নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মকলেছুর রহমান বাবলুকে দ্বিতীয় জানাজার পর শনিবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
রাত ১০টায় ফতেমোহাম্মদপুর লোকো ফুটবল মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেখানে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। শোকাবহ পরিবেশে উপস্থিত সবাই তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
শনিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
জানাজায় বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন।
এ ছাড়া নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, মকলেছুর রহমান বাবলু সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সব দল ও ধর্মের মানুষের কাছে তিনি সম্মানিত ছিলেন।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মকলেছুর রহমান বাবলু ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। আশির দশকে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিন দশকের বেশি সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ‘বাবলু ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আদালত মখলেসুর রহমান বাবলুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।


