ফলাফল বিপর্যয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফলাফল বিপর্যয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে এইচএসসি পরীক্ষায় চরম বিপর্যয়: ৭ কলেজে পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার আটটি কলেজের মধ্যে সাতটিতেই পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমন নিম্নমুখী ও হতাশাজনক ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মনিটরিংয়ের অভাব, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং শিক্ষকদের একটি অংশের কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্যকে এই ফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর আটটি কলেজের কোনোটিতেই আশানুরূপ ফল অর্জিত হয়নি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কমার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫-এর সংখ্যাও তলানিতে ঠেকেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ফলাফলে কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকা ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে এবার ৯৯২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৬০৪ জন পাস করলেও ৩৮৮ জন অকৃতকার্য হয়েছেন। এই প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২২ জন। অন্যদিকে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের ৪২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬০ জন পাস করায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ (কোনো জিপিএ-৫ নেই)। সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪৮৩ জন অংশ নিয়ে মাত্র ১৩৪ জন পাস করেছেন, যেখানে পাসের হার ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

এদিকে উপজেলার বাকি কলেজগুলোর ফলাফল আরও বেশি হতাশাজনক। পাকশী কলেজের ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ জন পাস করায় পাসের হার ২৫ শতাংশ, মুলাডুলি কলেজে ১৩৩ জনের মধ্যে ২২ জন পাস করায় পাসের হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং বাঁশেরবাদা ডিগ্রি কলেজের ১৬৮ জনের মধ্যে ৩১ জন পাস করায় পাসের হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ ছাড়া দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজে ৩২৫ জনের মধ্যে ৭০ জন পাস করায় পাসের হার ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের ৫৪ জনের মধ্যে ১৬ জন পাস করায় পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এই শেষোক্ত পাঁচটির কোনো প্রতিষ্ঠান থেকেই একজন শিক্ষার্থীও জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেননি। পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলও অত্যন্ত হতাশাজনক বলে জানা গেছে। গত ২ জুলাই থেকে ঈশ্বরদীর মোট পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এই পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ফল বিপর্যয়ের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কলেজ শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ নিয়মিত কলেজে আসে না। আবার অনেকে ক্লাসে উপস্থিত হলেও পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও আড্ডায় সময় কাটায়। তবে এর বিপরীত চিত্র তুলে ধরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষমুখী করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের একাংশের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। কিছু শিক্ষক মূল ক্লাসে পাঠদানের চেয়ে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোকে বেশি লাভজনক মনে করেন এবং কলেজের আশপাশে ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টার বা ব্যাচ গড়ে তুলে সেখানে বেশি সময় দেন। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষবিমুখ হয়ে পড়ায় সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও পরীক্ষার ফলাফলে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন