নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে লিচু সংরক্ষণে আধুনিক ও স্বল্প ব্যয়ের কার্যকর প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সরকার গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কৃষিপণ্যের অপচয় কমাতে দেশের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় সমাধান উদ্ভাবনের বিকল্প নেই।
শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার মিরকামারী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠ–এ আয়োজিত ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কৃষকেরা নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসছেন। কৃষির সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। শিশুদের মধ্যেও কৃষির প্রতি যে আগ্রহ ও ভালোবাসা দেখা যায়, তা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
লিচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণে দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একসময় পেঁয়াজ দীর্ঘদিন মজুত রাখা কঠিন ছিল। বর্তমানে স্বল্প ব্যয়ে ব্লোয়ার ও এক্সজস্ট ফ্যান ব্যবহার করে কয়েক মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। একই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা লিচু, আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও গড়ে তোলা প্রয়োজন।
লিচুর পচন এবং ফলনহানির কারণ খুঁজে বের করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, আবহাওয়াগত পরিবর্তন কিংবা কীটনাশক ব্যবহারে কোনো ত্রুটি—যে কারণেই সমস্যা হোক না কেন, তা নির্ণয় করতে হবে। একটি লিচুও যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে কার্যকর ও টেকসই সমাধান বের করতে হবে।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে বছরে প্রায় চার কোটি টন চাল উৎপাদিত হচ্ছে। পেঁয়াজ উৎপাদনেও বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। কৃষি খাতে উৎপাদন আরও ১০ শতাংশ বাড়ানো গেলে অনেক কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিকের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় স্থানীয় কৃষিপণ্য, মৌসুমি ফল, কৃষি প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে।



