ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, রোজা শুরু রোববার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল রোববার রমজানের প্রথম দিন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

সে হিসেবে আজ এশার নামাজের পর তারাবির নামাজ পড়বেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

শনিবার  বাদ মাগরিব ইসলামিক ফাউন্ডেশনে এক ব্রিফিংয়ে রমজানের চাঁদ দেখার তথ্যটি নিশ্চিত করেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।  

এদিকে, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আজ প্রথম রমজান পালিত হচ্ছে। শুক্রবার সৌদি আরবের আকাশে পবিত্র মাহে রমজানের চাঁদ দেখা গেছে বলে এক্স হ্যান্ডলে জানায় হারামাইন শরিফ।  

এবার প্রথম দেশ হিসেবে রমজানের তারিখ ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। এরপর সর্ববৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকেও একই ঘোষণা আসে।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিবেশী ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। এ কারণে এ দুটি দেশে বাংলাদেশের সঙ্গে ২ মার্চ থেকে পবিত্র রমজান শুরু হবে।

মালয়েশিয়ায় সরকারি সংবাদ সংস্থা বার্নামার বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার রাজা, সুলতান ইব্রাহিমের আদেশ এবং শাসকদের সম্মতির ভিত্তিতে ২ মার্চ দেশের সব রাজ্যে রোজার প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রিয়নবী সা. যেভাবে দোয়া করতে পছন্দ করতেন

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: আল্লাহর কাছে দোয়া করা, চাওয়া, প্রার্থনা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। দোয়া শুধু চাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং রবের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার একটি উপায়। বান্দা যতবেশি আল্লাহর কাছে চাইবে আল্লাহ তাকে দান করবেন, অপূর্ণতা পূর্ণ করবেন, তৃপ্তি ও প্রাপ্তিতে ভরিয়ে দেবেন মন।

মানুষের অপূর্ণতার শেষ নেই। চেষ্টা করেও অনেক কিছুর পূর্ণতা করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় চেষ্টা করেও হতাশার দেখা মেলে। অথচ চেষ্টা ও আল্লাহর কাছে প্রাথর্না দুটিই একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মুমিন চেষ্টা করবে এবং দোয়া করবে, আল্লাহ তায়ালা পূর্ণতা দেবেন, এটাই মুমিনের জীবনের সৌন্দর্য।

কখনো আল্লাহর কাছে চাওয়া থেকে বিরত হওয়া উচিত না। মানুষ চাইতে লজ্জা পেলেও আল্লাহ তায়ালা দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেন না। কোরআনের একাধিক জায়গায় তিনি তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে বলেছেন। পৃথিবীর সাধারণ নিয়মে একজন আরেকজনের কাছে চাইলে দাতার মাঝে বিরক্তি আসে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে দিতে ভালোবাসেন। এজন্য তিনি দিন-রাতের এমন কিছু মুহূর্ত রেখেছেন যখন বান্দা চাইলেই তিনি দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা আমার কাছে দোয়া করো। আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব’ (সূরা মুমিন, আয়াত : ৬০।)

মানুষের প্রয়োজনের শেষ নেই। আল্লাহ তায়ালার ভাণ্ডারেও কোনো কিছুর অভাব নেই। তিনি বান্দাকে দিতে ভালোবাসেন। শেষ রাতে মানুষকে চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে এক হাদিসে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন—

‘আমাদের রব প্রতি রাতে দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন, যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে। তিনি বলেন—কে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দেব; কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৪৫)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসূল সা. বলেছেন, রাতে আল্লাহ তার দয়ার হাত প্রসারিত করেন যেন দিবসের অপরাধী তার কাছে তাওবা করে। এমনিভাবে দিনে তিনি তার হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতের অপরাধী তাঁর কাছে তাওবা করে। এমনিভাবে দৈনন্দিন চলতে থাকবে পশ্চিম দিগন্ত থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। (মুসলিম, হাদিস : ৬৮৮২)

বিভিন্ন বিষয়ে চাওয়ার জন্য হাদিসে বিভিন্ন ধরনের দোয়া বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সা. নিজেই দোয়ার পদ্ধতিগুলো সাহাবিদের শিখিয়েছেন। রাসূল সা. অল্প শব্দে বহুল অর্থবোধক দোয়অ পছন্দ করতেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অল্প শব্দে বহুল অর্থবোধক দুআ পছন্দ করতেন এবং তা ছাড়া অন্য দোয়া পরিহার করতেন।’ (আবূ দাউদ ১৪৮২, আহমাদ ২৭৬৫০, ২৭৬৪৯)


আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অধিকাংশ দোয়া এই হত,

اَللهم آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আ-তিনা ফিদ্দুন্য়্যা হাসানাহ, অফিল আ-খিরাতে হাসানাহ, অক্বিনা আযাবান্নার।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমাদেরকে ইহকালে কল্যাণ দাও এবং পরকালেও কল্যাণ দাও। আর জাহান্নামের আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাও। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫২২, ৬৩৮৯, মুসলিম, হাদিস : ২৬৮৮, তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৮৩)

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ, আমি হাজির) ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাতের ময়দান। শনিবার (১৫ জুন) আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন সারা বিশ্ব থেকে জড়ো হওয়া ১৮ লাখের বেশি হজযাত্রী। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এই ময়দানেই অবস্থান করবেন তারা। মূলত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটস এ খবর জানিয়েছে।

মক্কা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল ময়দানে সেলাইবিহীন সাদা দুই খণ্ড কাপড় পরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজির থেকে ইবাদত বন্দেগিতে কাটানোই হল হজ। শুক্রবার রাতেই অধিকাংশ হজযাত্রীকে মোয়াল্লিমরা গাড়িতে করে নিয়ে আসেন আরাফাতে নির্ধারিত তাঁদের তাঁবুতে। অনেকে শনিবার সকালেও আসেন। এখানে হজযাত্রীদের ফজর ছাড়াও এক আজান ও দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন।

শনিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টার দিকে আরাফায় অবস্থিত মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের মূল খুতবা দেন মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ মাহের বিন হামাদ আল-মুআইকিলি। খুতবাটি হজরত মুহাম্মদ (স.) এর বিখ্যাত বিদায় হজের ভাষণের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ১৪০০ বছরের বেশি সময় আগে এখানেই বিশ্বনবি হজরত মুহাম্মদ (স:) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এ কারণে আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না।

সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে মাগরিব না আদায় করেই হজযাত্রীরা যাবেন মুযদালিফার উদ্দেশে। সেখানে যাওয়া মাত্র মাগরিব ও এশা এক আজানে, দুই ইকামাতে আদায় করেন। এখানে উন্মুক্ত আকাশের নিচে মাথা খোলা অবস্থায় রাত্রি যাপন করবেন হজযাত্রীরা। শয়তানের উদ্দেশে পাথর সংগ্রহ করতে হয় মুজদালিফায় অবস্থানের সময়,রাত কিংবা সকালে। এ জন্য বিশেষ ধরনের ছোট ছোট পাথর ছড়িয়ে রাখা হয় পুরো মুযদালিফাজুড়ে।

১০ জিলহজ সকালে মুজদালিফা থেকে মিনায় এসে বড় জামরায় সাতটি পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। এরপর মিনায় কোরবানির পশু জবাই করতে হয়। কোরবানির পরপরই মাথা মুণ্ডন করার নিয়ম রয়েছে।

হজের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকতা কাবাঘর প্রদক্ষিণ, যা ১১ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে সম্পন্ন করতে হয়। ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ধারাবাহিকভাবে ছোট,মধ্যম ও বড় জামরায় সাতটি করে ২১টি পাথর নিক্ষেপ করতে হয় প্রতিদিন।

১০-১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় রাতযাপন করতে হয়। কেউ মিনা ত্যাগ করতে চাইলে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগে চলে যেতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মিনা ত্যাগ করতে না পারলে ১৩ জিলহজ মিনায় অবস্থান করতে হবে। সেদিন সাতটি করে আরো ২১টি পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। দেশে রওনা হওয়ার আগে তাওয়াফ করতে হয়,যাকে বিদায়ী তাওয়াফ বলে।

শনিবার প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ১৬৪ জন হজ পালন করছেন। এর মধ্যে ১৬ লাখ ১১ হাজার ৩১০ জন বিদেশি আর ২ লাখ ২১ হাজার ৮৫৪ জন সৌদির হজযাত্রী। এর মধ্যে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসিসহ বেশ কয়েকজন মুসলিম নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন।

এই বছর ১২ বছর পর সিরিয়ার হজযাত্রীদের প্রথমবারের মতো হজ করতে দেখা গেছে।

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর যেসব গুণ


নিজস্ব প্রতিবেদক: আয়াতুল কুরসি মর্যাদার দিক থেকে কোরআনের সর্ববৃহৎ আয়াত। এটি পবিত্র কোরআনের সূরা বাকার ২৫৫ নম্বর আয়াত। আয়াতটি কোরআনের তিন নম্বর পারার প্রথম পৃষ্ঠায় অবস্থিত।

হাদীসে এ আয়াতের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কোরআনের মধ্যে কোন আয়াতটি সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ? উবাই ইবনে কাব বললেন, তা হচ্ছে আয়াতুল কুরসি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা সমর্থন করে বললেন, হে আবুল মুনযির! জ্ঞান তোমার জন্য সহজ হোক’।  (মুসলিম, হাদিস, ৮১০)

আয়াতুল কুরসির ফজিলত সম্পর্কে এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল-কুরসি নিয়মিত পাঠ করে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র মৃত্যু ছাড়া অন্য কোন অন্তরায় থাকে না। (নাসায়ী,হাদিস, ১০০)

আয়াতুল কুরসি আরবি :  اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুঁও ওয়ালা নাউম। লাহু মা-ফিসসামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান জাল্লাজি ইয়াশফা’উ ইনদাহু ইল্লা বিইজনিহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহিতুনা বিশাইইম মিন্ ইলমিহি ইল্লা বিমা- শাআ। ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহু হিফজুহুমা ওয়া হুয়াল আলিয়্যূল আজিম।

আয়াতুল কুরসির অর্থ : আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তারই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁকে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।

আয়াতুল কুরসিতে আল্লাহর যেসব গুণ বর্ণনা করা হয়েছে, আয়াতুল কুরসির বিশেষ গুরুত্বের কারণ হলো- এ আয়াতে মহান রব আল্লাহ জাল্লা-শানুহুর একক অস্তিত্ব, তাওহীদ ও গুণাবলীর বর্ণনা এক অত্যাশ্চর্য ও অনুপম ভঙ্গিতে দেয়া হয়েছে, যাতে আল্লাহর অস্তিত্ববান হওয়া, জীবিত হওয়া, শ্রবণকারী হওয়া, দর্শক হওয়া, বাকশক্তিসম্পন্ন হওয়া, তার সত্তার অপরিহার্যতা, তার অসীম-অনন্ত কাল পর্যন্ত থাকা, সমগ্র বিশ্বের স্রষ্টা ও উদ্ভাবক হওয়া, যাবতীয় ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া, সমগ্র বিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি হওয়ার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে। 

এছাড়াও এখানে আল্লাহ তায়ালার এমন শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারী হওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে যাতে তার অনুমতি ছাড়া তার সামনে কেউ কোন কথা বলতে পারে না। এবং বলা হয়েছে, তিনি এমন পরিপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী যাতে সমগ্র বিশ্ব ও তার যাবতীয় বস্তুনিচয়কে সৃষ্টি করা এবং সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং তাদের শৃংখলা বজায় রাখতে গিয়ে তাকে কোন ক্লান্তি বা পরিশ্রান্তির সম্মুখীন হতে হয় না এবং এমন তিনি ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী, যাতে কোনো প্রকাশ্য কিংবা গোপন বস্তু কিংবা কোন অণু-পরমাণুর বিন্দু-বিসর্গও যাতে বাদ পড়তে পারে না। 

এই হচ্ছে আয়াতটির মোটামুটি ও সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু। আল্লামা ইবনে কাসীর বলেন, এ আয়াতটিতে দশটি বাক্য রয়েছে। প্রতিটি বাক্যের সাথেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে।

অজু ছাড়া শিশুদের কোরআন স্পর্শ করতে দেওয়া যাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র কোরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআন মানব জাতির হেদায়েতের জন্য অবতীর্ণ করেছেন। মক্কার হেরা গুহায় কোরআনের প্রথম আয়াত ‘ইকরা’ অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে সবার জন্য কোরআনের বিধান মানা অপরিহার্য। এর বাইরে অন্য কিছু অবলম্বন বা ভাবার কোনও সুযোগ নেই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘এটা সে কিতাব; যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হেদায়েত। (সূরা বাকারা, (২). আয়াত, ২)

আল্লাহর কালাম পবিত্র কোরআন সর্বাধিক পবিত্র ও সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। তাই কোরআনের পবিত্রতা ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখার জন্য দৈহিক পবিত্রতার শর্তারোপ করা হয়েছে। যেন কোরআন স্পর্শ করার ও তা পাঠ করার ক্ষেত্রে কোনো অসম্মান প্রকাশ না পায়। বিখ্যাত চার মাজহাবের ইমামদের ফতোয়া এটাই। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিগণও এ ফতোয়া দিয়েছেন।

ইমাম নববি ও ইমাম তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘পবিত্র হওয়া ছাড়া কোরআন স্পর্শ করা নিষিদ্ধ— এই বিষয়ে মতামত দিয়েছেন হজরত আলী, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, সালমান, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) প্রমুখ সাহাবি। অন্য সাহাবিদের এর বিপরীত কোনো অভিমত নেই।’ (শরহুল মুহাজ্জাব : ২/৮০; মাজমুউল ফাতাওয়া : ২১/২৬৬)

অনুরূপভাবে এ বিষয়ে রয়েছে একাধিক বিশুদ্ধ হাদিস। আবদুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেন, রাসুল (সা.) আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কোরআন কেউ স্পর্শ করবে না।’ (মুয়াত্তা মালিক, হাদিস, ৬৮০; কানজুল উম্মাল, হাদিস, ২৮৩০; মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদিস, ২০৯, আল-মুজামুল কাবির, হাদিস, ১৩২১৭, আল মুজামুস সাগির, হাদিস, ১১৬২, সুনানে দারেমি, হাদিস, ২২৬৬)

আবদুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ : ৫১২)

কোরআন তিলাওয়াত বা স্পর্শ করার ক্ষেত্রে পবিত্রতার বিধান বালেগ এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোনো অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুর ক্ষেত্রে বিধান আরোপ হয় না। এবং তার কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

رفع القلم عن ثلاثة: عن الصغير حتى يبلغ، وعن النائم حتى يستيقظ، وعن المجنون حتى يفيق

তিন ব্যক্তির উপর থেকে (দায়িত্বের) কলম উঠিয়ে নেয়া  হয়েছে, (১) ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত (২) শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত এবং (৩) পাগল বিবেকবুদ্ধি ফিরে পাওয়া পর্যন্ত। (আবু দাউদ, হাদিস, ৪৪০৩ তিরমিজি,  হাদিস, ১৪২৩ নাসাঈ, হাদিস, ৩৪৩২, ইবনে মাজাহ, হাদিস, ২০৪১)

তাই কোনো নাবালেগ বা অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু অজু ছাড়া কোরআন স্পর্শ করলে তার কোন গুনাহ হবে না। তবে বড়দের উচিত, শিশুকে এই শিক্ষা দেয়া যে, কোরআন অজু ছাড়া ধরা যায় না।

তাশাহহুদ শেষ করার আগে ইমাম দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: নামাজে বৈঠক বসা ফরজ কাজ। আর বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব বা আবশ্যক। প্রতি দুই দুই রাকাআত পর পর বৈঠকে বসতে হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে নামাজ আদায় করতাম, তখন আমরা বলতাম- ‘আসসালামু আলা জিবরিলা ওয়া মিকাইলা ওয়া আসসালামু আলা ফুলান ওয়া ফুলান।’ তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা নিজেই তো সালাম। তাই যখন তোমরা কেউ নামাজ আদায় করবে, তখন সে যেন তাশাহুদ বলে...

যদি কোনো ব্যক্তি চার রাকাত বিশিষ্ট্য নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহুদ শেষ করার আগেই ইমাম তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান, তাহলে তার জন্য করণীয় হলো- সে তাশাহুদ শেষ করে তারপর দাঁড়াবে। কেউ যদি তাশাহহুদ না পড়েই ইমামের সঙ্গে শরিক হয়ে যায় তার নামাজও হয়ে যাবে। 

তবে যদি ইমামের সাথে তৃতীয় রাকাত না পাওয়ার আশংকা দেখা দেয় তাহলে তাশাহুদ না পড়েই দাঁড়িয়ে যেতে হবে। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/১৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া : ১/৯৬; শরহুল মুনয়া পৃষ্ঠা ৪৫৯; রদ্দুল মুহতার : ১/৪৯৬)

মুমিন মুসলমানের উচিত নামাজের শেষ বৈঠকে বসার মাধ্যমে ফরজ আদায় করা। আর তাশাহহুদ পড়ে ওয়াজিব পালন করা জরুরি। তাই প্রত্যেকের তাশাহুদ জেনে রাখা আবশ্যক। এখানে উচ্চারণসহ তাশাহহুদ উল্লেখ করা হয়েছে।

আরবি : التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

উচ্চারণ : আত্তাহিইয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াছ ছালাওয়াতু ওয়াত ত্বাইয়্যিবাতু, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিছ ছালিহীন, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

অর্থ : সমস্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবি! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ ব্যতিত আর কোনো মাবুদ নাই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল।

মহানবী সা. যেভাবে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন


নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষকে দেখানো যেকোনো আমলের পরিণতি ভয়াবহ। এক হাদিসে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত,  রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য এবং মানুষের নিকট প্রসিদ্ধি লাভ করার জন্য কোনো আমল করে— আল্লাহ তাআলা তার অবস্থা মানুষকে শুনিয়ে দেবেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তাআলা তাকে রিয়াকারীর শাস্তি দেবেন। (বুখারি, হাদিস, ২/৯৬২; মুসলিম, হাদিস, ২/৪১২; তিরমিজি, হাদিস, ২/৬১; ইবনে মাজাহ, হাদিস, ২/৩১০; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস, ৩/৪০; শুয়াবুল ঈমান, হাদিস, ৫/৩৩০)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের উপর যে জিনিসটিকে বেশি ভয় করি, তা হলো- ছোট শিরক। সাহাবিরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ছোট শিরক কী? তিনি উত্তর দিলেন, রিয়া। আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন যখন মানুষকে তাদের আমলের বিনিময় দেবেন, তখন রিয়াকারীকে বলবেন- যাও দুনিয়াতে যাদের তোমরা তোমাদের আমল দেখাতে— দেখ তাদের নিকট কোনো সাওয়াব পাও কিনা?’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস, ২৩৬৮১)

মানুষকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়াও ভয়ংকর অপরাধ। এ বিষয়ে হজরত আবু সাঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদের এমন বিষয় অবহিত করবো না, যা আমার মতে তোমাদের জন্য মসীহ দাজ্জালের চেয়েও ভয়ংকর? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, হ্যাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, গোপন শির্ক। মানুষ সালাত পড়তে দাঁড়ায় এবং লোকের দৃষ্টির কারণে সুন্দরভাবে সালাত আদায় করে।’ (ইবনে মাজাহ)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সাহাবিরা নিজেদের মধ্যে দাজ্জালের ফিতনার আলোচনা করত এবং তাকে খুব ভয় করত। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জানিয়ে দেন যে, এখানে এমন একটি বিপদজনক বিষয় রয়েছে যাকে তিনি দাজ্জালের ফিতনার চেয়ে অধিক ভয় করেন। আর তা নিয়ত ও ইচ্ছার মধ্যে শির্ক যা একজন মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়। তারপর তিনি তার ব্যাখ্যা করেন যে আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয় সে আমলকে লোক দেখানোর জন্য সুন্দর করাই শির্ক

তওবা করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: শয়তানের ধোকায় পড়ে মানুষ গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তবে গুনাহ করা মানুষদের আল্লাহ তায়ালা আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করছ, তোমার আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল। পরম দয়ালু।’ (সূরা জুমা, আয়াত, ৫৩)

একজন মুসলিম যখন গুনাহ করে ফেলে, তখন তার প্রথম কাজ হলো— তওবা করা। তাওবা মানে গুনাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করা। আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘তোমরা যদি পাপাচার করতে, এমনকি তোমাদের পাপ আকাশের সীমা পর্যন্ত পৌঁছে যেত, অতঃপর তোমরা তওবা করতে; তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের তওবা কবুল করবেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস, ৪২৪৮)

তওবা করার নিয়ম হলো- যেসব গুনাহ করেছেন তার ওপর অনুতপ্ত হওয়া আব্যশক এবং ভবিষ্যতে আর কখনো গুনাহ না করার করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। এর জন্য তওবার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ পড়াও উত্তম।

এই নামাজ অন্যান্য নামাজের মতোই। শুধু নামাজ পড়ার শুরুতে তওবার নিয়ত করে নিতে হবে। যেমন, নিয়তের সময় এভাবে বলবেন যে, হে আল্লাহ ! আমি দুই রাকাত তওবার নামাজ পড়ছি, আপনি নামাজ কবুল করুন। এরপর নামাজের বাকি কাজগুলো অন্য নামাজের মতোই হবে। এতে আলাদা কোনো নিয়ম নেই। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হৃদয়ে দোয়া করতে হবে, গুনাহ থেকে মাফ চাইতে হবে।

তবে তওবা করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো মানুষের সঙ্গে অন্যায় করা হলে বা অন্যায়ভাবে কারো হক নষ্ট করলে তার কাছে মাফ চেয়ে নিতে হবে। কারণ, যার হক নষ্ট করা হয়েছে, তার কাছে মাফ না চাওয়া পর্যন্ত তওবা কবুল হবে না। তার হক আদায় ও তার নিকট মাফ চাওয়া তওবা কবুলের পূর্বশর্ত। (তিরমিজি, হাদিস. ৪০৬, শরহুন নবভি : ১৭/৫৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ২/২৩৯)

শিশুর কপালে কালো টিপ দেওয়া যাবে?


নিজস্ব প্রতিবেদক: অনেকে বদ নজর থেকে রক্ষার জন্য শিশুর কপালে কালো টিপ দেয়। আলেমরা বলেন, এটা ঠিক নয়। কারণ, কপালের কালো টিপ বদ নজর রোধ করে না। শিশুকে বদ নজর ইত্যাদি থেকে রক্ষা করার জন্য কী করতে হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শিখিয়েছেন।

সহীহ বুখারির এক হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন রা. এর জন্য এই দোয়া পড়ে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন- أُعِيْذُكُمَا بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَّمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

বাংলা উচ্চারণ :  উয়িযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন।

অর্থ : সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদনজর হতে তোমাদেরকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের আশ্রয়ে দিচ্ছি।

দোয়াটি এক সন্তানের জন্য পড়লে ‘উয়ীযুকা’, দুইজনের জন্য ‘উয়ীযুকুমা’ আর দুইয়ের অধিক হলে ‘উয়ীযুকুম’ বলতে হবে। এর সাথে আয়াতুল কুরসী, তিন কুল ও হাদীসের অন্যান্য  দোয়া তো আছেই।

তবে কেউ যদি সৌন্দর্য বা সাজ হিসেবে শিশুর কপালে কালো টিপ দিতে চায়, তাহলে দিতে পারবে। কিন্তু নজর না লাগার জন্য কালো ফোঁটা দেওয়ার কোনো বিধান নেই। এজন্য সুন্নত দোয়া, কালাম, সূরা পড়ে শিশুকে সুরক্ষিত রাখাই শরীয়তের বিধান।

ফজর নামাজ পড়া সহজ হবে যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করে তার জৈবিক চাহিদা পূরণ করার অনেকগুলো মাধ্যম দিয়েছেন। এসবের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো ঘুম। ঘুম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য অনন্য এক নেয়ামত।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তিনিই নিজ রহমতে তোমাদের জন্য রাত-দিন বানিয়েছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম নিতে পার ও আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার।’ (সূরা কাসাস, আয়াত, ৭৩)।

অপর এক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমাদের ঘুমকে ক্লান্তি ঘুচানোর উপায় বানিয়েছি এবং রাতকে বানিয়েছি আবরণস্বরূপ।’ (সূরা নাবা, আয়াত, ৯-১০)। 

এই আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তায়ালা মানুষের সারা দিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি ও বিষণ্ণতা দূর করার জন্য অনন্য এক নেয়ামত দান করেছেন,  আর তা হলো, ঘুম।

এ অনন্য নেয়ামত ঘুম দিয়েই আল্লাহ তায়ালা ক্ষ্যান্ত হননি; বরং ঘুম নামক এ নেয়ামত ভোগ করার জন্য রাতকে নির্বাচন করেছেন। কারণ, মানুষের আরামদায়ক ঘুম তখনই আসে, যখন তার চারপাশ সুনসান নীরবতা বিরাজ করে এবং কোনো ধরনের হট্টগোল ও হৈচৈ না থাকে। যে কারণে অধিক রাত না জেগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুমিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাজ এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ দেরি করে পড়া পছন্দ করতেন। আর এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর না ঘুমিয়ে গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। (বুখারি, হাদিস, ৫৯৯)।

এসব কিছু সামনে রেখে একজন মানুষ যখন ঘুমাতে যায়, তখন মানবজাতির ঘোষিত প্রকাশ্য চিরশত্রু শয়তান মানুষের কাছে চলে আসে। তার ঘাড়ে তিনটি গিঁট দেয়।

হাদিসে বর্ণিত আছে, মানুষ যখন ঘুমাতে যায়, তখন শয়তান তার ঘাড়ে তিনটি গিঁট দেয়; প্রতিটি গিঁট দেয়ার সময় বলে, এখনও দীর্ঘ রাত আছে, তুমি আরও ঘুমাও। এরপর যখন সে ব্যক্তিটি ঘুম থেকে জাগ্রত হয় এবং আল্লাহকে স্মরণ করে (অর্থাৎ ঘুমের দোয়া পড়ে), তখন শয়তানের প্রথম গিঁট খুলে যায়। এরপর যখন সে অজু করে, তখন শয়তানের দ্বিতীয় গিঁট খুলে যায়। অতঃপর যখন সে ফজরের নামাজ আদায় করে, তখন শয়তানের তৃতীয় গিঁট খুলে যায়। ফলে সে ব্যক্তি আনন্দ চিত্তে প্রফুল্ল মনে উদ্যমের সঙ্গে সকাল যাপন করে। আর যে ব্যক্তি শয়তানের দেয়া তিনটি গিঁট খোলে না (অর্থাৎ উক্ত তিনটি আমল করে না), সে বিষণ্ণ মনে অলসভাবে মন্দ মন নিয়ে সকাল যাপন করে। (বুখারি, হাদিস, ১১৩১)

অতএব, এ কথা স্পষ্ট, যে ব্যক্তি হাদিসে বর্ণিত তিনটি আমল করে শয়তানের গিঁট খোলে, এর প্রভাব তার সারাদিনের কাজ-কর্ম ও আমল-আখলাকসহ সব ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়। আর তাই তার সব কাজ উদ্যমতার সঙ্গে তৃপ্তিসহ ত্রুটি-মুক্তভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আর হওয়াটাই স্বাভাবিক।

অপরদিকে যে ব্যক্তি (আমলের মাধ্যমে) ওই গিঁট খোলে না, এভাবেই তার দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়, এক সময় এসব গিঁট মিলেমিশে মহাগিঁটে পরিণত হয়, তখন তার কাজ-কর্মে, আমলে-আখলাকে কুফলের প্রভাব প্রতিফলিত হয়। তখন তার কোনো কাজই সুচারুরূপে তৃপ্তিসহ ত্রুটিমুক্ত আদায় হয় না। আর না হওয়াটাই স্বাভাবিক।

মাথা ঢেকে টয়লেটে যাওয়ার বিধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবজীবনের সব ক্ষেত্রে ইসলামের বিধি-বিধান পরিব্যাপ্ত। জীবনের খুঁটিনাটি থেকে বৃহৎ— প্রত্যেকটি কিছুর বর্ণনা ও সমাধান রয়েছে ইসলামে। কারণ, ইসলাম আল্লাহ কর্তৃক মানুষের জন্য মনোনীত জীবনব্যবস্থা। ফলে ইসলামের প্রতিটি বিষয় জীবনঘনিষ্ঠ বা জীবনের সঙ্গে জড়িত। আর এর থেকে বাদ যায়নি প্রস্রাব-পায়খানার মতো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ও।

আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি তোমাদের জন্য পিতার মতো। আমি তোমাদের সব কিছু শিক্ষা দিয়ে থাকি। তোমরা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে কেবলাকে সামনে বা পেছনে দিয়ে বসবে না। ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করবে না।’ তিনি তিনটি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা ঢিলা করা থেকে বারণ করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস, ০৭)

উল্লিখিত হাদিসে বর্ণিত নির্দেশনা ছাড়াও প্রস্রাব-পায়খানার নির্দিষ্ট আদব ও শিষ্টাচার রয়েছে, এর মধ্যে একটি হলো- মাথায় টুপি দেওয়া বা কোনো কাপড় রাখা। কারণ, টুপি বা কোনো কাপড় ইত্যাদি দ্বারা মাথা ঢেকে টয়লেটে যাওয়া উত্তম। একটি মুরসাল হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টয়লেটে (ইস্তিঞ্জাখানায়) প্রবেশের সময় জুতা পরিধান করতেন এবং মাথা ঢেকে নিতেন। (আস সুনানুল কুবরা, বায়হাকি : ১/৯৬)।

খলিফাতুল মুসলিমিন হজরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ও অন্য সাহাবিরাও এই আমল করতেন। তাই প্রত্যেকের কর্তব্য, টয়লেটে প্রবেশের সময় মাথা ঢেকে রাখা। টুপি-রুমাল বা অন্য যেকোনো জিনিস ব্যবহার করা যেতে পারে। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ২/৪৪; আলবাহরুর রায়েক : ১/২৪৩; রদ্দুল মুহতার : ১/৩৪৫; ইলাউস সুনান : ১/৪৪৯)

বুদ্ধপূর্ণিমা আজ

বৌদ্ধ ধর্মমতে, বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন গৌতম বুদ্ধ। আবার এই পবিত্র তিথিতেই তিনি তার সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন এবং পরবর্তীকালে এই দিনেই মহাপরিনির্বাণ লাভ করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা। দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা সাড়ম্বরে উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে বুদ্ধপূজা, প্রদীপ প্রজ্বালন, শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মীয় আলোচনা সভা, প্রভাতফেরি, সমবেত প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া মানবজাতির সর্বাঙ্গীন শান্তি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

শুভ বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। আজকের এই অশান্ত ও অসহিষ্ণু বিশ্বে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ, যুদ্ধ-বিগ্রহ, ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত হানাহানি রোধ এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহামতি বুদ্ধের দর্শন ও জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে আমরা বৈষম্যহীন সমাজ বির্নিমাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সমানভাবে অংশগ্রহণ করে আসছেন। আশা করি, তারা গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ধারণ ও লালন করে বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবেন।’

গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান ও নির্বাণ লাভ এই ত্রিস্মৃতিবিজড়িত বৈশাখী পূর্ণিমা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সবার কাছে এটি বুদ্ধপূর্ণিমা নামে পরিচিত।

বৌদ্ধ ধর্মমতে, আড়াই হাজার বছর আগে এই দিনে মহামতি গৌতম বুদ্ধ আবির্ভূত হয়েছিলেন। তার জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপ্রয়াণ বৈশাখী পূর্ণিমার দিনে হয়েছিল বলে এর (বৈশাখী পূর্ণিমা) অপর নাম দেয়া হয় ‘বুদ্ধপূর্ণিমা’।

সৌদি আরবে শুক্রবার ঈদ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসাবে শুক্রবার দেশটিতে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করা হবে।

আরব নিউজ ও গালফ নিউজ এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের তামিরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে অনুযায়ী দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি ঈদুল ফিতরের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে।

সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার রমজান মাসের শেষ দিন। সেই হিসাবে শুক্রবার ঈদ উদ্‌যাপন করা হবে।

মধ্যপ্রাচ্যেরই আরেক দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় দেশটিতে শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন শুরু হবে। তবে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় প্রতিবেশী ওমানে ঈদের দিন হবে শনিবার।

সাধারণত সৌদি আরবের পরদিন বাংলাদেশে হিজরি মাস শুরু হয়। সে হিসাবে রোজা শুরু বা ঈদ পালন করা হয় সৌদি আরবের পরদিন। তবে দেশের অনেক অঞ্চলে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একই দিনে ঈদ উদ্‌যাপন করা হয়।

এদিকে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে শুক্রবারের এলেও ওমানে ঈদুল ফিতর পালন করা হবে শনিবার। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনেই, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সিংগাপুর, ফিলিপাইন ও জাপান— এই আটটি দেশও শনিবার ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের ঘোষণা দিয়েছে আগেই।

রমজান মাসের শেষে চাঁদ দেখাসাপেক্ষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করে মুসলিম বিশ্ব। বাংলাদেশে শুক্রবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। চাঁদের স্থানাঙ্ক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর এরই মধ্যে জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে শুক্রবার সন্ধ্যাতেই দেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যেতে পারে।

শুরু হলো মাহে রমজান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বছর ঘুরে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আবার ফিরে এল মাহে রমজান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন হলো রহমত, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত এবং শেষ ১০ দিন নাজাতের।

মহান আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে এই ফায়দা প্রাপ্তির আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহারে বিরত থেকে এই একটি মাস আত্মশুদ্ধির সাধনায় নিবেদিত থাকবেন।

আজ শুক্রবার থেকে সাহ্‌রি, ইফতার আর কর্মস্থলের নতুন সময়সূচিতে বদলে যাবে জীবনযাত্রা। গত বুধবার রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই গতকাল বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না। ফলে নির্ধারিতই ছিল যে আজ থেকে রমজান মাস শুরু হবে।

গতকাল মসজিদগুলোতে এশার নামাজের পর শুরু হয় তারাবিহর জামাত। তারাবিহ আদায় করে রোজার প্রস্তুতিপর্ব শুরু করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। ভোররাতে সাহ্‌রি খেয়ে প্রথম রোজার নিয়ত করেন তাঁরা।

আজ থেকে মাসজুড়ে দিনে রোজা রাখার পাশাপাশি বেশি বেশি নফল ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দান-খয়রাতের মাধ্যমে পুণ্য হাসিলে নিবেদিত থাকবেন মুসলিমরা। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়।

বাসস জানায়, পবিত্র রমজান উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। পৃথক বাণীতে তাঁরা দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন তাঁরা।

চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ মঙ্গলবার

প্রতীকী ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আকাশে আজ রোববার পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। সোমবার ৩০ রোজা পূর্ণ হবে। ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে মঙ্গলবার।

আজ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভা কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক হয়।

বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান বলেন, আজ বাংলাদেশের কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। সে কারণে আগামীকাল রমজান মাসের শেষ দিন হিসেবে পালিত হবে। আগামী মঙ্গলবার সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

গতকাল শনিবার সৌদি আরবে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সোমবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

আমিরাতে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ সোমবার

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে আজ রোববার ইসলামি ক্যালেন্ডারের দশম মাস পবিত্র শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে।  আবুধাবিভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি) বলেছে, আবু ধাবিতে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে। এর অর্থ আমিরাতে আজ পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন এবং আগামীকাল সোমবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হবে।

আইএসি বলেছে, জ্যোতির্বিদ্যার চিত্র কৌশল ব্যবহার করে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে। তবে ধূলিময় আবহাওয়ার কারণে চাঁদ খালি চোখে দেখা যায়নি।

আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক খালিজ টাইমস বলছে, আবুধাবির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টারের অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সিল অবজারভেটরি থেকে রোববার বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই সময় সূর্য থেকে চাঁদের দূরত্ব ছিল সাড়ে ৬ ডিগ্রি।

তবে চাঁদ দেখার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাঁদ দেখা কমিটি মাগরিবের নামাজের পর বৈঠকে বসবে। সেই বৈঠক থেকে চাঁদ দেখতে পাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

  هلال شهر شوال 1443هـ كما تم تصويره نهارا قبل قليل من أبوظبي وبصعوبة نظرا للأجواء المغبرة، بواسطة مرصد الختم الفلكي التابع لمركز الفلك الدولي، وقت التصوير الأحد 01 مايو 2022م الساعة 03:10 عصرا بتوقيت الإمارات. بعد القمر عن الشمس 6.5 درجة. #عاجل pic.twitter.com/3gOqAAdZkK

এর আগে, শনিবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনও দেশেই শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি। যে কারণে আগামী ২ মে ঈদুল ফিতর পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে সাধারণত বাংলাদেশ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশে ঈদ উদযাপন করা হয়। সেই হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে সোমবার হলে বাংলাদেশে তার পরের দিন মঙ্গলবার পবিত্র ঈদুল-ফিতর উদযাপিত হবে।

যদিও সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটি শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখতে পাওয়ার বিষয়ে আজ আরও পরের দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেবে।

এদিকে, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। আজ যদি শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায় তাহলে সোমবার বাংলাদেশেও ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর তা না হলে ৩০ রোজা শেষে মঙ্গলবার বাংলাদেশে ঈদ উদযাপন করা হবে।

আজ পবিত্র শবে কদর

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। এই রাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত। প্রতিবছর পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতে শবে কদর পালন করা হয়। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এ রাত কাটাবেন।

ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এ রাত অতীব পুণ্যময় ও মহিমান্বিত। ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাত কদর হতে পারে। তবে ২৬ রমজানের দিবাগত রাতেই লাইলাতুল কদর আসে বলে আলেমদের অভিমত। শবে কদরের এই রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয় এবং এই রাতকে কেন্দ্র করে কোরআনে ‘আল-কদর’ নামে একটি সুরাও নাজিল করা হয়।

‘শবে কদর’ কথাটি ফারসি। শব মানে রাত বা রজনী আর কদর মানে সম্মান, মর্যাদা, গুণাগুণ, সম্ভাবনা, ভাগ্য ইত্যাদি। শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদার রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত।

ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে, অন্যান্য সময়ে এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সওয়াব পাওয়া যায়, শবে কদরের রাতের ইবাদতে তার চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশের মুসলমানরাও নিজেদের গুনাহ মাফ এবং অধিক সওয়াব হাসিলের আশায় নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে রাতটি অতিবাহিত করবেন।

শবে কদর উদ্‌যাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর শবে কদরের ফজিলত ও তাৎপর্য আলোচনা ও দোয়া মাহফিল হবে। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা এহসানুল হক।

শবে কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে পবিত্র শবে কদরের রাতে দেশের অব্যাহত অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, রোববার প্রথম রোজা

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আকাশে হিজরি ১৪৪৩ সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। রোববার প্রথম রোজা শুরু হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় চাঁদ দেখার বিষয়টি জানানো হয়। রমজানের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আজ এশার নামাজের পর মসজিদে মসজিদে তারাবিহর নামাজ পড়বেন মুসল্লিরা। আজ শনিবার দিবাগত শেষরাতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সাহরি করবেন।

ইউএনবির খবরে জানানো হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার এ মাস রমজান। এই মাসে সংযম সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। রোজদাররা শেষ রাতে সাহরি খেয়ে পরদিন সূর্যাস্তের পর ইফতার পর্যন্ত পানাহার না করে সংযম পালন করবেন। আগামী ২৮ এপ্রিল রাতে লাইলাতুল কদর পালিত হবে।

এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে শনিবার থেকে পবিত্র রমজানের রোজা রাখা শুরু হয়েছে। রোজা শুরু করা বেশির ভাগ গ্রামই হাজীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। সেই সঙ্গে ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার কিছু গ্রামে এ প্রথা অনুসরণ করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে শুক্রবার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রোজা রাখা শুরু করেছেন মুসলিমরা।

সব মসজিদে একই পদ্ধতিতে তারাবিহ পড়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজান মাসে খতম তারাবিহ পড়ার সময় সারাদেশের সব মসজিদে একই পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
 
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, রমজান মাসে দেশের প্রায় সব মসজিদে খতম তারাবিহ নামাজে পবিত্র কোরআনের নির্দিষ্ট পরিমাণ পারা তিলাওয়াত করার রেওয়াজ চালু রয়েছে।

তবে কোনো কোনো মসজিদে এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। এতে কর্ম উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী মুসল্লিদের মধ্যে কোরআন খতমের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে একটি অতৃপ্তি ও মানসিক চাপ অনুভূত হয়। কোরআন খতমের পূর্ণ সওয়াব থেকেও তারা বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতি নিরসনকল্পে রমজানের প্রথম ছয় দিনে দেড় পারা করে নয় পারা এবং বাকি ২১ দিনে এক পারা করে ২১ পারা তিলাওয়াত করলে ২৭ রমজান রাতে অর্থাৎ পবিত্র শবে কদরে কোরআন খতম করা সম্ভব।
 
এমতাবস্থায়, দেশের সব মসজিদে খতম তারাবিহ নামাজে প্রথম ছয় দিনে দেড় পারা করে ও পরবর্তী ২১ দিনে এক পারা করে তিলাওয়াতের মাধ্যমে পবিত্র শবে কদরে কোরআন খতমের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সারা দেশের সব মসজিদের সম্মানিত খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, মুসল্লি এবং সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বিনীত অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সৌদি আরবে আগামীকাল রোজা শুরু

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে আজ শুক্রবার পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার থেকে দেশটিতে রোজা শুরু হচ্ছে। খবর সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের

রমজান মাসের চাঁদ দেখা নিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘১৪৪৩ হিজরি সনের রমজান মাসের প্রথম দিন শুরু হবে শনিবার ।’

২০১৯ সালের পর এবারই প্রথম সৌদি আরবে রমজান মাসে করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ থাকছে না। গত বছর করোনা মহামারির কারণে দেশটির পবিত্র দুটি মসজিদ মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে তারাবিহর নামাজ ২০ রাকাত থেকে কমিয়ে ১০ রাকাত করা হয়।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন