ভোটে সাংবাদিকের মোটরসাইকেলে ইসির নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচননে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নীতিমালা প্রকাশ করেছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নীতিমালা অনুযায়ী ভোটের দিন সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সংবাদকর্মীরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে সাংবাদিকদের যৌক্তিক সংখ্যক গাড়ির স্টিকার প্রদান করতে চায় সাংবিধানিক এ সংস্থা। এছাড়া কোনো নির্দেশনা পালন না করলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বুধবার ইসির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আশাদুল হকের স্বাক্ষরিত এক নীতিমালায় এসব তথ্য পাওয়া যায়। বিদায়ী নুরুল হুদা কমিশনও একাদশ ভোটের আগে সাংবাদিকদের মোটরসাইকেলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, পরে অবশ্য তারা সরে এসেছে। অন্যদিকে সাংবাদিকরা নির্বাচনে তাদের মোটরসাইকেলের ওপর বাধা প্রদান না করার দাবি তুলে আসছিলেন। এরই মাঝে আগের কমিশনের পথ অনুসরণ করে একেবারে আইন করেই গণমাধ্যমের প্রতি এই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল আউয়াল কমিশন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই কমিশন এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন নির্বাচন বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি। অবিলম্বে প্রনীত নীতিমালা বাতিল করে সাংবাদিক সহায়ক নীতিমালা প্রনয়ণের দাবি তাদের। নইলে সাংবাদিকরা কঠোর আন্দোলন করতে বাধ্য হবে বলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুকিমুল আহসান হিমেল স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন।

নির্বাচনী এলাকা ও ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের পালনীয় নির্দেশাবলী

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক সরাসরি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর প্রিজাইডিং অফিসারকে অবহিত করে ভোটগ্রহণ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ, ছবি তোলা এবং ভিডিও ধারণ করতে পারবেন, তবে কোনক্রমেই গোপন কক্ষের ভিতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না।

একইসঙ্গে দুইয়ের বেশি মিডিয়ার সাংবাদিক একই ভোটকক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। এবং ১০ মিনিটের বেশি ভোটকক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না।

ভোটকক্ষে নির্বাচনি কর্মকর্তা, নির্বাচনি এজেন্ট বা ভোটারদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে পারবেন না। ভোটকক্ষের ভিতর থেকে কোনভাবেই সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না; ভোটকেন্দ্রের ভিতর হতে সরাসরি সম্প্রচার করতে হলে ভোটকক্ষ হতে নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে তা করতে হবে, কোনক্রমেই ভোটগ্রহণ কার্যক্রমে বাঁধার সৃষ্টি করা যাবে না; সাংবাদিকগণ ভোটগণনা কক্ষে ভোট গণনা দেখতে পারবেন, ছবি নিতে পারবেন তবে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না।

এছাড়া ভোটকক্ষ হতে ফেসবুকসহ কোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করা যাবে না; কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন সকল কাজ থেকে বিরত থাকবেন; ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা প্রিজাইডিং অফিসারের আইনানুগ নির্দেশনা মেনে চলবেন; নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজে কোনরুপ হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না; কোন প্রকার নির্বাচনি উপকরণ স্পর্শ বা অপসারণ করতে পারবেন না।

নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহের সময় প্রার্থী বা কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে যেকোন ধরণের প্রচারণা বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা হতে বিরত থাকবেন; নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তার জন্য নির্বাচনি আইন ও বিধিবিধান মেনে চলবেন।

গত ২৮ মার্চ সাংবাদিকদের খসড়া সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন নিয়ে আলোচনায় সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘গণমাধ্যমের বিপক্ষে কখনোই আমাদের অবস্থান নয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা, সার্বিক কর্মকাণ্ডকে জনস্বার্থে নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয়, সেটা আমরা দেখব। আমরা আপনাদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করব।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন