নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। ২০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা দেখা গেছে। ‘এসো মিলি ছন্দে আনন্দে প্রাণের মেলায়’ স্লোগানে উদযাপন কমিটি এক স্মরণীয় আয়োজনের মাধ্যমে এই বিশেষ মুহূর্তকে উদযাপন করছে।
প্রথম দিন: পুনর্মিলনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজন
শতবর্ষ উদযাপনের প্রথম দিন, শুক্রবার সকাল ৯টায় পাকশী রেলওয়ে ফুটবল মাঠে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ও উপহার বিতরণের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে তারা আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন। পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা এবং প্রখ্যাত অতিথিদের সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী সদরুল হক সুধা, প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার এবং আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রবি। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং শিক্ষার্থীদের অবদান। অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্কুলজীবনের স্মৃতি রোমন্থন করেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকার জনপ্রিয় শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীরা। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের কাছে এক অন্যরকম আবেগ সৃষ্টি করে। প্রথম দিনের সমাপ্তি হয় রাতের খাবার বিতরণের মাধ্যমে।
দ্বিতীয় দিন: বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও লেজার শো
২১ ডিসেম্বর শনিবার ছিল শতবর্ষ উদযাপনের মূল আয়োজন। সকাল ৮টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী ও অতিথির অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে শেষ হয়।
মঞ্চে অতিথিদের আসন গ্রহণের পর শুরু হয় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। তাঁর বক্তব্যে তিনি বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও উন্নয়নের প্রশংসা করেন।
দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ ও নামাজের বিরতির পর শতবর্ষের লোগো উন্মোচন করা হয়। সন্ধ্যায় লেজার শো ও আতশবাজির আলোয় পুরো আয়োজন এক নতুন মাত্রা পায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দিনের এই মহোৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
আহ্বানে ঐক্যের ডাক
উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রবি ও সদস্য সচিব আশরাফ আলী খান মঞ্জু সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতবর্ষ উদযাপনকে সফল করি।”
পাকশী অঞ্চলজুড়ে শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাসের সাক্ষী হতে আসা হাজারো মানুষের এই মিলনমেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের কাছে।




