নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৯৪ সালে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস পাওয়া তিন সহোদর ভাই কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
তারা হলেন, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান পলাশ এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, কারামুক্ত এই তিন ভাইসহ
অন্যান্য নেতাদের জন্য গণসংবর্ধনা আয়োজন করা হয়। বাবলু, শাহীন এবং পলাশের মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফেরার খবর ঈশ্বরদী শহরে ব্যাপক আনন্দ সৃষ্টি করেছে। মুক্তি পাওয়ার পর, মকলেছুর রহমান বাবলুর ছেলে মেহেদি হাসান শরৎ ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘ কারাবাসের পর অবশেষে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। সবাই দোয়া করবেন।’
মাহবুবুর রহমান পলাশের মেয়ে তাসনিম মাহবুব প্রাপ্তি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘এটি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা, একসঙ্গে তিন ভাইয়ের ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহর রহমতে, আজ আমার আব্বু মুক্তি পেয়েছেন।’।
এছাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, যিনি এই মামলার ফাঁসির আসামি ছিলেন, তিনি বলেন, ‘এই মুক্তি আমাদের দলীয় নেতাদের জন্য একটি বড় বিজয়। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছিল, আজ তা শেষ হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে আমরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে দেশের গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাব।’
ঈশ্বরদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘তিন ভাইয়ের মুক্তির মাধ্যমে আমরা সবাই খুব খুশি। এটা শুধু তাদের পরিবারই নয়, পুরো ঈশ্বরদী শহরের জন্য একটি আনন্দের সংবাদ। আজ এই স্বাধীনতা, এই মুক্তি তাদের প্রাপ্য ছিল। আজকের দিনটি আমাদের জন্য গর্বের।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম সেন্টু বলেন, ‘এই মুক্তি শুধু তাদের নয়, পুরো দলের একটি বড় বিজয়। আমরা বিশ্বাস করি যে, এই ঘটনা শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। তিন ভাইয়ের মুক্তির ফলে তাদের পরিবারের কাছে আলোর ঝলকানি এসেছে।’
এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহবায়ক ও হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “তারা দীর্ঘ দিন ধরে অন্যায়ের শিকার হয়েছেন। আজ তাদের মুক্তি আমাদের আন্দোলনের নতুন শক্তি এনে দেবে। তাদের মুক্তির জন্য আমরা একসাথে কাজ করে যাব।”
মামলা সংক্ষিপ্ত বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খুলনা থেকে ট্রেনে ঈশ্বরদী হয়ে সৈয়দপুরে দলীয় কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। তাঁকে বহনকারী ট্রেনটি ঈশ্বরদী স্টেশনে ঢোকার মুহূর্তে ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। পরে ঈশ্বরদী রেলওয়ে (জিআরপি) থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের জন্য দিলে ৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে নতুন করে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা–কর্মীদের আসামি করা হয়।
২০১৯ সালের ৩ জুলাই পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এই মামলায় ৯ জনের ফাঁসির আদেশ দেন। এ ছাড়া ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজার আসামিদের ৩ লাখ টাকা এবং ১০ বছরের সাজার আসামিদের ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে, আসামিরা আপিল করেন। সেই ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের খালাস দেন হাইকোর্ট।

