
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সাত বছর পর ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ঘোষিত কমিটিকে সুবিধাবাদীদের ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে বিপরীতে আজ রোববার পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন দলের বহিষ্কৃত নেতারা।
একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেন্দ্র করে শহরের একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তোরণ নির্মাণ নিয়ে হাতাহাতির উপক্রম হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় শহরের রেলওয়ে গেট এলাকায় ‘তৃণমূল বিএনপি’র ব্যানারে ৩১ সদস্যের এই পাল্টা কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপিতে ইসলাম হোসেন জুয়েলকে আহ্বায়ক ও আনোয়ার হোসেন জনিকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। আর উপজেলা কমিটিতে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক ও মো. সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে সদস্যসচিব করা হয়।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু (বর্তমানে বহিষ্কৃত) এ দুটি কমিটি অনুমোদন দেন। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট রাতের অন্ধকারে যে পকেট কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের বসানো হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তৃণমূলের অধিকার রক্ষায় এ কমিটি গঠন করা হলো।’
এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। শহরের আলহাজ্ব মোড়ে একই স্থানে দুই পক্ষ তোরণ নির্মাণ শুরু করলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ান কর্মীরা। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এক পক্ষ পোস্ট অফিস মোড়ে এবং অপর পক্ষ আলহাজ্ব মোড়ে তোরণ সরাতে সম্মত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, প্রশাসনিক পদক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করে উপজেলা এবং মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করে পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা দুই দফায় ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

