ঈশ্বরদীতে বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ, লাভের আশায় কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একসময় পেঁয়াজের চাষ তেমন ছিল না। তবে কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ধীরে ধীরে বিঘা থেকে হেক্টরে পৌঁছেছে এ মসলাজাতীয় ফসলের চাষ। পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই এখন কমবেশি পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে।

শীতকালীন মৌসুমের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালেও বাড়ছে পেঁয়াজের চাষ। উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা ও আবুল বাশার আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে লাভের আশা করছেন। তাঁদের দেখে অন্য কৃষকেরাও এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৬-৭ বছর আগে পেঁয়াজের চাষ শুরু হয়। শুরুতে কৃষকদের আগ্রহ কম থাকলেও লাভজনক হওয়ায় এখন তাঁরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। দিন দিন বাড়ছে চাষের জমির পরিমাণও। বর্তমানে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ আষাঢ় মাসে শুরু হলেও আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল বাশার দেড় মাস আগেই কৃষি বিভাগের দেওয়া নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, বৃষ্টি না থাকা এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা তাঁর দুই বিঘা জমির পেঁয়াজখেত পরিদর্শন করছেন। আর দুই সপ্তাহ পর তিনি পেঁয়াজ তুলবেন।

আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, ‘ঈশ্বরদী কৃষি অফিস থেকে সরকারি সহায়তার আওতায় আমাকে বিনা মূল্যে নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজের বীজ দেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বীজ থেকে চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ করি। প্রথমে মনে হয়েছিল ফলন ভালো হবে না। কিন্তু এখন জমির পেঁয়াজ দেখে মনে হচ্ছে লোকসান নয়, লাভই হবে।’

তিনি জানান, সেচ ও শ্রমিক খরচসহ দুই বিঘা জমিতে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। আর পেঁয়াজ বিক্রি হবে প্রায় ৭০ হাজার টাকার। এতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

একই কথা জানান বিলকেদা এলাকার কৃষক আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘এখন প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি নেই। গরম কম থাকলে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে পেঁয়াজের ফলন আরও ভালো হতো।’

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ভাগের দায়িত্বে থাকা মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে আগে পেঁয়াজের চাষ তেমন ছিল না। এখন কৃষকেরা এ ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। পরীক্ষামূলকভাবে গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরুর দুই মাস আগে চারা তৈরি করে চাষ করা হলেও ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আর দুই সপ্তাহ পর জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে একই জমিতে আবারও পেঁয়াজের চাষ করবেন কৃষকেরা।

তিনি বলেন, একই জমিতে একই সময়ে দুই দফা পেঁয়াজ চাষের এ উদ্যোগে কৃষি অফিস থেকে নানা সামগ্রী ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন। আগামীতে ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগেও পেঁয়াজের চাষ তেমন ছিল না। কিছু মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হতো। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে, যা মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক দিক। প্রতিটি উৎপাদিত ফসল থেকে কৃষকেরা লাভবান হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যাতে পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও কৃষকদের পাশে থেকে পেঁয়াজের চাষ বৃদ্ধিতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন