ঈশ্বরদীতে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত, মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘গ্রামীণ সব পেশার নারীর অবদানের স্বীকৃতি ও অধিকার সুরক্ষা করো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঈশ্বরদীতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হয়েছে। নয়াকৃষি আন্দোলনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গোয়ালবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবীণ নারী কৃষক মোছা. সামিদা বেগম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুবীর কুমার পাল, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন ও সাপ্তাহিক ঈশ্বরদীর সম্পাদক সেলিম সরদার। এ ছাড়া উবিনীগের হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা শাহ আলম, উবিনীগের আঞ্চলিক সমন্বয়ক আজমিরা খাতুন, নারী মৎস্যজীবী রোমেলা বেগম, বীজ সংগ্রাহক নীহার বানু, মৃৎশিল্পী লক্ষ্মী রানী পাল ও কুটিরশিল্পী শিখা রানী দেব অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ঈশ্বরদীতে প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। গ্রামীণ নারীরা কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরুষের সমান কিংবা বেশি শ্রম দিলেও সবসময় অবমূল্যায়িত ও মজুরি বৈষম্যের শিকার হন। বর্তমানে পুরুষ কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা হলেও নারী শ্রমিকেরা পাচ্ছেন মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কাগজে-কলমে সমঅধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তবে ঈশ্বরদীর প্রান্তিক পর্যায়ে এই বিভাজন তীব্র। নারীদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হলে সর্বাগ্রে এই মজুরি বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, হাইব্রিড ফসলের প্রভাবে যখন অনেক দেশীয় বীজ হারিয়ে যেতে বসেছে, তখন গ্রামীণ নারীরাই ঐতিহ্যবাহী বীজ সংরক্ষণ করে কৃষিব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। নয়াকৃষি আন্দোলনের পরামর্শে কেমিক্যালমুক্ত জৈব সার ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নারীদের এই অগ্রণী ভূমিকাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন