ওরা কৃষকদের জিম্মি করে গরু ডাকাতি করত

নিজস্ব প্রতিবেদক: হায় কৃষকদের টার্গেট করত। এরপর সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মাধ্যমে জিম্মি করে গরু ডাকাতি করতো- এমন ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পাবনা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ট্রাক ও ডাকাতি করা ৭টি গরু।

রোববার দুপুরে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার (এসপি) মহিবুল ইসলাম খান এমন তথ্য জানান।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে সাঁথিয়া উপজেলার নাগ ডেমরা ইউপির শরিষা ফরিদ এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। গতকাল শনিবার রাতে সাঁথিয়া থানায় মামলা হলে রাতেই সিরাজগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এরা হলেন- পাবনার ফরিদপুর উপজেলা নেচরাপাড়া গ্রামের রহমত মোল্লার ছেলে রোকন মোল্লা (২৮), চাটমোহরের দোলন গ্রামের মৃত ওয়ারেছ আলীর ছেলে সিহাব উদ্দিন (২৭), ফরিদপুরের বিলচান্দ গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে আল-আমিন (২০), সিরাজগঞ্জের সংকুড়িপাড়া গ্রামের সামসুুল ইসলামের ছেলে ফরিদুল ইসলাম (৩৭), একডালা গ্রামের কামালপাশার ছেলে কামরুল ইসলাম (২৮) ও সিরাজগঞ্জের কুরিপাড়া গ্রামের মৃত নূর হোসেনের ছেলে কোরবান আলী (৪৮)।

পুলিশ সুপার বলেন, শরিষা ফরিড এলাকায় গত রবিবার রাতে খেসারির জমিতে স্থাপিত গরুর বাথানে ১০টি গরু বেঁধে রেখে সেখানেই ছাপড়া ঘরে আব্দুল মোতালেব প্রামাণিক তার ছেলেসহ ঘুমিয়ে পড়ে। রাত দুইটার দিকে ১২-১৩ জন ডাকাত আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত, পা, মুখ বেঁধে প্রায় ২০ লাখ টাকার মূল্যের ১০টি গরু ও ২টি মোবাইল ফোন ডাকাতি করে নিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আরও জানান, ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সাঁথিয়া থানা থেকে একসাথে ১০টি গরু ডাকাতির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ দিলে সিরাজগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে ডাকাতির সাথে জড়িত অন্যান্যদের নাম পাওয়া গেছে।

মহিবুল ইসলাম খান বলেন, ‘রাতের আধারে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতচক্র কৃষকের গরু ও ফসলি মালামালসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ডাতাতি করতো। সেই মালামাল তারা ট্রাক ও প্রাইভেটকারে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে আসছিল।’

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামে মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাদের আদালতে প্রেরণ ও উদ্ধার গরুগুলো কৃষককে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রোকনুজ্জামান সরকার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম, সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসিফ মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম প্রমুখ।

কৃষক মোতালেব প্রামাণিক বলেন, ‘গরুগুলোর আয়েই আমার সংসার চলত। অথচ এক রাতেই ডাকাতেরা আমার সব গরু নিয়া যাওয়াতে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছিলাম। আমার সন্তানদের পড়ালেখার খরচ জোগানো নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু গরুগুলো ফিরে পাওয়ায় আমরা ভীষণ  আনন্দিত।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন