নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েকের) জিসিভি সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাগজপত্র ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।
রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বায়েকের পাইওনিয়ার বেইজে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশ্যে আসে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দুটি কক্ষে মেরামতের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুন আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডের পর পাইওনিয়ার বেইজসহ বায়েকের আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পাইওনিয়ার বেইজ রূপপুর প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের অংশ নয়; এটি প্রকল্পের একটি সহায়ক অংশ। ফলে অগ্নিকাণ্ডের কারণে মূল প্রকল্পের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং সার্বিক কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।
ওই সূত্র আরও জানায়, মূল প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে পাইওনিয়ার বেইজে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা প্রকল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন বড় কিছু নয়। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অফিসের দুটি কক্ষে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
তবে গভীর রাতে পাইওনিয়ার বেইজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি কোনো নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল সিস্টেমে ফাইলের ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিটি ফাইল অক্ষত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রূপপুর প্রকল্পের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন।
পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্প এলাকায় ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রূপপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু হাশেম বলেন, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। যে দুটি কক্ষে আগুন লেগেছিল, সেগুলো মূল প্রকল্পের রেডিয়েশন এরিয়ার বাইরে অবস্থিত। ভবনটি মূলত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরও জানান, ওই ভবনে প্রায় ২০টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বায়েকের অফিসের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

