মৎস্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মৎস্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদী মৎস্য খামারে মালামাল চুরি: পুলিশের হাত থেকে কর্মচারীকে ছাড়ানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন:  ঈশ্বরদী উপজেলা মৎস্য বীজ ও উৎপাদন খামারে সাড়ে চার কোটি টাকার সংস্কারকাজ চলছে। কাজ শুরুর পর থেকেই অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠে আসছিল। এবার প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্ধলাখ টাকার মালামাল চুরি করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটিরই পাম্প অপারেটর কেরামত আলীর বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, চুরি করা মালামাল বিক্রির সময় পুলিশ কেরামত আলীকেসহ চারজনকে আটক করে। কিন্তু আটকের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাঁরা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমারের হস্তক্ষেপে তাঁরা মুক্তি পেয়েছেন। গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও কেরামত আলীর বিরুদ্ধে একটি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ ছাড়া কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন।

মালামাল হারিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। তবে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় মালামাল ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

খামার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় গত এপ্রিল মাস থেকে ঈশ্বরদী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে হ্যাচারি কমপ্লেক্স ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ করছে ‘মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ ও ‘এসএ খান করপোরেশন’ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজের রডসহ অন্যান্য মালামাল দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন কেরামত আলী।

মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দফায় দফায় রড চুরি হয়। রড বিক্রির সময় পুলিশ পাম্প অপারেটর কেরামত আলী, নির্মাণশ্রমিক ছামাদুল ও ফেরদৌস এবং স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলীমকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসএ খান করপোরেশনের প্রায় ১৭ হাজার টাকা মূল্যের ১৬ মিলিমিটারের ১২টি এবং মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের আনুমানিক ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ২২টি রড উদ্ধার করা হয়। একটি রড উদ্ধার করা হয় কেরামতের ঘর থেকে। সম্প্রতি আরও প্রায় ৪০ হাজার টাকার ইট হারানোর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

আটক দুই শ্রমিক ছামাদুল ও ফেরদৌসের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চাবি কেরামত আলীর কাছে থাকত। তিনি তাঁদের ডেকে রড কেটে ভাঙারির ভ্যানে তুলতে বলেন। শ্রমিকেরা সে অনুযায়ী কাজ করার সময় পুলিশ এসে সবাইকে আটক করে। পরে কেরামত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জিম্মায় সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মালামাল এখনো থানায় রয়েছে।

ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম জানান, তিনি এগুলো চুরির রড বলে জানতেন না। কেরামত তাঁর কাছে বিক্রি করেছিলেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা তারেক হোসেন ও আবু সাইদ বলেন, চুরির বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও খামার কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। মালামালও উদ্ধার হয়নি। বাধ্য হয়ে তাঁরা আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাম্প অপারেটর কেরামত আলী বলেন, ‘কাজে কড়াকড়ি করায় আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি চুরির সঙ্গে জড়িত নই। মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন ও ডিএফও স্যার সুপারিশ করে আমাকে ছাড়িয়ে এনেছেন।’

তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. শাম্মী শিরিন সুপারিশ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওই খামার তাঁর এখতিয়ারভুক্ত নয় এবং ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ঈশ্বরদী মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের ব্যবস্থাপক নূরে আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

খামারের সদ্য বদলি হওয়া ব্যবস্থাপক রেজাউল ইসলাম বলেন, চুরির ঘটনা সত্যি। তিনি কেরামত আলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পাবনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীপক কুমার সুপারিশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ঘটেনি। সুপারিশের কথা সত্য নয়।’

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, দুই মাস আগে সন্দেহবশত চারজনকে আটক করা হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন