![]() |
| করোনাভাইরাস। প্রতীকী ছবি |
নিজস্ব প্রতিবেদন: কুষ্টিয়ায় ঈদের পাঁচ দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬২ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত) করোনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায়ও মারা যান ১৫ জন।
এদিকে জেলায় করোনা হাসপাতালে রোগী ভর্তির হার কমলেও হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর হার যেন কোনোভাবেই কমছে না।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঈদের দিন বুধবার জেলায় ৯ জন রোগী মারা যান। এরপর বৃহস্পতি ও শুক্রবার যথাক্রমে ১২ জন ও ১১ জন মারা যান। গতকাল শনিবার ও আজ রোববার ১৫ জন করে মারা যান। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ৪৯৫ জন রোগী। জুলাই মাসের ২৫ দিনেই মারা গেছেন ২৮৪ জন, যা মোট মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি।
গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪১ নমুনা পরীক্ষায় আরও ২৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৯১ শতাংশ। কুষ্টিয়া করোনা হাসপাতালে ২০০ শয্যার বিপরীতে করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি ২০৮ জন। এর মধ্যে পজিটিভ রোগী ১৪৮ জন। বাকি ৬০ জন উপসর্গ নিয়ে। প্রায় ৭০ শতাংশ রোগীর সব সময় অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে।
ঈদের আগের দিন থেকে করোনা হাসপাতাল রোগী ভর্তির হার কমেছে। তবে মৃত্যু হারটা কমেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় এই হাসপাতালে ১৪ জন রোগী মারা যান। তার মধ্যে পজিটিভ রোগী ১৩ জন।
গতকাল বিকেলে হাসপাতালে দেখা যায়, পেয়িং ওয়ার্ড থেকে শুরু করে ১০ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত বারান্দার মেঝেজুড়ে রোগীদের ছড়ানো–ছিটানো বিছানা। সেখানে বৃদ্ধ রোগীই বেশি। প্রায় সবারই অক্সিজেন চলছে। দোতলায় অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ব্যবস্থা নেই। রোগী বেশি খারাপ হলে তাঁদের ঢাকা, খুলনা বা রাজশাহী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। দোতলায় করোনা রোগীদের বেডের ঘাটতি রয়েছে। দোতলায় চিকিৎসাব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ বেশি। এ জন্য রোগীদের সেখানেই রাখা হচ্ছে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. আরিফুজ্জামাক বলেন, হাসপাতালে ২০০ শতাধিক পয়েন্টে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া ১৭টি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুল চালু রয়েছে। বেশি গুরুতর রোগীদের জন্য আলাদাভাবে পেয়িং ওয়ার্ডে রাখা হয়। ঈদ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। রোগী বাড়লেও চিকিৎসাব্যবস্থা ও ভর্তির ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে।
কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, কুষ্টিয়ায় গত দুই মাসে করোনায় মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। তবে আশা করা যাচ্ছে, এটা কমে যাবে। আর প্রায় সব মানুষই মৃদু সংক্রমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ জন্য ঈদপরবর্তী আক্রান্তের হার কমতে পারে।
এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম আরও বলেন, গত দুই দিন জেলায় কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন হতে দেখা যাচ্ছে। এটা যদি জুন মাসের সময় হতো, তবে সংক্রমণের হার হয়তো সেই সময় থেকে কমানো যেত।

