নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে দিন দিন বেড়েই চলেছে লোডশেডিং। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
গ্রামাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। বিদ্যুৎ আসার ৪০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক, শিক্ষার্থী ও রোগীরা। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে অনেকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এই সংকটের প্রভাব পড়েছে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন মিল-কারখানাতেও। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বিশেষ করে মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শ্রমিকদের কাজেও এর প্রভাব পড়ছে। এতে খেটে খাওয়া মানুষের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাস্থ্যসেবাতেও ভোগান্তি বাড়ছে। ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এতে অসুস্থ রোগীদের শারীরিক কষ্ট বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তাঁদের স্বজনেরা।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রথিন্দ্র নাথ বর্মণ জানান, লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ জ্বালানি সংকট। সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাঁদের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ১২ মেগাওয়াট।

