![]() |
| প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গণভবনে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ঋণ পরিশোধের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির চেক গ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। ছবি: ফোকাস বাংলা |
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঈদের আগে, রোজার সময় ব্যবসায়ীদের কষ্ট, তাদের কান্না সহ্য করা যায় না।
বুধবার গণভবনে পদ্মা সেতু নির্মাণে সরকারি ঋণ পরিশোধের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির চেক গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে বলে দিয়েছি আমরা যতটুকু পারি সাহায্য করব, এবং কার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে সেটা দেখব।
পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী গৃহীত ঋণের প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তি পরিশোধ করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দুই কিস্তি পরিশোধের ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবাজারে আগুন লেগে দোকান-মালামাল পুড়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবচেয়ে কষ্ট লাগে, ’৯৫ সালে এবং ২০১৮ সালেও এখানে আগুন লেগেছিল। তারপর আমরা এখানে একটা সুপরিকল্পিত মার্কেট করার প্রকল্প গ্রহণ করি। তখন বেশ কিছু লোক বাধা দেয়। শুধু বাধা নয়, একটা রিটও করে। হাইকোর্ট এটাকে স্থগিত করে দেয়। সেই সময় যদি এটা স্থগিত না করত, তাহলে এখানে আমরা একটা ভালো মার্কেট তৈরি করে দিতে পারতাম। এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা আর ঘটত না।’
![]() |
| প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে দুই কিস্তি পরিশোধের ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ৯৭ হাজার ৪৯ টাকার চেক তুলে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: ফোকাস বাংলা |
ফায়ার সার্ভিসের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা
বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে বলেছি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, মামলা দেয়া হবে। ভবিষ্যতে কেউ যদি এ ধরনের আক্রমণ করে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু মানুষের আচরণ আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে। যখনই আগুন লেগেছে, ফায়ার ব্রিগেড চলে গেছে আগুন নেভাতে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ, আনসার ভিডিপি, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবীরা প্রত্যেকে সেই সকাল থেকে কাজ করেছে। মানুষকে সহায়তা করছে আগুন নেভাতে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা নেই বার্তা নেই, দুপুরের পর একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হাজির। তারা ফায়ার সার্ভিসের অফিসের ভেতরে ঢুকে কয়েকটা গাড়ি ভাঙচুর করেছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। সেটা কেন? আমি তাদের চিহ্নিত করতে বলেছি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে, মামলা দেয়া হবে। ভবিষ্যতে কেউ যদি এ ধরনের আক্রমণ করে, তাদের ছাড় দেয়া হবে না।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যতই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, ততই পেছন থেকে টানার চেষ্টা সব সময় লক্ষ্য করি। যত বাধাই আসুক, উন্নয়ন-অগ্রগতির যে প্রচেষ্টা, সেটা অব্যাহত রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’


