নাশকতা-সহিংসতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নাশকতা-সহিংসতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

নাশকতা ঠেকাতে কমলাপুর রেল স্টেশনে র‍্যাবের টহল জোরদার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় জনগণের জানমাল রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‍্যাব বলছে, দুষ্কৃতিকারীরা কোনো অবস্থাতেই যেন কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করতে না পারে সেজন্য সার্বক্ষণিক টহল ও রোবাস্ট পেট্রোল জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দার মাধ্যমে ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতাকারীদের ওপর কঠিন নজরদারি রাখা হচ্ছ। 

২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রেল যোগাযোগের নিরাপত্তা জোরদারকরণ বিষয়ক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-৩ অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবর হতে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ, গাড়িতে বোমা হামলা ও বিভিন্ন এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা বিপুল সংখ্যক চাঞ্চল্যকর নাশকতাকারীকে গ্রেপ্তারসহ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দেশের সর্বস্তরের মানুষের নিকট  সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি রাজধানী র‌্যাব-৩ এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় গত ২৮ অক্টোবর হতে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিকভাবে আহুত হরতাল ও অবরোধের নামে সাধারণ মানুষের ওপর বোমা হামলা, গাড়িতে অগ্নি সংযোগ, পেট্রোল বোমা ও ট্রেনে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এতে করে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, টাঙ্গাইলে কমিউটার ট্রেনে, মৌলভীবাজারে পারাবত ট্রেনে, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে দেশের জনসাধারণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে নাশকতা করার অপচেষ্টা চলছে।

নাশকতাকে কেন্দ্র করে জনগণের জানমাল রক্ষার্থে র‌্যাব-৩ কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় কঠোরভাবে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। দুষ্কৃতিকারীরা কোনো অবস্থাতেই যেন কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করতে না পারে তার জন্য র‌্যাব-৩ সার্বক্ষণিক টহল প্রদানের মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান করছে।

ইতোমধ্যে র‍্যাবের বিভিন্ন গোয়েন্দার মাধ্যমে ট্রেনে আগুন জ্বালিয়ে নাশকতাকারীদের উপর কঠিন নজরদারি রাখা হচ্ছ। এছাড়াও যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড দমন ও আইন শৃঙ্খলার স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রাখতে র‌্যাব-৩ বদ্ধপরিকর। 

সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারকরণের লক্ষ্যে র‌্যাব-৩ এর আওতাধীন এলাকায় একাধিক পেট্রোলের সমন্বয়ে রোবাস্ট পেট্রোল পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তা পেট্রোল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে।

নাশকতা-সহিংসতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী নিয়োজিত থাকবে র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি-জামায়াতসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ৩ দিনের জন্য দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ কোনো ধরনের নাশকতা ও জনমানুষের জানমালের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য সারাদেশেই র‌্যাবের সকল ব্যাটালিয়নের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সোমবার সন্ধ্যায় র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘৩১ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তিনদিনের জন্য দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এতে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষা করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব।’

তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‌্যাব ফোর্সেসের ১৫টি ব্যাটালিয়নের তিন শতাধিক টহল নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি কার্যক্রম চলবে। কেউ যদি কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা সহিংসতার পরিকল্পনা করে তাকে সাথে সাথে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘যেকোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‌্যাব ফোর্সেসের স্পেশাল টিম ও স্টাইকিং ফোর্স রিজার্ভ রাখা হয়েছে। যেকোনো নাশকতা ও সহিংসতা প্রতিরোধে র‌্যাব ফোর্সেস সার্বক্ষণিক দেশব্যাপী নিয়োজিত থাকবে।’

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দুষ্কৃতকারী ও সন্ত্রাসীরা নাশকতা ও সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। যারা এ ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে শনাক্তপূর্বক আইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করছে র‌্যাব।’

‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অনলাইনে স্বার্থান্বেষী ও সুযোগ সন্ধানীমহল বিভিন্ন উসকানিমূলক তথ্য, মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়াচ্ছে’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এডিট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম এসব দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সার্বক্ষণিক সাইবার জগতে নজরদারি রাখছে।’

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন