ভিজিএফ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ভিজিএফ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈদের চাল নিয়ে ঈশ্বরদীতে নেতাদের টানাহেঁচড়া, ৪ হাজার দুস্থ পরিবার বঞ্চিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ও সাঁড়া ইউনিয়নে। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চালের কার্ড ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঈদের আগে ৪ হাজার ৩৪০টি অসহায় পরিবার সরকারি এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদে সাঁড়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৬৪০টি এবং সাহাপুর ইউনিয়নে ২ হাজার ৭০০টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণের কথা থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং ইউপি সদস্যদের মধ্যে কার্ডের অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির মূল অংশ ও বিদ্রোহী অংশের মধ্যে কার্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পাশাপাশি সংসদ সদস্য জামায়াত ঘরানার হওয়ায় তারাও কার্ডের দাবি জানায়। সব পক্ষই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কার্ড রেখে বিতরণের জেদ ধরায় পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে।

সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমলাক হোসেন বাবু বিশ্বাস বলেন, দলীয় লোকজন সব কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। একদিকে মেম্বাররা ছাড় দিতে নারাজ, অন্যদিকে বিএনপির একাধিক গ্রুপ ও জামায়াতও ভাগ চায়। এই রশি টানাটানির কারণেই চাল বিতরণ বন্ধ আছে।

একই কথা জানান সাঁড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক পক্ষ হুমকি দিয়েছে তাদের ভাগ না দিলে চাল বিতরণ করতে দেবে না। সংঘাত এড়াতেই আমরা বাধ্য হয়ে বিতরণ স্থগিত রেখেছি।

এই অচলাবস্থার জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীদের দায়ী করেছেন অনেকে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছে।

বর্তমানে বরাদ্দের চাল উপজেলা পরিষদের গুদামে পড়ে আছে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় উৎসবের আগে এই চাল বিতরণের আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, চেয়ারম্যানদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী পৌরসভায় দুস্থদের ভিজিএফ কার্ড ভাগাভাগি করল বিএনপি-জামায়াত


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার দুস্থ ও অভাবী মানুষের জন্য আসা সরকারি সহায়তার ভিজিএফ কার্ড বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। পৌরসভায় বর্তমানে কোনো জনপ্রতিনিধি না থাকায় ‘ঝামেলা’ এড়াতে এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই বণ্টন প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে রয়েছেন পৌরসভার সচিব মো. জহুরুল ইসলাম, যাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও আইনি জটিলতার অভিযোগ রয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে এলাকার ৪ হাজার ৬২৫টি দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার জন্য এই কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে পৌরসভার সম্মেলনকক্ষে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে দল দুটির নেতাদের মধ্যে কার্ডগুলো ভাগ করে দেওয়া হয়।

পৌর সচিব মো. জহুরুল ইসলামের মধ্যস্থতায় ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের প্রতিনিধি এবং শহর জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম আজম। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু। এছাড়া শহর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট ৪ হাজার ৬২৫টি কার্ডের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুস্থদের জন্য ৬২৫টি কার্ড সরকারিভাবে রাখা হয়। বাকি ৪ হাজার কার্ড বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য পক্ষের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২ হাজার, জামায়াতে ইসলামী ১ হাজার ২০০ এবং বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতারা পেয়েছেন ৮০০টি কার্ড।

এ বিষয়ে পৌর সচিব মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, সাধারণত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ওয়ার্ড পর্যায়ে দুস্থদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পৌরসভায় নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধি নেই। তাই বিতরণ নিয়ে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সেজন্য দুই দলের শীর্ষ নেতাদের ডেকে কার্ড ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁরাই এসব কার্ড বিতরণ করবেন।

তবে এই সচিবের বিরুদ্ধে এর মধ্যেই গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মো. জহুরুল ইসলাম এই পৌরসভায় এক যুগের বেশি সময় ধরে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে দরপত্র (টেন্ডার) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে ইজারা দেওয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৌরসভায় অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে।

পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম আজম বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কখনো বাড়াবাড়ি করে না। শান্তিপূর্ণ সমাধানের স্বার্থে কার্ডের সংখ্যা কম হলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি।’

শহর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, ‘নেতা জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে আমি বৈঠকে ছিলাম। পৌরসভার সিদ্ধান্ত আমরা ছাড় দিয়ে মেনে নিয়েছি।’ সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মকলেছুর রহমান বাবলু বলেন, কার্ড বিতরণের জন্য পৌরসভা থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে আলোচনার মাধ্যমেই তিন পক্ষের মধ্যে কার্ড ভাগ করা হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন