ওমরাহযাত্রী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ওমরাহযাত্রী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

অতিরিক্ত ভাড়া গুনে দেশে ফিরলেন রিয়াদে আটকে পড়া ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহযাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:  সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার জেরে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে আটকে পড়া ঈশ্বরদীর ৫০ জন ওমরাহযাত্রী অবশেষে দেশে ফিরেছেন। দুই দিন চরম উদ্বেগ ও আবাসন সংকটের ভোগান্তি পেরিয়ে বৃহস্পতিবার  রাতে কাতার হয়ে তাঁরা দেশে পৌঁছান। তবে নির্ধারিত বিমানের বিকল্প পথে দেশে ফিরতে গিয়ে তাঁদের প্রত্যেকে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা করে বিমানভাড়া দিতে হয়েছে।

ওমরাহযাত্রীদের দলের মোয়াল্লেম মোহাম্মদ রায়হান জানান, গত মঙ্গলবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর হঠাৎ ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে কাতার এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে বিকল্প রুটে তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে না পারায় হোটেলে থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এতে আবাসন ও খাবারের সংকটে পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। দলে বয়োবৃদ্ধ, নারী ও শিশু থাকায় এই কষ্ট আরও বাড়ে এবং যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সপরিবারে ওমরাহ করতে যাওয়া ঈশ্বরদীর বাসিন্দা সাগর সরদার জানান, মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ গুনে দেশে ফিরতে পেরে তাঁরা স্বস্তি পাচ্ছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব জানান, আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছিল।

ফ্লাইট বিপর্যয়ে রিয়াদে আটকে ঈশ্বরদীর ৫০ ওমরাহযাত্রী, স্বজনদের উৎকণ্ঠা


নিজস্ব প্রতিবেদন: পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরার কথা থাকলেও সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে সে দেশে আটকে পড়েছেন ঈশ্বরদীর ৫০ জন ওমরাহযাত্রী। মঙ্গলবার  তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল। 

মক্কার হোটেলে থাকার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তাঁরা আবাসন ও খাবার সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে দলের কয়েকজন যাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আটকে পড়া দলটিতে নারী, শিশু এবং ৭০ থেকে ৮০ বছর বয়সী একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁরা কবে নাগাদ দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন দেশে থাকা স্বজনেরা।

সৌদি আরবে অবস্থানরত ঈশ্বরদীর মোয়াল্লেম মোহাম্মদ আবু রায়হান জানান, নির্ধারিত দিনে দেশে ফেরার সব প্রস্তুতি থাকলেও বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়েন। হোটেল ছাড়ার পর নতুন করে আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পৌর এলাকার সাঁড়াগোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগর সরদার মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ওমরাহ করতে গিয়ে সেখানে আটকা পড়েছেন। একই দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে আরেক যাত্রী ইসমাইল হোসেন জানান, দলে থাকা প্রবীণ ও অসুস্থদের সামলানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট মিলিয়ে ৮২টি ফ্লাইটের সূচি ব্যাহত হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার ৭৪ জন যাত্রী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

ঈশ্বরদীর আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সেখানে অবস্থানরতদের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত এই সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন