কমেছে দারিদ্র্য, বেড়েছে বৈষম্য

দারিদ্র্যের হার কমলেও দেশে মানুষের আয়ের বৈষম্য বেড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সরকারের পরিসংখ্যান সংস্থার বুধবার প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দারিদ্র্যের হার কমলেও দেশে মানুষের আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। ৫ বছর আগে আয়ের বৈষম্যের সূচক ছিল শূন্য দশমিক ৪৮২। সর্বশেষ জরিপে বৈষম্যের সূচক হয়েছে শূন্য দশমিক ৪৯৯।

নতুন প্রকাশিত পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, দেশে দারিদ্র্যের হার হয়েছে ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ আর অতিদারিদ্র্যের হার হয়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সর্বশেষ জরিপে দারিদ্র্যের হার ছিল ২৪ দশমিক ৩ আর অতিদারিদ্র্যের হার ছিল ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

২০২২ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল, ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। অতিদারিদ্র্যের হার ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২০১৬ সালে দারিদ্র্যের হার ২৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। অতিদারিদ্র্যের হার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ। ২০১০ সালে দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ। অতিদারিদ্র্যের হার ১৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এই পরিসংখ্যান প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, দারিদ্র্যের হার কমার যে খবর এসেছে তাতে তিনি খুব খুশি হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকার করোনার সময় ঝুঁকি নিয়েছিল পুরোপুরি লকডাউনে যায়নি। ভালো প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। এছাড়া খোলা বাজার কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের মূল্যস্ফীতি বাড়তে দেয়নি। সব মিলিয়ে এর ফলাফল আমরা পেয়েছি।’

তবে দেশের বৈষম্য বাড়ার সংবাদটিকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, ‘বৈষম্য বাড়ার বিষয়টি নিয়ে বলা হয়ে থাকে উন্নয়ন হলে বৈষম্য বাড়ে। তবে এই বক্তব্যকে আমি মনে করি গতানুগতিক। আমি মনে করি বৈষম্য বাড়ার বিষয়টি অগ্রহণযোগ্য। কোনোভাবেই বৈষম্যকে গ্রহণ করায় যায় না। দরিদ্র মানুষকে সরকারি সম্পদে ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে না। যেমন জলমহাল, বালুমহাল এগুলোর নামে দরিদ্র মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এগুলো অগ্রহণযোগ্য।’

দেশের আয় বৈষম্যের চিত্র ‘গিনি সহগ’ দিয়ে তুলে ধরা হয়।

গিনি সহগে শূন্য নির্দেশ করে চরম সমতা অর্থাৎ সবার আয় বা সম্পদের পরিমাণ সমান। ১ নির্দেশ করে চরম অসমতা অর্থাৎ একজন ব্যক্তি সব অর্থ আয় করেন, বাকিরা কোনো আয় করেন না।

‘গিনি সহগ’ শূন্য দশমিক ৫০ হলে সেটা বিপজ্জনক ধরে নেয়া হয়।

বাংলাদেশে ১৯৮৮ সালে গিনি সহগ ছিল শূন্য দশমিক ৩০ এর নিচে। ২০১৬ সালেও ছিল শূন্য দশমিক ৪৮২। এখন তা বেড়ে শূন্য দশমিক ৪৯৯ মানে দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন