| পাবনায় চাঞ্চল্যকর দুই ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। |
নিজস্ব প্রতিবেদক: চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই এবং সেগুলো শোরুমের মাধ্যমে বিক্রি করতো- এমন চক্রের মূলহোতা সুমনসহ ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এসময় ছিনতাইয়ের ১২টি অটো ইজিবাইক, নগদ টাকা ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে তাদের কাছ থেকে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে পাবনা সদর থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান, পাবনা পুলিশ সুপার (এসপি) মহিবুল ইসলাম খান। গত বুধবার থেকে টানা ৩৬ ঘণ্টাব্যাপী পাবনাসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন - কুষ্টিয়া জেলার খোকশা থানার হেলালপুর গ্রামের দুলাল শেখের ছেলে মো. সুমন শেখ (৩০), পাবনার আটঘরিয়ার অভিরামপুর গ্রামের মৃত তারো প্রামানিকের ছেলে বাচ্চু মিয়া (৪৫), আটঘরিয়ার দেবত্তর উত্তরপাড়া গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে বজলুর রহমান (২৪), আটঘরিয়ার অভিরামপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে হাসান আলী (২৫), নাটোরের বড়াইগ্রামের খোয়াজ মোল্লার ছেলে শামীম মিয়া (২৫), নাটোরের চক বড়াইগ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে শরিফুল ইসলাম (২৬) ও নাটোরের বড়াইগ্রামের বাজিতপুর এলাকার খোয়াজ মোল্লার ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৪)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ ডিসেম্বরে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে একটি পুকুর থেকে পাবনা সদরের দক্ষিণ রাঘবপুর গ্রামের তাজউদ্দীনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৬০) নামের ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি সদর থানার মনোহরপুর মসজিদের সামনে থেকে শহরের সাধুপাড়ার খইম উদ্দিনের ছেলে রইচ উদ্দিন (৬০) নামের আরেক ইজিবাইক চালকের লাশ উদ্ধার করা হয়। দুইজনকে চেতনানাশক ওষুধ খাওয়ানোর পর হত্যা করে তাঁদের ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে যায় খুনিরা।
তিনি জানান, প্রথম ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়- দুইটি ঘটনায় একই চক্র জড়িত। এক পর্যায়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি চৌকস টিম ও পাবনা সদর থানার আরেক টিম পাবনার ঈশ্বরদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকান্ড ও ছিনতাইয়ের মাস্টারমাইন্ড সুমন শেখকে গ্রেপ্তার করে। সুমনের দেয়া তথ্যমতে- পাবনা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের সক্রিয় আরও ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় হত্যাকান্ডের সময় ছিনতাই হওয়া ২টি অটো ইজিবাইক, চোরাই সন্ধিগ্ধ আরও ১০টিসহ মোট ১২টি অটো ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও চোরাই ইজিবাইক বিক্রির ৩৪ হাজার টাকা ও ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত ৭টি ফোন জব্দ করা হয়।
এই চক্রটি একেবারে পেশাদার। সারা দেশে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা ইজিবাইক ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এবিষয়ে আরও তথ্যের জন্য আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান মহিবুল ইসলাম খান।
সংবাদ সম্মেলনে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ), মো. মাসুদ আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সাকেল) রোকনুজ্জামান সরকার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম, এসআই অসিত কুমার বসাক, এসআই রাসেল কবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
