রূপপুরে জ্বালানি আসবে ২৮ সেপ্টেম্বর, হস্তান্তর ৫ অক্টোবর

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, “প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়া থেকে পৌঁছাবে। ৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প এলাকায় বাংলাদেশের কাছে এই জ্বালানি হস্তান্তর করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।'

১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে জমিদানকারী কৃষকদের মাঝে ফসলের ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) আসার পর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ইউরেনিয়ামের মালিক হবে। এটা একটা বিরাট  মাইলস্টোন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আইএইএ-এর গাইডলাইন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করতে পারবে। এর কমিশনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

পাবনা জেলা প্রশাসক মু: আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ, উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান আতিয়া ফেরদৌস কাকলী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টিএম রাহসিন কবির, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ, এমদাদুল হক রানা সরদার, সাইফুজ্জামান পিন্টু, নুরুল ইসলাম বকুল সরদার, আব্দুল খালেকসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সদস্যরা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি, রসাটমের মহাপরিচালক আলেপি লিখাচেভ সশরীরে উপস্থিত থাকবেন । ইতিমধ্যে গত ৮ আগস্ট ডামি ফুয়েল (ইউরেনিয়ামের আদলে তৈরি নকল পারমাণবিক জ্বালানি দন্ড) দিয়ে পরিবহন, স্থানান্তর ও সংরক্ষণের কাজের মহড়া শেষ হয়েছে।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ার একটি রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠান টিভিইএল। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও টিভিইএল-এর মধ্যে এ সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের লাইফ টাইম জ্বালানি সরবরাহ করবে। রূপপুর প্রকল্পের জন্য এই বিশেষায়িত জ্বালানি ইউরেনিয়াম রড রাশিয়াতে উৎপাদন করা হবে। এর পর তা বাংলাদেশে আনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই পারমাণবিক জ্বালানি রাশিয়া থেকে দেশে আনা এবং প্রকল্পে নেওয়ার সময় কঠোর নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানির নিরাপত্তা বিষয়ে আইএইএ-এর বিস্তারিত গাইডলাইন রয়েছে। সেটা অনুসরণ করে জ্বালানি বিমান বন্দরে এসে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে কঠোর নিরাপত্তায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হবে।

এই নিরাপত্তার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনী, পুলিশসহ বিভিন্ন বিভাগের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ও রয়েছে। সে সব বিষয়েও প্রস্তুতি চলছে।

রাশিয়ার প্রযুক্তি ও সার্বিক সহযোগিতায় দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাস্তবায়ন করছে। প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের অধিকাংশ টাকাই ঋণ সহায়তা হিসেবে দিচ্ছে রাশিয়া।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন