শফিউল আলম বিশ্বাস, সমাজ সেবক মিজানুর রহমান মিনহাজ, মাসুদ জোয়ার্দ্দার, কাশেম প্রামানিক ও মোছা. সুমি খাতুনসহ কয়েক শ এলাকাবাসী।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে আশিক রহমান মোবাইল ফোনে জানান, পারিবারিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সম্পুর্ন কাল্পনিক, মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে ও আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে  সংবাদ সম্মেলন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সুষ্ঠ, নির্ভেজাল বিচারের দাবী জানান তিনি।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন