পরীক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পরীক্ষা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রথম বিসিএসেই প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ঈশ্বরদীর দিপু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর মো. নূরে আলম দিপু ৪৭তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েই তিনি এ সাফল্য অর্জন করেছেন।

রোববার বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে।

জানা গেছে, নূরে আলম দিপু ঈশ্বরদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম এবং মা নাছিমা আক্তার।

তিনি ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।

দিপুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় আরামবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তিনি এয়ারপোর্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইক্ষু গবেষণা উচ্চবিদ্যালয় এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে পড়াশোনা করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নূরে আলম দিপু বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমত এবং বাবা-মায়ের দোয়ায় আমি এই সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় যে শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের শিক্ষা পেয়েছি, তা বিসিএসের দীর্ঘ প্রস্তুতির পথে আমাকে অনেক সহায়তা করেছে। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের সেবা করতে পারি।’

লালপুরে একসঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন বাবা-মেয়ে

লালপুর প্রতিনিধি: দীর্ঘ ২৫ বছর পর নিজের ইচ্ছা পূরণে ৪০ বছর বয়সে আবারও পড়াশোনা শুরু করেন চায়ের দোকনদার আব্দুল হান্নান। নিজের ইচ্ছাকে বাস্তবে রুপ দিতে এ বছর নাটোরের লালপুর থেকে মেয়ে হালিমা খাতুন (১৫) সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন ৪০ বছর বয়সের বাবা আব্দুল হান্নান। 

উপজেলার লালপুর থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

মেয়ে হালিমা খাতুন নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস হাই স্কুলের মানবিক শাখা থেকে লালপুর শ্রীসুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং আব্দুল হান্নান রুইগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখা থেকে লালপুর থানা বালিকা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।

আব্দুল হান্নান বলেন, ১৯৯৮ সালে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হই। তারপর আর লেখাপড়া করা হয়নি। এরপর বাবার দোকানে চায়ের ব্যবসা শুরু। চায়ের দোকানের ব্যবসার পাশাপাশি নিজস্ব জমিজমা চাষ করতেন তিনি। সেই দোকানের আয় ও জমিজমা চাষ করে স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়েকে নিয়ে সংসার জীবনে বেশ ভালো আছেন।

তাহলে এ বয়সে আবারও পড়াশোনা কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল হান্নান বলেন, ছাত্রজীবনের এসএসসি পাসের প্রবল ইচ্ছা দিনে দিনে তার মধ্যে প্রবল থেকে প্রবলতর হতে থাকে। এজন্য ২০২১ সালে তিনি উপজেলার রুইগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম (ভোকেশনাল) শ্রেণিতে ভর্তি হন।

এই বয়সেও বাবা এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ায় খুশি মেয়ে হালিমা খাতুন। সে বলে, বাবাকে নিয়ে আমি অনেক গর্ব করি। আমার বাবার অনেক মেধা আছে, ইচ্ছা শক্তি আছে। তাই এ বয়সে লেখাপড়া করার প্রবল ইচ্ছার কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন তিনি। শিক্ষার কোনো বয়স নেই। সব বয়সে সবাই পড়াশোনা করতে পারে। তাই আমার বাবাকে দেখে অন্যরা পড়াশুনায় অনুপ্রাণিত হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন