শেখ হাসিনার দেওয়া নতুন ঘরে খুশি সুকজান বেগম

সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সুকজান বেগম।
খোন্দকার মাহাবুবুল হক দুদু: কায়িক শ্রম শেষে এখন আর ফুটপাত বা অন্যের ঘরে ফেরা নয়। ভূমিহীন ও গৃহহীন হ্নতদরিদ্র সুকজান বেগম এখন থেকে নিজ ঘরে থাকতে পারবেন। শুধু ঘরই নয়। থাকছে নিজ নামে দুই শতক জমি, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, সুন্দর বারান্দাসহ বসবাসের নিরাপদ সুবিধা।
সুকজানের মত ঈশ্বরদী উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া স্বপ্নের বাড়ি উপহার। প্রথম পর্যায়ে ঈশ্বরদীর ৫০টি পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে নতুন এসব বাড়ি। কাল শনিবার ২৩ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদীসহ সারাদেশে একযোগে গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারদের এসব বাড়ি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এজন্য ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিএম ইমরুল কায়েস তাঁর উপজেলায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের বিনা টাকায় ঘর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় ঈশ্বরদীতেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের -২ আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের মাঝে নতুন ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে। নতুন ঘর পাওয়া এসব ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষগুলোর চোখে মুখে এখন অনাবিল স্বপ্ন।
বাড়ি পাওয়ার আনন্দে শহরের দড়িনারিচা পশ্চিম টেংরী এলাকার ভূমিহীন সুকজান বেগমের চোখ যেন জলে ভরে গেছে । 'ঘর পেয়ে কেমন লাগছে?' জিজ্ঞেস করায় সুকজান বলেন , ‘আমি ছেলে, নাতি ও বোনকে নিয়ে মানুষের জায়গায় কুঁড়েঘরে থাকি। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে আমি জমিসহ ইটের একখানা নতুন ঘর পাবো- শেখ হাসিনার সরকার আমাকে ইটের ঘর দিবেন। এই বয়সে ইটের ঘরে থাকতে পারবো। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি ঘর পেয়ে। দোয়া করি শেখ মুজিবরের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার হাজার বছর থাকুক।'
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ঈশ্বরদীতে প্রতিটি ঘরের জন্য দুই শতাংশ খাসজমির বন্দোবস্তসহ দুই কক্ষের সেমিপাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘরের প্রত্যেকটিতে একটি রান্না ঘর, টয়লেট ও সামনে খোলা বারান্দা রয়েছে। এই উপজেলার জন্য সম্প্রতি পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে ‘ক’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৯৬টি পরিবারের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রথম পর্যায়ে ঈশ্বরদী উপজেলায় ৫০টি পরিবারকে জমি ও ঘর নির্মাণ করে দিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুলাডুলি ইউনিয়নে ৩৩ লক্ষীকুন্ডায় ১০ এবং সাঁড়া ইউনিয়নে রয়েছে ৭টি ঘর। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৫ লাখ ৫০ হাজার এবং প্রতিটি গৃহনির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, চমৎকার পরিবেশে মানসম্মত টেকসই এসব ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এতে এসব ভূমিহীন দরিদ্র মানুষের নিজস্ব কোন জমি বা ঘরবাড়ি ছিলনা। তাদের অনেকেই রাস্তার ধারে ফুটপাত বা কারো আশ্রয়ে বসবাস করতেন। তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার পেলেন। এর ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে উপজেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জমি ও ঘর নাই ; তাদের বসবাসের জন্য বাড়ি দেওয়া হবে।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন