এক শতকের স্মৃতি নিয়ে চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ উদযাপনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর, শুক্র ও শনিবার দুই দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে পাকশীতে উৎসবের আমেজ বইছে। চন্দ্রপ্রভার হাজারো প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই মহেন্দ্রক্ষণটির জন্য।
শতবর্ষ উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে গঠিত উপকমিটির সদস্যরা তাঁদের কাজ প্রায় শেষ করেছেন। উৎসবের উদ্বোধন থেকে সমাপনী পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে নানা আয়োজনের মাধ্যমে।

প্রথম দিনের কর্মসূচি: শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর
বিকেল ৪টায় শুরু হবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
উদ্বোধনী কার্যক্রম: পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন শেষে উদযাপন কমিটির সভাপতির সূচনা বক্তব্য থাকবে। এরপর প্রধান উপদেষ্টা, প্রধান সমন্বয়ক, আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবের বক্তব্য প্রদান করা হবে।
স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা: নির্বাচিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণের পর সন্ধ্যায় ঢাকা ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
রাতের খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।

দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি: শনিবার, ২১ ডিসেম্বর
শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হবে শতবর্ষ উৎসবের মূল আয়োজন।
সকাল ৮টা—১০টা: সকালের নাস্তা, পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন ও থিম সং পরিবেশনের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে।
শোভাযাত্রা: সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন।
মঞ্চ অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণ: দুপুর ১২টায় মঞ্চে সভাপতিসহ প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিদের আসন গ্রহণের পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করবেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে মধ্যাহ্নভোজ এবং নামাজের বিরতি ঘোষণা করা হবে।
বিকেলের বিশেষ আয়োজন: বিরতির পর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আবারও স্কুলের সোনালি দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে শতবর্ষের লোগো উন্মোচন করা হবে। সন্ধ্যায় লেজার শো ও আতশবাজির বর্ণিল আলোর ঝলকানির মাধ্যমে পুরো আয়োজন নতুন মাত্রা পাবে।
সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: দুই দিনের উৎসবের শেষ পর্বে থাকবে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ সবার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রবি এবং সদস্য সচিব আশরাফ আলী খান মঞ্জু সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অতিথিদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, “আসুন, আমরা সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চন্দ্রপ্রভা বিদ্যাপীঠের শতবর্ষ উদযাপনকে সফল করি এবং ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকি। এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”
এদিকে, অনুষ্ঠানকে ঘিরে পাকশী অঞ্চলে সাজসাজ রব লেগে আছে। পুরো এলাকা বর্ণিল সাজে সেজে উঠেছে, যা শতবর্ষের এই মহোৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন