বিদ্যুতের স্যাংশন লোড বৃদ্ধির নতুন ঘোষণা, বিভ্রান্তিতে গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্যাংশন লোড বাড়ানোর নতুন ঘোষনা ও ‘এলোমেলো মাসিক বিদ্যুৎ বিল’ প্রদানের ফলে ঈশ্বরদীতে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা বিভ্রান্তি ও হয়রানির মধ্যে পড়েছেন। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগে 'স্যাংশন লোড' বাড়ানোর সিষ্টেম আপডেট ও গ্রাহকের কাছ থেকে ৫৫০ টাকা প্রদানের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্রাহকেরা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন।

ভুক্তভোগী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঈশ্বরদী বাজারের স্টেশন রোডের একটি দোকানের বিগত জুন মাসের বিদ্যুৎবিলে ১০ ইউনিট ব্যবহৃত মূল্য ১১৯ টাকা, অথচ ডিমান্ড চার্জ ১৫০ টাকা, ভ্যাট ১৪ টাকাসহ মোট ২৮৩ টাকা দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। নেসকোর মিটার রিডারের অনেকেই মিটার না দেখে অনুমান নির্ভর রিডিং লিখে থাকেন ফলে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিলের টাকা দিতে হয় বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। নিয়ম রয়েছে গ্রাহকের উপস্থিতিতে মিটার রিডিং লিখার কথা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ নিয়ম মানা হয় না। 

একইভাবে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অক্টোবর মাসের বিদ্যুৎ বিলের উপর নীল রঙের সিল মারা লেখা রয়েছে “আপনার বাসার/প্রতিষ্ঠানের সংযুক্ত বৈদ্যুতিক লোড অনুযায়ী অনুমোদিত লোড (ঝধহপঃরড়হ খড়ধফ) বৃদ্ধি করার জন্য অনুরোধ করা হলো” নতুনভাবে এমন ঘোষনায় বিভ্রান্তি ও ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও গ্রাহকদের কারও বিল কয়েক গুণ বেশি, আবার কারো বিল স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম এসেছে। যেমন ঈশ্বরদী পৌরসভার  এমএস কলোনির এক বাসিন্দার তিন বছর ধরে মাত্র ৩৪ থেকে ৩৭ টাকার মধ্যেই বিল আসছে, তাঁর কোন বিল বাড়ছে না।  
ঈশ^রদী নেসকোর অফিস সূত্র জানা যায়, অনেক গ্রাহকই আগস্ট মাসের বিল বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছেন। এরমধ্যে অধিকাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বেশি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয় অথচ মিটার রিডিং দেখা হয় না। এতে দেখা যায় গ্রাহকের আগস্ট মাসে ১০০০ টাকা বিল এসেছে অথচ সেপ্টেম্বর মাসে তা দাঁড়িয়েছে ২০০০ টাকা। অনেকের ক্ষেত্রে আবার উল্টো হয়েছে।

ঈশ্বরদী গোকুলনগর এলাকার আবদুল লতিফ বলেন, তার বাসায় নিয়মিত বিল আসত ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে; এখন প্রতি মাসে বিল আসে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। বিল বেশি আসার কারণে পরিশোধ করতে বিলম্ব ঘটে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ অধ্যক্ষ জানান, “নেসকোর বিদ্যুৎ বিলের ওপর লেখা রয়েছে, দেশ প্রেমের শপথ নিন দুর্নীতিকে বিদায় দিন, অথচ নেসকো ভুলে ভরা অবস্থায় চললেও কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না, বিদ্যুৎ বিল কম বেশি হতে পারে কিন্তু এত কম বেশি কিভাবে সম্ভব”।

এ বিষয়ে জানতে ঈশ্বরদী নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল নূরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা কোন তথ্য দিতে পারব না। তথ্যের জন্য রাজশাহী অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন