শনিবার চলতি একাদশ সংসদের ১৩তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখন তো শিশুদেরও করোনা সংক্রমণ হচ্ছে। লেখাপড়া শিখবে, কিন্তু এটার জন্য জেনেশুনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবো কি না তা একটু বিবেচনা করবেন। বলার জন্য বলতে পারেন, কিন্তু এটাও একটু চিন্তা করবেন, ছেলেমেয়েদের মৃত্যুর মুখে দেবেন কি না?’
তিনি বলেন, ‘স্কুল-কলেজ খোলার ব্যাপারে কথা উঠেছে। তারা এটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার যাদের ছেলেমেয়ে স্কুলেই যায় না। পড়েই না, পড়ার মতো ছেলে-মেয়ে নাই, তারাই বেশি কথা বলেন।’
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন
পদক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা সর্বস্তরে শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছি। বিনা
পয়সায় বই দিচ্ছি। করোনাকালে স্কুল শুরু হবে, এজন্য শিক্ষার্থীদের স্কুল
ড্রেস, জুতো, ব্যাগ কেনা ও স্কুল ফিডিংয়ের জন্য বাজেটে টাকা রেখেছি। স্কুল
বন্ধ আছে কিন্তু পড়াশুনা যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য সংসদ টিভি চালু আছে। আমরা
রেডিও উন্মুক্ত করে দিয়েছি। রেডিওর মাধ্যমে পাঠ চলছে। যেভাবে সম্ভব
পড়াশুনার কাজটি চালিয়ে রাখতে সক্ষম হচ্ছি।’
অন্যান্য দেশের কথা
উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদেশে আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়ে বা আমাদের
নাতি-নাতনিরা পড়ে, আমাদের অনেক পরিচিতজন পড়ে। বিদেশে আমরা দেখেছি, সবই
অনলাইন। একটু খুলল, আবার মহামারি ছড়িয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে সব বন্ধ। আবার ঘরে
বসে কাটাচ্ছে। হ্যাঁ, তারা অপশনও দিচ্ছে। যারা ঘরে বসে পড়বে, তারা পড়ছে।
যারা যাচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে। আবার যখন করোনা বেশি ছড়াচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে
বন্ধ করছে। শুধু বাংলাদেশ না, সারা বিশ্বে একই অবস্থা, এটা ভাবতে হবে
সবাইকে। শিক্ষার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজ কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষকদের টিকা দিয়েছি। ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশনের কতগুলো নির্দেশনা মেনে চলতে হয়। কোন টিকা কোন বয়সে দেওয়া যাবে, তারা কতগুলো পরামর্শ দেয়। সেগুলো বিবেচনা করে আমরা ইতোমধ্যে টিকাদান শুরু করেছি।
তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

