![]() |
| মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম। ফাইল ছবি |
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি: বহুল আলোচিত ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্ণ
হলেও দায়ের করা মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই।
২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি অজ্ঞাতনামার গুলিতে খুন হন। আলোচিত সেলিম হত্যা মামলার সুষ্টু তদন্তের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও খুনিরা রয়েছে অধরা। এ অবস্থায় হত্যাকান্ডের মোটিভ উদঘাটন ও তদন্ত সম্পন্ন না হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর সেলিমের পরিবারে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
এদিকে সেলিম হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্তিতে শুক্রবার পাকশী রেলওয়ে কবরস্থান মসজিদে জুমা নামাজের পর মিলাদের আয়োজন করেছে পরিবার।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই তদন্তকাজ শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। কিন্তু এপর্যন্ত তদন্ত সম্পন্ন ও আসামি শনাক্ত করতে পারেননি।
মামলার বাদী নিহতের ছেলে তানভীর রহমান তন্ময় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, “ভরসা এখন আল্লাহ উপর। যদি বিচার করেন! এর বাইরে আমি কোনো কিছুই দেখছি না।”
নিহতের চাচাতো ভাই আহসান রুবেল বলেন, “এ হত্যাকান্ডের দীর্ঘ সময়ে তদন্তের অগ্রগতি না হওয়ায় বিচার পাওয়া নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি অস্বাভাবিক কিছু নয়। ঘৃণিত এ হত্যাকাণ্ডের পর খুনি ধরতে আল্টিমেটাম, বিচার দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও সড়ক অবরোধসহ বহু আন্দোলনেও কোনো ফল হয়নি। দীর্ঘ সময়েও হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ হত্যাকাণ্ডের রহস্যময়তা দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অসফলতার নজির বলা যায়।”
ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল বলেন, “সেলিম হত্যারহস্য অমীমাংসিত রাখার কোনো সুযোগ নেই। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার অবশ্যই করতে হবে।' তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে কোনো কর্মসূচি নেইনি। পরে আমরা মুক্তিযোদ্ধা সেলিম স্মরণে কর্মসূচি নেব।”
তদন্ত প্রসঙ্গে পিবিআই পাবনার পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, “বছর খানেক সময় ধরে মামলা তদন্ত চলছে। অনেক অগ্রগতিও আছে। তদন্তে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে রাজনৈতিক হিংসা-প্রতিহিংসার কারণে মুক্তিযোদ্ধা সেলিম খুন হতে পারে। খুনি চিহ্নিত হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।”
ফিরে দেখা: ২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাবনা পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম ঈশ্বরদী থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের ভাইয়ের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল্লাহ আল বাকী আরজুকে (৪৮) অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরজু দোষ স্বীকারের পাশাপাশি তিনি হত্যাকাণ্ডের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তা গোপন রাখা হয়। হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়।
২০১৯ সালের ১৮ এপ্রিল সেলিম হত্যাকান্ডের সঙ্গে পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস সরাসরি জড়িত বলে দাবি করেছিলেন নিহতের পরিবার। ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। অবিলম্বে এনাম বিশ্বাসকে গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহত মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমের ছেলে মো. তানভির রহমান তন্ময়। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস নিজের আত্মীয় ও ব্যক্তিগত কর্মচারীদের ভুয়া কৃষক সাজিয়ে তালিকা করে নামে-বেনামে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের সব প্রক্রিয়া শেষ করে। এ প্রতারণার প্রতিবাদই কাল হয় মুক্তিযোদ্ধা সেলিমের জন্য।
তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, “এমন ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়। হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে প্রথম মানববন্ধন আমি করেছিলাম বলে মন্তব্যে করে বলেন, খুনিদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।”
হত্যাকান্ড: ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ৯টার দিকে মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাফিজুর রহমান সেলিম রূপপুর বিবিসি বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্ত্বের গুলিতে আহত হন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে তিনি মারা যান।

