রূপপুর প্রকল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রূপপুর প্রকল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই বিক্রিয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করা হয়। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ। এর মধ্য দিয়ে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর আরও কাছাকাছি এগিয়ে গেল। আগামী ডিসেম্বরে এই কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিকিরণের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনপ্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরে শুরুর পরিকল্পনা ছিল। নিরাপত্তা ভালভের পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়লে এটি পিছিয়ে যায়। গত সপ্তাহে উচ্চ চাপে দুই দফায় ভালভের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এই পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করে ৮ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বিক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা)। ১১ অক্টোবর, রোববার বেলা ৩টা ৩৪ মিনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি টাকার অঙ্কে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প। বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরমাণু শক্তি কমিশন। কমিশনের অধীনে পরিচালনার কাজটি করছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) নামের সরকারি কোম্পানি। রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান বলেন, তিন দিনের প্রস্তুতির পর গতকাল শনিবার পারমাণবিক বিক্রিয়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৬১ সালে শুরু করা পারমাণবিক ব্যবহারের যে যাত্রা, সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। দেশের বিজ্ঞান খাতে এটি বড় রকমের মাইলফলক।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, প্রথমবারের মতো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্র সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অর্জন। ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লিপাত্রের গুরুত্বপূর্ণ সব মাপকাঠি নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে

বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার পথে পারমাণবিক বিক্রিয়া একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সেটি আজ অতিক্রম করেছে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিকস পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার যাচাই, ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টর পাওয়ার বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযুক্তের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষ করা হবে। প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মান, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, চুল্লিপাত্র (রিঅ্যাক্টর) ক্রিটিক্যালিটি অর্জন বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তি সক্ষমতার এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর বাংলাদেশ এখন তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর পর্যায়ক্রমে কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। এ পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে চুল্লিপাত্রের ভেতর শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। পারমাণবিক জ্বালানির বিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে তাপশক্তি উৎপাদন। এ তাপ দিয়েই বাষ্প তৈরি করে ঘোরানো হবে টারবাইন, উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ।

চুল্লিপাত্রে শক্তি উৎপাদন শুরুর পর উৎপাদন ক্ষমতা ধাপে ধাপে বেড়ে ৩০ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এরপর ৩০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এটি ডিসেম্বরে হতে পারে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুর পর টানা ৭-৮ মাস চলতে পারে পরীক্ষামূলক উৎপাদন। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ গেলেই পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশে স্থান করে নেবে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকল্প এলাকায় পারমাণবিক জ্বালানি আসার পরই পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে স্বীকৃতি পায় রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র। জ্বালানি বুঝে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পারমাণবিক শক্তির অধিকারী দেশের তালিকায় নাম ওঠায় বাংলাদেশ।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র বলছে, চালুর পর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রতি দেড় বছর পর নতুন জ্বালানি ভরতে হবে চুল্লিতে। ব্যবহৃত জ্বালানির বর্জ্য বের করা, নতুন জ্বালানি ঢোকানো ও রক্ষণাবেক্ষণ মিলে একটি ইউনিট সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে। রূপপুরের একটি ইউনিট চালু হলে বছরে ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা যেত। অথচ সাড়ে তিন বছর পিছিয়ে গেছে এটি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় ২৬ হাজার কোটি টাকা খরচ বেড়েছে প্রকল্পের। ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা খরচ হবে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অস্থায়ী ভবনে আগুন: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে একটি অস্থায়ী ভবনে গত সোমবার মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে হওয়ায় এর প্রভাব পড়েনি প্রকল্পের মূল নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের অফিস আসবাবপত্র, নথিপত্র, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও যোগাযোগসংক্রান্ত কিছু সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ কপি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকায় তথ্য সংরক্ষণ বা কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রকল্পের নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনাসমূহের বাইরে থাকা একটি অস্থায়ী ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পে বায়েকের অফিসে গভীর রাতে আগুন, পুড়ে গেছে সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর বায়েকের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সূত্রমতে, বায়েকের সার্ভার রুমে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই তা আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আগুনে বায়েকের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তিনি ও প্রকল্প পরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে; তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রূপপুর প্রকল্পের : দুমালামাল চুরিইজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালামাল চুরির ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- চররূপপুর গ্রামের মজনু সরদার (৪৫) ও মন্টু সরদার (৪০)।

এদিকে শুক্রবার সকালে প্রকল্পের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর তাদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপপুর পারমাণবিক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন কুমার সাহা পদ্মা নদীর চর এলাকায় অভিযান চালান। অভিযানে প্রকল্প থেকে চুরি যাওয়া লোহার ক্যাবল, ধাতব পাতসহ মূল্যবান সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এগুলোর বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 নয়ন কুমার সাহা বলেন, “অপরাধের সঙ্গে কোনো আপস হবে না। প্রকল্পের মালামাল চুরি রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মনিরুল ইসলাম জানান, “আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে হাজির করা হলে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। চুরির ঘটনায় পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন