বিশেষ প্রতিবেদক: রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চরম সংকটে পড়েছেন ঈশ্বরদীর পেয়ারা চাষিরা। এ অবস্থায় পরিবহন-সংকট, বাজারজাতকরণ ও মোকামে ক্রেতা শূন্যতায় তাঁরা এখন লোকসান দিয়েও দেশের বিভিন্ন জেলায় পেয়ারা পাঠাতে পারছেন না। ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন পেয়ারা চাষিরা।
বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষে প্রসিদ্ধ এলাকা ঈশ্বরদী। প্রতি মৌসুমে এখানে কয়েক'শ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য পাইকারী ও খুচরা ব্যবসায়ী এখানে থেকে পেয়ারা কিনে থাকেন। ব্যক্তিকেন্দ্রীক আবাদের পাশাপাশি এখানে বাণিজ্যিকভাবে প্রচুর পেয়ারার খামার গড়ে উঠেছে। সাধারণত থাই বা উন্নত জাতের পেয়ারা উৎপন্ন হয়ে থাকে। পেয়ারা বিক্রি করে এখানকার চাষিরা লাভবান উঠছেন। কিন্তু এবার মৌসুমের শুরু থেকে চাষিরা রাজনৈতিক কর্মসূচী হরতাল ও অবরোধের কারণে পেয়ারা বাজারজাতকরণে ভীষণ সংকটে পড়েছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এখানে প্রতিবছরই পেয়ারার আবাদ বাড়ছে। গেল মৌসুমে এখানে শুধুমাত্র বাণিজ্যিকভাবে খামারের ১৭০ হেক্টর জমি থেকে ৪২০ মেট্রিক টন থাইজাতের পেয়ারা উৎপাদন হয়েছে। এবছর ১৭২ হেক্টর জমিতে উৎপাদন বেড়ে ৪৩০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।
মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, মৌসুমের শুরুতে চাষিরা যেখানে প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন, সেখানে অবরোধের কারণে তা কমতে কমতে গতকাল মঙ্গলবার ১ হাজার ১০০ টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ প্রতি মন পেয়ারা ৯০০ টাকা লোকসানে বিক্রি করছেন চাষিরা। অন্যদিকে পেয়ারা পরিবহনের ক্যারেট প্রতি ভাড়া ৫০ থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। তা-ও আবার পরিবহন-সংকটের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের।
ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়াইমারীর কৃষক ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত খামারি সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ বলেন, তিনি ৪০০ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করেছেন। কিন্তু দাম কমে যাওয়ায় খামার থেকে প্রতিদিন লোকসানে পেয়ারা বিক্রি করতে হচ্ছে। অবরোধের কারণে ভয়ে পরিপূর্ণভাবে ঢাকায় গাড়ি পাঠাতে পারছেন না।
অন্যান্য চাষিরা জানান, ঈশ্বরদীতে এবার পেয়ারার ভালো উৎপাদন চাষ হয়েছে। কিন্তু বিগত দিনে করোনা সংকট, বৈরী আবহাওয়া অতিবৃষ্টিসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে ভালো লাভ করতে পারেননি। এ মৌসুমে পেয়ারার উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবার সেই ক্ষতি পুষিয়ে তাঁরা লাভের স্বপ্ন দেখেন। বিক্রি শুরুর সপ্তাহ খানেক ভালো দামও পাচ্ছিলেন। কিন্তু অবরোধের কারণে দাম যেমন পড়ে গেছে, তেমনি অতিরিক্ত পরিবহন খরচ দিয়েও পেয়ারা পাঠাতে পারছেন না। এ অবস্থায় আর্থিকভাবে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার মিতা সরকার বলেন, এবার কৃষকদের কৃষিপণ্যবাহী সামগ্রী বাইরে পাঠাতে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রয়োজনে পুলিশসহ প্রশাসনের সহযোগিতায় কৃষিপণ্যের সব গাড়ি অন্য জায়গায় পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। যেকোনো কৃষকেই আমরা তাদের সেই সহযোগিতা প্রদান করছি।
চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচি পেয়ারা বিক্রি নিয়ে সংকটে ঈশ্বরদী চাষিরা
এই সময়ে
বুধবার, নভেম্বর ১৫, ২০২৩

