নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং ‘পাল্টা কমিটি’ গঠনের অপচেষ্টার প্রতিবাদে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৭ মার্চ ইফতার মাহফিলের নামে মূলত প্রেসক্লাব বিরোধী একটি চক্র ও বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ শাসনামলে) সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি একত্রিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে।
প্রতিবাদ সভায় প্রেসক্লাবের বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান টিপু বলেন, ৭ মার্চ সব সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই সময় হাত তুলে সমর্থন দিলেও পরবর্তীতে সুমার খাঁন ও আমিরুল ইসলাম রিংকু ক্লাববিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মার্চ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ইফতার মাহফিলের আড়ালে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু নামধারী সাংবাদিককে নিয়ে পাল্টা কমিটি গঠনের নীল নকশা করা হয়।
আয়োজকরা পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলে সভায় জানানো হয়। আব্দুল মান্নান টিপু বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য না জেনেই তিনি বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে একপর্যায়ে ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে তিনি নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত করার আহ্বান জানান। এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে সাংবাদিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একতরফা কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। স্বপন কুণ্ডু ও আব্দুল বাতেন গংরা টানা সাত বছর অবৈধভাবে ক্লাব দখল করে রেখেছিলেন। ওই সময় বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের বহিষ্কার এবং ক্লাবের অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্টের পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলেও এখন সুমার খাঁন ও রিংকুর হাত ধরে পুনরায় ক্লাব দখলের পাঁয়তারা করছেন।
আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান টিপু স্পষ্ট করে বলেন, এই কমিটি ক্লাব দখল করতে আসেনি। আমাদের মূল লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া। গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, ক্লাবের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অচিরেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিদুল ইসলাম, ওয়াহেদ আলী সিন্টু, ওয়াহিদুজ্জামান টিপু, শহীদুল্লাহ খানসহ স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

