সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সহস্রাধিক গ্রামে ঈদ শুক্রবার

সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরিফে ঈদের জামাত। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার দেশের সহস্রাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর পালন করবেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা। এদিন চট্টগ্রাম, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করবেন।

আড়াই শ বছর আগে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখিল গ্রামে সিলসিলায়ে আলিয়া কাদেরিয়া চিশতিয়ার বুজুর্গ হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগিরি (র.)-এর ফতোয়া অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় চাঁদ দেখা গেলেই ঈদ পালন করেন অনুসারীরা। শুধু ঈদ নয়, রোজাসহ সব ধরনের ধর্মীয় আচার-উৎসবও বিশ্বের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে পালন করেন তারা।

ওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগিরির আওলাদ মাওলানা হযরত শাহসুফি সৈয়্যদ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘গত ২২ মার্চ নাইজেরিয়ায় পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখার সংবাদের ভিত্তিতে সৌদি আরবসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে আমরাও রোজা শুরু করেছি। বাংলাদেশে প্রথম রমজান শুরু করল তার পরদিন। বিশ্বে কেয়ামত হবে মহরমের ১০ তারিখ শুক্রবার, হয়তো তখন কোথাও সকাল, কোথাও দুপুর, কোথাও বিকেল বা রাত। কিন্তু সারাবিশ্বে কোথাও মহরমের ১০ তারিখ, কোথাও মহররমের ১১ তারিখ হবে না। হানাফি মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী পৃথিবীর যেকোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা ও ঈদসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করার কথা।’

সৈয়্যদ মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘প্রায় আড়াই শ বছর আগে তো কোনো মোবাইল ফোন, ওয়েবসাইট ছিল না। তখন থেকেই আমাদের পূর্ব বুজুর্গানরা নিজস্ব চান্দ্রমাস গণনার সূত্র অনুযায়ী রোজা, ঈদসহ সব ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছেন। আমরাও বর্তমানে সেই চন্দ্রমাস গণনার সূত্র অনুযায়ী ও তথ্যপ্রযুক্তির ভিত্তিতে সিলসিলার যাবতীয় কার্যক্রম অব্যহত রাখার চেষ্টা করছি।’

শুক্রবার ঈদুল ফিতর পালন নিয়ে চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা ও সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ সবকিছু সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পালন করি। আমাদের ঈদের প্রস্তুতি আরও কয়েকদিন আগে থেকেই নেয়া হচ্ছে। তাই সৌদিতে চাঁদ দেখার বিষয়ে দেরিতে জানা গেলেও কাল আমরা ঈদ পালন করব ইনশাআল্লাহ।’

মির্জাখিল দরবার শরিফ সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টায় চন্দনাইশের জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরিফের ঈদগাহ মাঠে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঈদের প্রধান জামাত হবে। দরবার শরিফের পির মাওলানা হযরত শাহসুফি ছৈয়দ মোহাম্মদ আলী ঈদের জামাত পরিচালনা করবেন।

এ দিন সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের পশ্চিম এলাহাবাদ, উত্তর কাঞ্চন নগর, জুনিগোনা, আব্বাসপাড়া, মাঝের পাড়া, স্টেশন, দিঘির পাড়, কেন্দুয়ারপাড়া, কেওয়া, মোহাম্মদপুর, হারালা, সাতবাড়িয়া, উত্তর হাশিমপুর, সৈয়দাবাদ ও খুনিয়ারপাড়া; বাঁশখালীর জলদী, গুনাগড়ি ও কালিপুর; গন্ডামারার মিরিঞ্জিরিতলা, সনুয়া ও সাধনপুর; আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ, বাথুয়া ও বারখাইন; বোয়ালখালীর চরনদ্বীপ ও খরণদ্বীপ; লোহাগড়ার বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ, চুনতি, পুটিবিলা, উত্তরসুখছরি ও আধুনগর; সাতকানিয়ার মির্জাখিল, বাংলাবাজার, মাইশামুড়া, খোয়াছপাড়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, গাঠিয়াডাঙ্গা, পুরানগর ও মালেয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দারা ঈদ জামাতে সামিল হবেন।

এ ছাড়া সীতাকুন্ড, সন্দীপ, মীরেশ্বরাই, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, উখিয়া, বান্দরবান, আলী কদম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কুতুবপুর, ফেনী, বরিশাল সিটি করপোরেশন, বাবুগঞ্জ, হিঙ্গলা, মেহেন্দিগঞ্জ, বন্দর, সাহেবের হাট, বাকেরগঞ্জ, ঝালকাঠি, বাউফল, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া ও বরগুনার সহস্রাধিক গ্রামের বাসিন্দা পৃথক পৃথকভাবে ঈদের নামাজ আদায় করবেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন