আদালত অবমাননার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এ সময় আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতেও নির্দেশ দেয় হয়।
তবে এ আদেশের তিন ঘণ্টা পরই আপিলের শর্তে তাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।কুমিল্লার সাবেক এই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছেন।
আদালতে বিচারক সোহেল রানার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। আর আদালত অবমাননার অভিযোগে এনে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী প্রণয় কান্তি রায়।
কারাদণ্ডের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী প্রণয় কান্তি রায় বলেন, ‘তিনি (বিচারক সোহেল) উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দাখিল করেছিলেন এবং আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। মাননীয় হাইকোর্ট বেঞ্চ তার নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণ না করে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।’
এদিকে জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘আপিলের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।’
মামলা থেকে জানা যায়, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে মামুন চৌধুরী ও রিয়া আক্তার দম্পতির বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটির কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে মামুন-রিয়া দম্পতির করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল দেন। একই সঙ্গে মামলাটির কার্যক্রম চার মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের এই স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও কুমিল্লার তৎকালীন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল রানা গত ১০ এপ্রিল মামলায় অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ গঠনকালে আদালতে মামুন উপস্থিত ছিলেন। রিয়া অনুপস্থিত থাকায় তাকে পলাতক ঘোষণা করেন আদালত।এ অবস্থায় উচ্চ আদালতে বিষয়টি জানিয়ে আবেদন করেন মামুন।
তার আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৪ আগস্ট হাইকোর্ট সোহেল রানাকে তলব করেন। উচ্চ আদালতের আদেশ উপেক্ষার বিষয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গত ২১ আগস্ট তাকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়। ধার্য তারিখে তিনি হাইকোর্টে হাজির হন। পরবর্তী সময়ে জবাব দাখিল করেন। তবে তার জবাবে সন্তোষ্ট হতে পারেননি হাইকোর্ট। পরে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। সেই রুলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন উচ্চ আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট বিচারক সোহেল রানা যে মামলায় অভিযাগ গঠন করেছিলেন সেটি প্রত্যাহার করা হয়। এছাড়া বিচারক সোহেল রানাকে বদলি করে আইনমন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

