![]() |
| আশ্রায়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পর জমি ও ঘরের ফাইল হস্তান্তর করা হয়। |
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পাকা বাড়ি ও জমি পেয়েছেন ঈশ্বরদীর তিন ইউনিয়নের ৫০টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বাড়ি ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ঈশ্বরদীতে একইসময়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমির দলিল ও ঘর হস্তান্তর করা হয়। ভূমিহীন ও গৃহহীন এসব পরিবারের জন্য দুই শতাংশ খাস জমির উপর আধা পাকা টিনশেডের ২টি শয়নকক্ষ, টয়লেট, রান্নাঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ভূমিহীন পরিবারগুলো নতুন বাড়ি পাওয়ার আনন্দে খুশিতে দিশেহারা।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের অসহায় পরিবারের মাঝে আশ্রায়ণ প্রকল্পের-২ আওতায় উপজেলার তিন ইউনিয়নের ৫০টি গৃহ ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য সরকারি খাস জমিতে গৃহনির্মাণের কাজ শুরু হয়। তিন ইউনিয়নের মধ্যে মুলাডুলি ৩৩, লক্ষীকুন্ডা ১০ ও সাঁড়া ইউনিয়নে ৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, দুই শতাংশ সরকারি খাস জমিতে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধাপাকা টিনসেট প্রতিটি বাড়িতে দুইটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর, টয়লেট ও বারান্দা নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, পানিসহ অন্যান্য সুবিধা রাখা হয়েছে। নতুন বাড়িসহ দুই শতাংশ জমির দলিল করে গৃহহীন এসব পরিবারকে ভূমি ও বাড়ির মালিক করা হয়েছে।
গৃহহীনদের মাঝে বাড়ি ও ভূমির দলিল হস্তান্তর উপলক্ষে আজ ২৩ জানুয়ারি শনিবার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহহীনদের বাড়ি প্রদান উদ্বোধন অনুষ্ঠান ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নিতে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদে বিশেষ আয়োজন করা হয়।
এতে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরদীর ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস। উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, নবনির্বাচিত মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখ মো: নাসীর উদ্দীন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এনামুল কবির, সমাজসেবা কর্মকর্তা খোন্দকার মাসুদ রানা, মৎস্য কর্মকর্তা শাকিলা জাহান, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামসহ সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পরিষদের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও কর্মকর্তারা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, চমৎকার পরিবেশে মানসম্মত টেকসই এসব ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব ভূমিহীন দরিদ্র মানুষের নিজস্ব কোন জমি বা ঘরবাড়ি ছিলনা। তাদের অনেকেই রাস্তার ধারে ফুটপাত বা কারো আশ্রয়ে বসবাস করতেন। এর ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।পর্যায়ক্রমে উপজেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জমি ও ঘর নাই ; তাদের বসবাসের জন্য বাড়ি দেওয়া হবে।

