চলতি বছরই চালু হতে পারে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে ওঠায় নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর। পাশাপাশি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) হওয়ায় যাতায়াত ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সরকার ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানবন্দরটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রানওয়ে সম্প্রসারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের মধ্যেই বিমানবন্দরটি চালু হতে পারে।

নথিপত্র বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার ঈশ্বরদী বিমানবন্দর নির্মাণ করে। তখন এটি হিজলি ঘাঁটি নামে পরিচিত ছিল এবং ব্যবহৃত হতো টোয়েন্টিথ এয়ার ফোর্সের জন্য।

১৯৬২ সালে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স (পিআইএ) প্রথম যাত্রী পরিবহন শুরু করে। স্বাধীনতার পর ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এখান থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত।

একবার ২০১৩ সালে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ফ্লাইট চালু করলেও তা এক বছরের মাথায় আবার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বাণিজ্যিক ফ্লাইট নেই, তবে সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার হেলিকপ্টার ও লাইট এয়ারক্রাফট এখানে ওঠানামা করে।

বেবিচকের তথ্যমতে, বিমানবন্দরটির জন্য মোট ৪৩৬.৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৪৫.৯১ একরে টার্মিনাল ভবন, রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে, নেভিগেশন সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। বাকি ২৯০.৭৪ একর জমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

স্থানীয় বিমান অপারেটররা জানিয়েছেন, রানওয়ে আরও ৫০০ মিটার বাড়ানো গেলে এটিআর ৭২-৬০০ এর মতো ছোট বিমানে যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে।

বেবিচকের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে রানওয়ের দৈর্ঘ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো পর্যাপ্ত নয়। ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপন সরঞ্জাম এবং যাত্রীসেবা কেন্দ্রের ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জন্যই পুনরায় উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেবিচকের একজন প্রকৌশলী বলেন, 'ঈশ্বরদীসহ কিছু পুরনো বিমানবন্দর নতুন করে সক্রিয় করার পরিকল্পনা আছে। তবে রূপপুর প্রকল্পের কারণে ঈশ্বরদীর গুরুত্ব আলাদা। বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াতের জন্য এটি দ্রুত চালু করা জরুরি।'

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া জানান, 'ঈশ্বরদীসহ সাতটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালুর প্রক্রিয়া চলছে। যেখানে অবকাঠামোর কাজ আগে শেষ হবে, সেগুলোই আগে চালু হবে। পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, শমশেরনগর (মৌলভীবাজার) ও ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর।'

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পারমাণবিক প্রকল্প, ইপিজেড এবং আশপাশে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের কারণে বিমান যোগাযোগ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত যোগাযোগ সুবিধা চালু হলে ঈশ্বরদী হবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন