![]() |
| সিটিটিসির কাছে আটক জঙ্গি সোহেলের সহযোগী ফাতেমা তাসনিম শিখা ও হুসনা আক্তার। |
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীন পুরান ঢাকার আদালত চত্বর থেকে পুলিশকে আক্রমণ করে পালিয়ে যাওয়া আনসার-আল-ইসলামের দুই জঙ্গি দেশেই রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট- সিটিটিসি। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে পলাতক দুই জঙ্গি পৃথক স্থানে আত্মগোপন করে আছে। এদের একজন সোহেল নারায়ণগঞ্জে শিখার বাসায় যাতায়াত করতেন। ফাতেমা তাসনিম শিখা জঙ্গি সোহেলের স্ত্রী। গত শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে শিখাকে গ্রেপ্তারের পর এই তথ্য জানতে পেরেছেন সিটিটিসির কর্মকর্তারা। শিখার সঙ্গে হুসনা আক্তার নামে আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নারায়ণগঞ্জের ওই বাসায় সোহেলের যাতায়াত ছিল। আমরা অভিযানে সোহেলকে পাইনি। পলাতক জঙ্গিদের গ্রেপ্তারে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
গত বছরের ২০ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম কোর্ট ভবনের সামনে থেকে আনসার-আল-ইসলামের সদস্য মাইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত ও আবু সিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নেয় সহযোগী জঙ্গিরা। এরপর প্রায় ছয় মাস পার হতে চললেও এখনো পালিয়ে যাওয়া দুই জঙ্গির কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, আদালত থেকে চারজন জঙ্গি ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। এই চারজন হলো- মাইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত ওরফে ইমরান, আবু সিদ্দিক সোহেল, মো. আরাফাত রহমান ও আব্দুস সবুর। মাইনুল হাসান শামীম ও সোহেলকে ছিনিয়ে নিতে পারলেও বাকি দুজনকে ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়।
সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দেন আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতা আবু ইমরান ওরফে ওসমান। আদালত থেকে জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাটি করেন আনসার আল ইসলামের আসকারি বিভাগের প্রধান আয়মান ওরফে মশিউর রহমান। আয়মানের পরিকল্পনা অনুযায়ী জঙ্গি ছিনতাইয়ে অংশ নেয়া সদস্য ও হাজতে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান ও সমন্বয় করেছে ফাতেমা তাসনিম শিখা।
সিটিটিসি প্রধান আসাদুজ্জামান জানান, আদালত চত্বর থেকে মাইনুল হাসান শামীম ওরফে সিফাত ও আবু সিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নেয়ার পর দুই ভাগে ভাগ হয়ে জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। একটি গ্রুপ সদরঘাট হয়ে পালিয়ে যায়, বাকিরা অন্যপথে। সবাই গিয়ে একটি আনসার হাউসে (শেল্টার হাউস) মিলিত হয়। সেখান থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে মাইনুল হাসান শামীম ও সোহেলকে পৃথক পৃথক স্থানে রাখা হয়।
সিটিটিসি প্রধান বলেন, হাজতে থাকা অবস্থায় সোহেলের সঙ্গে শিখা দেখা করতেন, কথা বলতেন। তারা ইশারা-ইঙ্গিতে তথ্য বিনিময় করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে তারা এই কাজটি করেছেন। জঙ্গি ছিনতাইয়ের সময় আদালত চত্বরে পরিকল্পনাকারী আয়মান ও সমন্বয়কারী শিখা দুজনই আশপাশে ছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, আনসার-আল-ইসলামের সদস্যরা জঙ্গি ছিনতাইয়ের পুরো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও সমন্বয় করার উদ্দেশ্যে ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী জেলায় একাধিক আনসার হাউস ভাড়া নেয়। সেখানে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ এবং সামরিক শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আয়মান এবং শিখাসহ অজ্ঞাতনামা আনসার-আল-ইসলাম সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত মিটিং করত। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জঙ্গি ছিনতাইয়ের দিন আদালতে বাবার সঙ্গে এসেছিলেন সোহেলের স্ত্রী শিখা। সেদিন কৌশলে বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান শিখা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বয়ের কাজ করেন।
সিটিটিসি জানিয়েছে, ফাতেমা তাসনিম শিখা ২০১৪ সালে এমআইএসটি থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেন। একপর্যায়ে তার ভাই মোজ্জাম্মেল হোসেন সাইমনের মাধ্যমে আনসার-আল-ইসলামের আদর্শে দীক্ষিত হন। পরবর্তী সময়ে সায়মনের মাধ্যমে আবু সিদ্দিক সোহেলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
সিটিটিসির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, সোহেল আনসার-আল-ইসলামের সামরিক (আসকারি) শাখার সদস্য ছিলেন। সোহেলের সঙ্গে বিয়ের পর থেকে শিখা আরও গভীরভাবে সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৭ সালে মুক্তমনা ব্লগার অভিজিত রায়, দিপন ও নীলাদ্রি নিলয় হত্যা মামলার আসামি হিসেবে আবু সিদ্দিক সোহেল গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর থেকে বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপসের মাধ্যমে শিখা কারাবন্দি সোহেলসহ অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

