চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ পূর্তি: স্মৃতি ও উৎসবে ভরা দুই দিন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের বর্ণাঢ্য  স্মরণীয় উৎসব  অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা দেখা গেছে। ‘এসো মিলি ছন্দে আনন্দে প্রাণের মেলায়’ স্লোগানে উদযাপন কমিটি এক স্মরণীয় আয়োজনের মাধ্যমে এই বিশেষ মুহূর্তকে উদযাপন করছে।

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকেই তারা হাজির হন উৎসবের স্থানে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও দেশের বাইরে থেকে আসেন প্রাক্তণ সব শিক্ষার্থীরা। একসাথে পড়াশোনা করা তাদের কেউ মধ্যবয়সী, কেউবা বয়সের ভারে ন্যুজ। দীর্ঘবছর পর প্রিয় বন্ধু সহপাঠীকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরেন। খোঁজ খবর নেন একে অপরের। অনেকে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। আনন্দ উচ্ছাস আর গল্প আড্ডায় ফিরে যান সেই স্কুল জীবনে। মেতে উঠেছিলেন খুনসুটিতে।

কারো বয়স সত্তর বছর, কারো বা আশি। পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর বয়সী অনেকে এসেছেন। একে অপরের সাথে দেখা চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর পর। এত বছর পর বন্ধুকে কাছে পেয়ে প্রথম প্রশ্ন কেমন আছিস বন্ধু। এরপর একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ছেলেবেলায় ফিরে যাওয়া।

সব বয়স, বাধা ফেলে তারা এক হয়েছিলেন একদিনে এক জায়গায়। এতবছর পর সহপাঠি, বন্ধুকে কাছে পেয়ে উচ্ছসিত তারা। সে এক আবেগঘন মুহূর্ত। প্রাণের টানে এমনই মিলনমেলা বসেছিল  পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে মাঠে।

২১ ডিসেম্বর শনিবার ছিল শতবর্ষ উদযাপনের মূল আয়োজন। সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী ও অতিথির অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শেষ হয়।  শতবর্ষ পূর্তি উৎসবের থিম সং এর সুরে হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, ব্যানার, ফেস্টুন, বাদ্য বাজনার তালে নেচে গেয়ে শোভাযাত্রা নিয়ে স্মৃতিঘেরা স্কুল প্রাঙ্গণে মিলিত হন শিক্ষার্থীরা। স্কুলের প্রধান ফটকে গিয়ে অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তোলেন। কেউ বা স্কুলের পাশে মসজিদ প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন।

মঞ্চে অতিথিদের উপস্থিতিতে শুরু হয় স্মৃতিচারণ পর্ব। গোলাম মোস্তফা রবি‘র সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বিদ্যালয়ের সাফল্য এবং ঐতিহ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল ভাল কাজে বিদ্যালয়ের সাফল্য এবং অবদানের কথা তুলে ধরেন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব আমিন উল আহসান শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান ও প্রাক্তণীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং  স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ কামরুল ইসলাম রিপন তাঁর আজকের সফলতার পেছনে চন্দ্রপ্রভা ও তার মায়ের ভূমিকা তুলে ধরে বিদ্যালয়টির উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। 
দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের পর লেজার শো ও আতশবাজির মাধ্যমে পুরো আয়োজন এক অন্য মাত্রা পায়। এতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চন্দ্রপ্রভার শতবর্ষ উপলক্ষে আবুল কালাম আজাদের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে স্মরণিকা “প্রেরণা” যার প্রচ্ছদ এঁকেছেন চিত্রশিল্পী, অভিনেতা ও নির্মাতা আফজাল হোসেন। সাপ্তাহিক  সংবাদ সাতদিনও একটি বিশেষ সংখ্যা বের করেছে, “কাল থেকে কালান্তরে” যা শতবর্ষ অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা দিয়েছে। একথা জানার পর ভারতে বসবাসকারী যোগীনচন্দ্র দাশগুপ্তের নাতনি অলোকা নিয়োগী সংবাদ সাতদিন পরিবারকে প্রণাম জানিয়েছেন। সংবাদ সাতদিন এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠকে ঘিরে, চন্দ্রপ্রভার সৃষ্টি ও শতবছরের ইতিহাস নিয়ে ২২ মিনিটের একটি তাৎপযপূর্ণ ডকুমেন্টারি ফ্লিম তৈরি ও পরিবেশন করে অনুষ্ঠানটিকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। এছাড়াও এই আয়োজনকে ঘিরে দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের বিরতির পর শতবর্ষের লোগো উন্মোচন করা হয়। সন্ধ্যায় লেজার শো ও আতশবাজির আলোয় পুরো আয়োজন এক নতুন মাত্রা পায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনের এই মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে রবি চৌধুরী, লাইলা ও লুইপা সংগীত পরিবেশন করেন।  

পাকশী অঞ্চলজুড়ে শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাসের সাক্ষী হতে আসা হাজারো মানুষের এই মিলনমেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে।


এর আগে শতবর্ষ উদযাপনের প্রথম দিন, শুক্রবার সকাল ৯টায় পাকশী রেলওয়ে ফুটবল মাঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও উপহার বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে তারা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা এবং প্রখ্যাত অতিথিদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সদরুল হক সুধা, প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রবি। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং শিক্ষার্থীদের অবদান। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্কুলজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রাক্তণী  জাহিদ সালাম পার্লী। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকার জনপ্রিয় শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীরা। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের কাছে এক অন্যরকম আবেগ সৃষ্টি করে। প্রথম দিনের সমাপ্তি হয় রাতের খাবার  বিতরণের মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানে উত্তোরীয় পরিয়ে বরেণ্য  বরণ করা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আফজাল হোসেন, প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সদরুল হক সুধা, প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব আমিন উল আহসান, আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রবি, সদস্য সচিব আশরাফ আলী খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ খালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম মিন্টু, নজরুল ইসলাম রুমি, মঈনুদ্দীন রবিউল, ওয়াজেদ আলী খান বাচ্চু,  চিকিৎসক ডাঃ কামরুল ইসলাম রিপন, ডিআরএম শাহ সূফী নূর মোহাম্মদ, বিএসবি ক্যামব্রিয়ান এডুকেশন গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন এম কে বাশার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান কানু, রফিকুল আলম,  বিগ্রেডিয়ার জেনারেল বায়েজিত সরোয়ার জুয়েল, গোলাম কিবরিয়া মধু, একলাসুর রহমান রন্টু, অধ্যাপক ফজলুল হক রোকন, চন্দ্রপ্রভার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক সেলিম সরদার, অধ্যক্ষ ইসরুল কায়েস পারভেজ, কৃষিবিদ তৌহিদ, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ক্রীড়াবিদ আলমগীর হোসেন, ক্রীড়াবিদ সাইফুল ইসলাম বকুল, প্রকৌশলী জিকরুল ইসলাম, শামীম মাজহার  প্রমূখকে। 


চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের ৬৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত রেলওয়ে কর্মচারী কাজী বদরুল হক মুক্তা বলেন, ‘মনে হচ্ছে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। স্কুলের কত স্মৃতি মনে পড়ছে। আমি আমার বন্ধু আলাউদ্দিন খেলাধুলায় ভাল ছিলাম। আমরা স্কুলের খেলায় একে অপরকে ল্যাঙ মেরে ফেলে দিতাম। যাতে নিজেরা প্রথম হতে পারি। আমার সেই বন্ধু আলাউদ্দিনের সাথে দেখা হলো। শেষ বয়সে অনেক ভাই বন্ধুদের সাথে দেখা হয়ে অনেক ভাল লাগলো।’

৭০ ব্যাচের শিক্ষার্থী যিনি ক্রীড়াক্ষেত্রে চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী ওয়াজেদ আলী খান বাচ্চু বলেন, ‘দীর্ঘ ৫৪ বছর পর বন্ধু বান্ধবদের সাথে দেখা করতেই আমেরিকা থেকে ছুটে আসছি। আজকে মনে হচ্ছে শৈশবে ফিরে গেছি। আনন্দ-অশ্রুর মিলন আজ। অনেক বন্ধুকে দেখে চিনতেও পারছি না। অথচ ৫৪ বছর আগে ক্যাম্পাসে দাপিয়ে বেড়াতাম।

৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী বর্তমানে আমেরিকা প্রবাসী ব্যবসায়ী আব্দুল হক ও জিন্নাহ হক বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর পর বন্ধু বান্ধবদের সাথে দেখা হলো। এই শতবর্ষ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য জন্য খুবই উচ্ছসিত ছিলাম। তাই আমেরিকা থেকে ছুটে আসছি। স্কুলের স্মৃতিগুলো চোখের সামনে ভেসে উঠলো। অনেক সময় স্কুলের অ্যাসেম্বলী ফাঁকি দিতাম। শিক্ষকরা খুব কড়া শাসনে রাখতেন আমাদের। মাঝে মধ্যে অ্যাসেম্বলী না করায় শিক্ষকদের ভয়ে আর স্কুলে না গিয়ে বাড়িতে চলে যেতাম।’

৯২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমরা প্রিয় স্কুল ঘুরে আসলাম। ছেলেবেলার স্মৃতি মনে পড়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। স্কুলের পাশে মসজিদটি দেখে মনে পড়লো যখন আমরা স্কুল ফাঁকি দিতাম তখন ওই মসজিদের বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকতাম। আজ আমরা আবার প্রাণ ফিরে পেলাম, মনে হলো আমাদের বয়স সেই ১৪ কি ১৫ বছর বয়সে ফিরে গিয়েছি।’

৮৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী বর্তমানে ব্যবসায়ী আকতার উজ্জামান ও জিয়াউল হক বলেন, ‘জীবন সন্ধিক্ষণে ছোট্ট ছোট্ট সময় যে বন্ধুগুলো পেয়েছি, প্রায় দীর্ঘ ৪৮ বছর পর সেই বন্ধুদের সাথে দেখা হলো। সেই সময় কে কি করছি অনেক স্মৃতি রোমন্ধন করলাম, সেইদিনে ফিরেছিলাম আমরা। একে অপরের সাথে ভবিষ্যতে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নাম্বার রাখলাম। এক কথায় স্কুলজীবনের সময়টা ছিল প্রাকৃতিক। আর বর্তমান এখন যান্ত্রিক। তাই এমন আয়োজন খুব দরকার ছিল।’  


শতর্বষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আশরাফ আলী খান মঞ্জু বলেন, ‘এই স্কুলের শতবর্ষ উৎসব আয়োজনে আমরা সবচেয়ে পুরাতন ১৯৫৪ সালের শিক্ষার্থী একজনকে খুঁজে পেয়েছি । ১৯৫৮ সালের একজনকে পেয়েছি। এই মিলনমেলায় সকলেই আনন্দিত। ফেলে আসা দিনগুলোকে সবাই একদিনে ফিরিয়ে এনে আনন্দ ভাগাভাগি করেছি আমরা। এই প্রাপ্তিটাই আয়োজনের সার্থকতা। শতবর্ষ উৎসবে প্রাক্তণ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার মিলে অন্তত দশ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে বলেও জানান তিনি।

শতর্বষ উদযাপন কমিটির আহবায়ক গোলাম মোস্তফা রবি বলেন, শতবর্ষপূর্তি উৎসব আমাদের জন্য খুবই গুরুত্ববহ। এটা একটা বিরল সুযোগ। অত্যন্ত গৌরবের এবংআবেগেরও।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘এত বড় একটি আয়োজনে আমি উপস্থিত থাকতে পেরে খুবই আনন্দিত, অভিভূত। নিজেকে ধন্য মনে করছি। না আসলে বুঝতে পারতাম না এত সুন্দর আয়োজন, এত মানুষের উপস্থিতি। এই আয়োজন নতুন ও পুরাতনের মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরী করবে মনে করি।’


উল্লেখ্য, বাংলাদেশ রেলওয়ে চন্দ্রপ্রভা বিদ্যপীঠ পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় পাকশীতে অবস্থিত একটি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের তদানীন্তন সাঁড়া থানার (বর্তমান ঈশ্বরদী) অন্তর্গত পাকশী এবং এর নিকটস্থ গ্রাম গুলোতে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতিকল্পে, রেলওয়ে চাকুরীরত কর্মীদের সন্তান এবং স্থানীয় জনগণের সন্তানদের শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য শ্রী যুক্ত যোগীন্দ্র চন্দ্র দাসগুপ্ত বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৪ সালের ২ জানুয়ারী প্রতিষ্ঠত হয় পাকশী ইংলিশ হাই স্কুল নামে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠাতার মায়ের নামানুসারে বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয় চন্দ্রপ্রভা বিদ্যপীঠ। ১৯৮৫ সালে বিদ্যালয়টিকে রেলওয়ের অধীনস্থ করা হয়, এবং তখন থেকে এটি বাংলাদেশ রেলওয়ে চন্দ্রপ্রভা বিদ্যপীঠ নামে পরিচিত। 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন