বাংলাদেশ বন্ধুদের ভুলে যায় না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার জাপানের টোকিওতে এক অনুষ্ঠানে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ সম্মাননাপ্রাপ্তদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন। এসময় সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। ছবি: ফোকাস বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপান বাংলাদেশের প্রয়োজনে সাহায্য করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশ বন্ধুদের ভুলে যায় না।

জাপানে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী টোকিওর আকাসাকা প্যালেস গেস্ট হাউসে চার জাপানি নাগরিককে ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। খবর বাসসের।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা (জাপান) বাংলাদেশের প্রয়োজনে সাহায্য করেছিল। এটি একটি বড় ব্যপার যে, আমরা আমাদের বন্ধুদের ভুলে যাই না।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধে সোচ্চার সমর্থন জানানোর জন্য জাপানিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্ম আগামী বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যেকার ‘দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব’ এবং ‘ঈর্ষণীয় অংশীদারত্ব’কে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই মহৎ অনুষ্ঠানে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। যেখানে আমরা শুধু আমাদের বন্ধুদের সম্মান করছি না, বরং জাপানের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধনও উদযাপন করছি।’

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা মানবতার স্বার্থে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, সেইসব মহান ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত মহৎ অনুষ্ঠানে সবাইকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে যেসব জাপানি নাগরিকরা ছিলেন তারাও আজ আমাদের সঙ্গে আছেন। এটি বাংলাদেশ এবং এর জনগণের জন্য একটি শুভ উপলক্ষ।’

সরকারপ্রধান বলেন, “জাপানের জনগণ তখন বাংলাদেশের দুর্দশাগ্রস্ত মানবতার পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের তালিকায় আটজন সম্মানিত ব্যক্তির রয়েছেন, যাদের ২০১২ সালের ২৭ মার্চ এবং ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ‘ফ্রেন্ড অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা। ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক জাপান সফর একটি সুদৃঢ় ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে।’

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন চার জাপানির সম্মানে প্রশংসাপত্র পাঠ করেন। তারা হলেন জাপান রেড ক্রস সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস তাদাতেরু কোনো, অধ্যাপক গ্যালপ পেমা, রাজনৈতিক নেতা হিদেও তাকানো (মরণোত্তর) এবং ফটো সাংবাদিক তাইজো ইচিনোসে (মরণোত্তর)।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন