| নাটোর প্রেসক্লাবের ছাদ থেকে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ব্যানারটি গতকাল বুধবার সকালে সরানোর পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে |
নাটোর প্রতিনিধি: নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে ব্যানার লাগানো নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদের বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এ দুজন হলেন নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সাংসদ এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ এবং নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম।
বুধবার সকালে শহরের কানাইখালি এলাকায় নাটোর প্রেসক্লাবের ছাদের বিলবোর্ড থেকে জুনাইদ আহ্মেদের একটি ব্যানার খোলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এ জন্য জুনাইদ আহ্মেদের কর্মী-সমর্থকেরা সরাসরি শফিকুল ইসলামকে দায়ী করেন। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ব্যানারটি আবার আগের স্থানে টানানো হয়।
২০ ফেব্রুয়ারি শংকর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন ঘিরে বিলবোর্ড আর ব্যানার স্থাপনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। শহর ছেয়ে গেছে নেতাদের ব্যক্তিগত ব্যানার–পোস্টারে।
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্মেলন উপলক্ষ্যে নাটোর প্রেসক্লাবের ছাদে একটি বিলবোর্ডে জুনাইদ আহমেদ পলকের একটি ব্যানার টানানো হয়েছিল। গতকাল বুধবার সকাল ১১টার দিকে দুই যুবক বিলবোর্ড থেকে ওই ব্যানারটি খুলে ফেলেন। বিলবোর্ডের বিপরীত পাশের ভবন থেকে ব্যানার খোলার এই দৃশ্য ভিডিও করেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগের এক পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে ছুটে আসেন এবং বিক্ষোভ মিছিল করার উদ্যোগ নেন। পরে তড়িঘড়ি করে পুলিশের মধ্যস্থতায় দুপুর ১২টার দিকে আবারও ব্যানারটি ওই বিলবোর্ডে সাঁটানো হয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আসেন সাংসদ শফিকুল ইসলাম। তিনি উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিমন্ত্রীর ব্যানার খোলা যাবে না। প্রয়োজন হলে তাঁর ব্যানার খুলে প্রতিমন্ত্রীর ব্যানার লাগাতে হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাংসদ শফিকুরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাশিরুর রহমান খানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ব্যানারটি খুলেছিলেন। বিলবোর্ডের ভাড়া পরিশোধ করে ব্যানারটি সাঁটানো হয়েছিল। কারোই ব্যানারটি খোলার এখতিয়ার ছিল না। জুনাইদ আহমেদকে অপমানিত করার জন্য ব্যানারটি খোলা হয়েছিল।
তবে বাশিরুর রহমান খান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাজানো। সম্মেলনের আগে অস্থীতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সাংসদ শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার জন্য সাজানো ভিডিও ছড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যানার খুলে নেওয়ার মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে একটি মহল। তবে সেই মহল কারা সেটি তিনি বলেননি।
প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত ব্যানার নামানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। আইসিটি ডিভিশন চুক্তি ও ভাড়া পরিশোধ করেই ব্যানার স্থাপন করেছে। সেখানে গায়ের জোরে এই ব্যানার নামিয়ে তিনি অপরাধ করেছেন। জেলা আওয়ামী লীগ এই ঘটনার জন্য যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির কাছে কৈফিয়ত চেয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করেন তিনি।
