আন্তর্জাতিক পরমাণু কুইজে বিশ্বসেরা হয়ে রাশিয়া যাচ্ছে ঈশ্বরদীর খুদে শিক্ষার্থী সিদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে পাবনার ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান সিদ্ধা কর্মকার। আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল অ্যাটমিক কুইজ’ বা বিশ্ব পরমাণু কুইজে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে বিশ্বের সেরা তিন প্রতিযোগীর একজন হয়েছে মাত্র ১২ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী।

এ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের আমন্ত্রণে আগামী ২৩ জুন আট দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রাশিয়া যাচ্ছে সিদ্ধা। সফরে তার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকছেন বড় ভাই দুর্জয় কর্মকার। তিনিও একই কুইজের ১৮ থেকে ২৫ বছর বিভাগে বিশ্বসেরা ১০০ জনের মধ্যে স্থান পেয়েছেন।

সিদ্ধা কর্মকার ঈশ্বরদী পৌরসভার নূরমহল্লা এলাকার সমর কর্মকারের মেয়ে। সে ঈশ্বরদীর আর.এ.আর.এস. উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ভাই দুর্জয় কর্মকার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

আগামী ২৬ জুন রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞাননগরী ওবনিন্সকে অনুষ্ঠিত হবে ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক তরুণ পারমাণবিক ফোরাম—ওবনিন্সক নিউ’। এতে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন এই দুই ভাই-বোন।

১৯৫৪ সালের ২৬ জুন ওবনিন্সক শহরেই বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, গবেষক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং উদীয়মান তরুণ নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার সুযোগ পাবে সিদ্ধা। সেখানে পারমাণবিক শক্তির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন দলীয় আলোচনা, বৈজ্ঞানিক সেমিনার এবং বিশেষায়িত কর্মশালায় অংশ নেবে সে।

ওবনিন্সকের মূল আয়োজন শেষে তারা মস্কো সফর করবেন। এ সময় রেড স্কয়ার, ক্রেমলিন, সেন্ট বেসিলস ক্যাথেড্রাল এবং ‘অ্যাটম’ পরমাণু প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। আগামী ৩০ জুন তাদের দেশে ফেরার কথা।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে সিদ্ধা কর্মকার বলে, ‘এত বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। গত নভেম্বরে নিজের মেধা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ব পরমাণু কুইজে অংশ নিয়েছিলাম। বিশ্বের সেরা তিনজনের একজন হওয়া আমার জন্য বড় চমক ছিল। আর রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞাননগরী ওবনিন্সকে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও প্রাপ্তি।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন