নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঘইল স্কুল এন্ড কলেজের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (সচিব) আমিন-উল আহসান কামাল। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "লক্ষ্য অর্জনের জন্য লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই।" শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঘইল স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি জাতীয় পতাকা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "আমি ডাক্তার হতে চাই, কিন্তু পড়াশোনা না করলে তা সম্ভব নয়। আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই, রুয়েটে ভর্তি হতে চাই, কিন্তু সেই মাত্রায় লেখাপড়া না করলে কখনোই তা সম্ভব হবে না। বাঘইলের মতো প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সম্ভব, যদি লক্ষ্য স্থির থাকে এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করা হয়।"
আমিন-উল আহসান কামাল অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনাদের ছেলে-মেয়েদের সময় দিন। অনেক সময় দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। দিনশেষে আমি আমার ছেলে-মেয়েদের খোঁজ রাখছি না, বাড়ি ফিরে তাদের সাথে কথা বলছি না। তাদের সাথে কথা বলুন, তাদের স্বপ্ন জানুন। আজ কোথায় গিয়েছিলে? তোমার বন্ধুরা কেমন লেখাপড়া করছে? তুমি কি হতে চাও? এই ছোট ছোট কথোপকথন দূরত্ব কমিয়ে আনে।"
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আমরা আলোকিত মানুষ চাই, আলোকিত সন্তান চাই। আপনারা ছাত্র-ছাত্রীদের মনে স্বপ্ন তৈরি করে দিন। অভিভাবকরা সেই স্বপ্নের দিকে তাদের ধাবিত করুন।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তনী লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) বীরমুক্তিযোদ্ধা এম.এ গনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভীতুমীর কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. জহুরা সুলতানা রনি,উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফ আলী খান মঞ্জু, বাঘইল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, সৌহার্দের সম্পাদক কবি জাফর সাদেক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিনথিয়া ইসলাম সিলভী প্রমুখ।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আমরা আলোকিত মানুষ চাই, আলোকিত সন্তান চাই। আপনারা ছাত্র-ছাত্রীদের মনে স্বপ্ন তৈরি করে দিন। অভিভাবকরা সেই স্বপ্নের দিকে তাদের ধাবিত করুন।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাঘইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তনী লে. কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) বীরমুক্তিযোদ্ধা এম.এ গনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভীতুমীর কলেজের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. জহুরা সুলতানা রনি,উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশরাফ আলী খান মঞ্জু, বাঘইল স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম, সৌহার্দের সম্পাদক কবি জাফর সাদেক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিনথিয়া ইসলাম সিলভী প্রমুখ।
দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান: স্মৃতিচারণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা খয়েরী রঙের গেঞ্জি পরিধান করে ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড পার্টি নিয়ে শোভাযাত্রা করেন। স্কুল প্রাঙ্গণে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে চারিদিক প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে। অনেকে পুরনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করে স্মৃতিচারণ করেন, আবার কেউ কেউ মোবাইলে সেলফি তুলে সেই মুহূর্তকে ধরে রাখেন।
প্লাটিনাম জুবলি উপলক্ষে এসএসসির বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, মধ্যাহ্নভোজ, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে যাদের অবদান তাদের মরণোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় দেশের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী আসিফ, আখি আলমগীর ও সোহেল মেহেদীর গান অনুষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
আয়োজক কমিটি আগত সবাইকে আপ্যায়ন, চিকিৎসা ও তদারকিসহ সব ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।



